Thursday, April 3, 2025
Homeসম্পাদকীয়উপ-সম্পাদকীয়দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বরুপ উন্মোচন!

দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বরুপ উন্মোচন!

আবু নাসের অনীক

৫ আগষ্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতির পট পরিবর্তন ঘটে ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের ভেতর দিয়ে। অভ্যূত্থানটিতে আওয়ামী লীগ আর মহাজোটের শরীক ব্যতীত সকল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করে।

অভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে উল্লেখিত সকলের অংশগ্রহণ সত্বেও স্টেকহোল্ডার এর মানচিত্র বদলে গেছে। গোটা মানচিত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দখলে চলে গেলো।

যার মূল প্রভাবক শক্তি হয়ে উঠল ধর্মীয় উগ্রবাদ; এবং এই অপশক্তিকে সমর্থন দিলো এখনকার এনসিপি ও সরকার।

জুলাই গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে এদের টার্গেট হয়ে দাঁড়ালো বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি। কারণ উল্লেখিত রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করলেই তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

৭১ পরবর্তী ঘটনার হুবুহু প্রতিচ্ছবি।

শেখ মুজিব তাঁর নিরঙ্কুশ একচ্ছত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য বামপন্থীদের দমনের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।

এবার মৌলবাদীগোষ্ঠী সেটাই করছে। যাতে কোথাও কোন প্রতিবাদ তৈরি না হতে পারে তাদের স্বেচ্ছাচারিতার।

যাতে জামায়াতের আমির বলতে পারেন,‘স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর কেটে গেছে। বহুবার ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছিলাম তা আজ পূরণ হয়নি’ (১৬ মার্চ ২০২৫-বার্তা বাজার)।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী; পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সামরিক সহযোগিতাকারী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী বলছে তারা দেশকে স্বাধীন করেছে।

এই বক্তব্যের বিরোধিতা করার একমাত্র অংশ এই মুহর্তে বামপন্থী রাজনৈতিক দল বা আমাদের মতো স্বাধীন চিন্তার মানুষ। তাদের দমন করা এখন এদের প্রধান টার্গেট।

তথাকথিত বামপন্থী দল যারা আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের অংশীদার ছিলো, তারা তো বাংলাদেশের বামপন্থীর অথরিটি না। অথবা সিপিবিকে টার্গেটে নিয়ে অন্যান্য সকল বামপন্থীকে তো খারিজ করে দেওয়া যায় না।

সিপিবি’র রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে; কিন্তু সেটাকে কোনভাবেই ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে চিহ্নিত করার কোন সুযোগ নাই। অন্তত এই গত ১৫ বছরে।

কারণ ব্যবহারিক রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোটের বাইরে সকল বামপন্থী শক্তিই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম জারি রেখেছিলো।

সেই সংগ্রাম জারী রাখতে যেয়ে হামলা-মামলা-গুম সবকিছুরই তারা শিকার হয়েছেন।

আজকে বামপন্থীদেরকে বলা হচ্ছে ভারতের দালাল। অথচ যারা বলছে এই গান্ডুরা (শিবিরের বি টিম-ইনকিলাব মঞ্চ,তাদের আশ্রিত অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী বুদ্ধিজীবী শাবক) জানেই না বামপন্থীদের ভারত সম্পর্কে মূল্যায়ন ‘ভারত একটি সম্প্রসারণবাদী/আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র।’

সেই অবস্থান থেকে দেশের বামপন্থী দলগুলি বরাবরই ভারতীয় আধিপত্যবাদী আচরণের বিরোধিতা করেছে, আগামীতেও করবে।

