সত্যপাঠ ডেস্ক
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের (ইআরসি) বেশ কিছু সুপারিশের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১৮ মার্চ ২০২৪) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে এই চিঠিটি পাঠানো হয়।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইআরসির ৯-১০টি সুপারিশের বিষয়ে ইসি ভিন্নমত পোষণ করেছে। তাদের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ইসির স্বাধীনতা খর্ব হবে।
চিঠিতে ইসির প্রধান আপত্তিগুলো হলো:
- সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে ইআরসি একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। ইসি মনে করে, এর প্রয়োজন নেই। তারা ভোটার সংখ্যা, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বিবেচনা করে আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে চায়।
- ইআরসি নির্বাচনের ফলাফল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সার্টিফাই করার সুপারিশ করেছে। ইসি মনে করে, রিটার্নিং অফিসার ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে তো সেটি প্রকাশ করবেন না। ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেই তা সার্টিফাই করা হয়ে যায়।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ইসির কাছে রাখার বিষয়ে ইসি তাদের আগের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা মনে করে, ২০০৭ সাল থেকে এনআইডি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা তাদের রয়েছে। তাই, এই সেবা ইসির কাছেই থাকা উচিত।
- নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা ও নির্বাচন কমিশনারদের শাস্তির বিষয়ে ইআরসির সুপারিশের সাথেও ইসি ভিন্নমত পোষণ করেছে। ইসি সচিব বলেন, “ইসির শাস্তি ব্যবস্থা তো আছেই। শর্ত ভঙ্গ করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা অন্যান্য আইন পরিবর্তনের এটা কতটুকু বাস্তবসম্মত।” তিনি আরও বলেন, “একাডেমিক দিক থেকে বিষয়টাকে যদি বলি, চাকরি শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পর আপনি বললেন, আমি ওই নির্বাচনে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তাহলে পাঁচ বছর পর আজ কোর্টে দৌড়াতে হবে এটার জেরে ঘানি টানার জন্য। দিস ইজ রেশনাল, এটা যৌক্তিক কি না। আমি ইমিডিয়েট শর্ত ভঙ্গ করেছি, এটা এখনই বলেন।”
ইসি সচিব আরও বলেন, “ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রিয়াজ স্যারকে চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে মতামত দেওয়ার কারণই হচ্ছে ইসির ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। খর্ব না হলে তো পাঠাতাম না। কমিশনের ভিন্নমত প্রকাশ করার সুযোগ আছে, সেখানে মতামত দিয়েছি।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যদি নির্বাচন শেষ হওয়ার ৫ বছর, ১০ বছর পর নির্বাচন কমিশনারদের আদালতে দৌড়াতে হয়, এটি কি যৌক্তিক হবে?” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে জয়ী হবেন একজন, বাকিরা সংক্ষুব্ধ হয়ে যেকোনো অভিযোগই করতে পারেন।”