দেশের বামপন্থী ও প্রগতিশীল বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্লাটফর্ম এর পক্ষ থেকে দেশের গ্যাসসম্পদ রক্ষা, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা, ভয়াবহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, উন্মুক্ত খনির ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে রক্ষা, সুন্দরবন রক্ষা, বিদ্যুৎ খাতের পুনর্বিন্যাস ইত্যাদির জন্য লংমার্চ-রোডমার্চ নামে অনেক কর্মসূচি হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকা-বিবিয়ানা (২০০২), ঢাকা-চট্টগ্রাম বন্দর (২০০২), ঢাকা-মোংলা (২০০৩), ঢাকা-টেংরাটিলা (২০০৫), ঢাকা-ফুলবাড়ী (২০০৬), ঢাকা-বড়পুকুরিয়া-ফুলবাড়ী (২০১০), ঢাকা-চট্টগ্রাম (২০১১), ঢাকা-সুনেত্রা (২০১১), ঢাকা-সুন্দরবন (২০১৩), ঢাকা-সুন্দরবন (২০১৬)’ (৩১ জুলাই ২০১৬- প্রথম আলো)।

তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে টাটার সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধী নিজামী। বামপন্থীরা সেই উদ্যোগের বিরোধিতা করে সেটি বাতিল করতে বাধ্য করেছিলো। কোথায় ছিলো তখন ভারত বিরোধিতা?

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

‘এ সময় তারা ‘ব্যাক মোদী, গো ব্যাক ইন্ডিয়া’, ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’, ‘কসাইদের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও’, ‘লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘তিস্তার পানির ন্যায্য হিসাব, দিতে হবে দিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন’(১৯ মার্চ ২০২১-ঢাকা পোস্ট)।

‘টিএসসিতে সমাবেশ করার সময় ছাত্রলীগ তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আল কাদেরি জয় বিবিসিকে বলেন,‘ভারত সাম্রাজ্যবাদী দেশ যারা বাংলাদেশের নদীসহ অন্য নানা বিষয়ে দখলদারিত্ব চালাচ্ছে এবং ভারতের গুজরাটসহ বিভিন্ন দাঙ্গায় মোদীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

যার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আদর্শের সাথে মোদীর সফরের বিষয়টি সাংঘর্ষিক”(২৪ মার্চ ২০২১-বিবিসি)। তো বামপন্থীরা ভারতের দালাল!!

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের গোটা ১৫ বছরে বাম গণতান্ত্রিক জোট ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম জারি রেখেছিলো তার সামর্থ অনুযায়ি।

এই সমস্ত সংগ্রামকে অস্বীকার করে বামপন্থীদেরকে ফ্যাসিস্টের দালাল বলার ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে যুদ্ধাপরাধী দল,তাদের বি-টিম ইনকিলাব মঞ্চ আর এনসিপি’র হাসনাত-সার্জিস।

‘সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচনী প্রহসন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষ দেখেছে।

মানুষ বুঝেছে, এই সরকারের পদত্যাগ ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন এ দেশের মাটিতে সম্ভব নয়।

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং যশোরে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের পদযাত্রায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।’(২২ জুলাই ২০২৩-সমকাল)।

গত ১৫ বছরে যেসকল ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন হয়েছে প্রত্যেকটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বামপন্থীরা। ছাত্রলীগের হামলা-আক্রমণ মোকাবেলা করেছে।

আপনারা কোথায় ছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’? ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে নিশ্চয়ই। আজকে বিরাট ইনকিলাবওয়ালা হইছেন!

ছাত্রলীগের মানিকের ধর্ষণের প্রতিবাদে ১৯৯৮ সালের ১৯ আগস্ট জাবি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের প্রতিবাদ করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র ঐক্য গঠন করে (যেটি গঠনে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনসমূহ)।

দেশের আলোচিত ফেনীর নুসরাত, কুমিল্লার তনু ধর্ষণ- হত্যা, মুনিয়ার ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড, নোয়াখালিতে গৃহবধূকে ধর্ষণ, সিলেটে এমসি কলেজে তরুণী, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূ ধর্ষণ প্রতিটা ঘটনাতে বিচারের দাবীতে আন্দোলন গড়ে তুলেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের জোট। সেই আন্দোলনের একটিতেও আজকের কোন কুতুবকে পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা সরকারের গত ১৫ বছরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করেছে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তি। তারমধ্যেও শতকরা ৮০ শতাংশ বাম মতাদর্শের মানুষ!

এমনকি শাপলা চত্বরের ঘটনায় প্রথম প্রতিবাদ জানায় তাও বামপন্থীরা। শাপলা চত্বর থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা না করে হামলা করেছিলো সিপিবির অফিসে।

যখন বামপন্থীরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লড়েছে তখন তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’ মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদেরকে ব্যবহার করে ক্ষমতার দেনদরবার করেছে হাসিনার সাথে। হাসিনাকে সম্বর্ধনা দিয়ে ‘কওমী মাতা’ উপাধী দিয়েছে।

লজ্জা করেনি শত শত ছাত্রদেরকে যিনি হত্যা করেছে তাদের লাশ নিয়ে তার সাথে বাণিজ্য করতে! এখন আসছেন বিরাট শাপলা দরদী হয়ে।

যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী কি করেছে আওয়ামী লীগের সাথে? ১০ জুন ২০২৩ জামায়াতকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার প্রকাশ্যে সভা করার অনুমতি দিয়েছিলো।

জামায়াত যেখানে সমাবেশ করেছিলো সেই জায়গায় প্রায় ১ মাস পূর্ব থেকে তৎকালীন বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) একটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল ১০ জুন তারিখ নির্ধারণ করে, পুলিশ প্রশাসন এক দিনের নোটিশে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে জামায়াতকে জায়গা করে দিয়েছিলো সমাবেশ করার জন্য। কেন এত দরদ দেখাইছিলো?

সেইসময় আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের একজন আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন,‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে’ জামায়াতে ইসলামীকে ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা (জামায়াত) রাজনৈতিক দল, হাই কোর্টের রায় ছিল সংবিধানের সঙ্গে তাদের গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক, গ্রনহণযোগ্য না।

এই প্রেক্ষিতেও তাদের তো অনেক জনগণের সমর্থন আছে। এই পরিস্থিতির আলোকে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। আপনারা একটু অপেক্ষা করেন, আরও দেখবেন কী হয়?” (১২ জুন ২০২৩- যুগান্তর)।

২০২৪ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছিলেন,‘রাজনীতির মাঠে কথা আছে, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে বিভিন্ন নামে কিছু সিট (আসন) দেবে (৫ জুন ২০২৩- সমকাল)।

এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াত অংশ নিয়েছিল পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য জামায়াতের সমর্থন লাভের আশায় গোলাম আজমের সাথে সাক্ষাত করে। সমর্থন আদায় এবং জামায়াতকে তাদের পক্ষে আনার জন্য আওয়ামী লীগ প্রচেষ্টা চালায়।

১৯৯৫-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে আন্দোলন করেছিল,জামায়াত ছিলো সেই আন্দোলনের যুগপৎ অংশীদার।

আর ‘শাহবাগ’ তো সৃষ্টিই হয়েছিলো আওয়ামী লীগের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আপোস এর বিরোধিতা করে। যা পরে আওয়ামী লীগ ক্যাপিটালাইজ করে।

গণঅভ্যূত্থানের পরে তো দেখা গেলো শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে আরামে দিন কাটাইছে ‘নৌকা’..নৌকা শ্লোগান দিয়ে নেচে গেয়ে-সেল্ফি তুলে।

আর যারা ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছে ছাত্রলীগ হয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এখন আর সেই আঁড়ালের প্রয়োজন তাদের হচ্ছে না, আড়াল ছাড়াই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এটাই দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বরুপ!

বামপন্থীরা তখনও লড়েছে, ২৪ এর গণঅভ্যূত্থানে সাহসকিতার সাথে লড়াই করেছে; আগামীতেও এই লড়াই জারী থাকবে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের রাজ কায়েমের লক্ষ্যে।

লেখক

এই বিভাগের আরো সংবাদ

আলোচিত