Thursday, April 3, 2025
Homeআঞ্চলিকবাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি যশোর শাখা , অর্থ উপার্জনের নামে...

বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি যশোর শাখা , অর্থ উপার্জনের নামে খড়গ চাপানোর বিরুদ্ধে খুচরা ব্যবসায়ীরা

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি যশোর জেলা শাখা নামের ব্যানারে খোদ সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিভিন্ন খড়গ সমিতির আওতাধীন খুচরা ব্যবসায়ীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিগত কয়েক যুগ ধরে এই সমিতির আওতাধীন খুচরা দোকান্দারদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে আদায়কৃত অর্থের কোন হদিছ মিলেনি বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি গত ১২ মার্চ সভাপতি স্বাক্ষরিত নতুন খড়গ চাপানোর নোটিশ পেয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রিক আশপাশের শতশত দোকান্দার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা সভাপতির এহেন কর্মকান্ড হতভাগ হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে নতুন এই নোটিশ প্রত্যাহার জানিয়েছে।

সমিতির অর্ন্তভূক্ত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ও তার আশপাশে অবস্থিত খুচরা ঔষধ বিক্রেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি যশোর জেলা শাখার বর্তমান সভাপতি এ.এম জামাল উদ্দিন বিলু নতুন করে কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব নিয়ে আসার পর নতুন করে খুচরা ব্যবসায়ীদের উপর খড়গ চাপানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

যে কৌশলে সমিতির ব্যানারে খুচরা ঔষধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় তিনি তাই শুরু করেছেন। গত ১২ মার্চ তার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে উল্লেখ করে জেলায় সমিতির আওতাধীন খুচরা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রন ও বাস্তবায়ন-এর নীতিমালা প্রনয়ন করবেন। যে নীতি মালা আগামী ১ এপিল থেকে কার্যকর হবে। তার তৈরী নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করেন, বি.সি.ডি. এস যশোর-শাখার আওতাভূক্ত সকল ঔষধ ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্যে ঔষধ বিক্রয় নীতিমালার আওতাধীন।

সকল ঔষধ ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে ঔষধের নতুন/ প্রচলিত মূল্য তালিকা সংগ্রহ করবেন/অবগত থাকবেন। সমিতির আওতাভ’ক্ত ব্যবসায়ীগন নিয়ম ভঙ্গ করলে ১ম বার ১হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করবেন। ২য় বার একই দোকান নিয়ম ভঙ্গ করলে ৩ঘন্টা দোকান বন্ধ থাববে এবং ৩য় বার একদিন বন্ধ থাকবে। এই নিয়ম প্রতি এক মাসের জন্য বিবেচ্য হবে। সেনেটারী প্যাড, জন্ম নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত ঔষধ, ভ্যাটেনারী, কনজুমার গুডস্ খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রনেরন আওতামুক্ত থাববে। সর্জিক্যাল আইটেম পাইকারী ক্রয় মূল্যের উপর ১৫% লভ্যাংশ সংযুক্ত করে বিক্রয় করবেন। কোন অবস্থাতে ১৫% লভ্যাংশের কম বা বেশী মূল্যে বিক্রয় করা যাবে না।

মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ নিশ্চিত হয়ে ক্রেতার চাহিদানুযায়ী যে কোন প্রেসক্রিপশন, সাধারণ স্লীপ ও মৌখিকভাবে চাওয়া ঔষধই সরবরাহ করবেন। কোন প্রকারেনই ক্রেতার অনুমতি ব্যতীত ঔষধ কম দেওয়া বা পরিবর্তন করা যাবে না। করলে ১হাজার টাকা জরিমানা হবে। ঔষধ ব্যবসায়ী/দোকান্দার নিশ্চিত না হয়ে পাইকারী মূল্যে ঔষধ বিক্রয় করবেন না। উপজেলা বা জেলা শহরে ফার্মেসী থাকলে দোকানের ড্রাগ লাইসেন্সের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। পাইকারী ব্যবসায়ীগন খুচরা ঔষধ বিক্রয় করতে পারবেন কিন্তু কোন অবস্থাতেই সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্যের কম মূল্যে ঔষধ বিক্রয় করতে পারবে না।

এম.আর.পি নীতিমালা বাস্তবায়নের স্বার্থে সরকার নির্ধারিত খুচরা মুল্য নিয়ন্ত্রন ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটি কর্তৃক ধার্যকৃত মাসোহারা প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রদান করতে হবে। ঔষধ বিক্রির সময় ক্রেতা চাহিলে ক্যাশমেমো প্রদান করুন। এম.আর.পি, পরিদর্শনগনের সাথে স্বদআচারন করবেন। কোন এম.আর.পি পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সমিতির অফিসে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আমদানী, নিধিদ্ধ, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন অথবা যে কোন অবৈধ ঔষধ ক্রয়/ বিক্রয় থেকে বিরত থাকুন। যে সমস্ত ইউনানী, আয়ূর্বেদীক ঔষধ প্রেসক্রিপশনে বিক্রয় করা হয় সেগুলো নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করতে হবে।

ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ঔষধ ক্রয়/বিক্রয় সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভঙ্গকারীর দ্বায় দায়িত্ব সমিতি বহন করবে না। যে কোন কোম্পানীর সেফট্রিয়াক্স্রোন-৫০০গ্রাম, ১গ্রাম ও ২ গ্রাম এম.আর.পি.মূল্য হতে ১০% কম মূল্যে বিক্রয় করতে পারবে। যে কোন কোম্পানীর মেরোপেনাম-৫০০ গ্রাম ৬০০ টাকা, ১ গ্রাম ১০০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হলো যা বিক্রয় করতে পারবে। সংবেদনশীল জাতীয় কোন প্রকার ঔষধ রেজিঃ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন অবস্থাতেই বিক্রয় করা যাবে না, প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রয় করলে আইনগত কোন সমস্যা হলে সমিতি কোনরুপ দ্বায়ভার গ্রহন করবে না।

সভাপতি স্বাক্ষরিত ১৭টি নিয়মের খড়গ পেয়ে খুচরা ঔষধ ব্যবসায়ীদের অধিকাংশ ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারা আরো অভিযোগ করেন, সমিতির নতুন সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ৫শ’ টাকা ও প্রতিবছর জুলাই মাসে ২৫০ টাকা দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে বাধ্যতা মূলক রয়েছেন। বিগত কয়েকযুগ এই সমিতির আওতাধীন সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে উপার্জিত অর্থ কি করা হয় এর কোন হদিস মিলছেনা। নতুন খড়গ চাপানোর প্রতিবাদে খুচরা ঔষধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন এ যাবত সমিতির ব্যানারে যে অর্থ আদায় করা হয়েছে সে অর্থ সমিতির কোন খাতে লাগানো হয়েছে। ইতিপূর্বে এ, এম, জামাল উদ্দিন বিলু সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন। সেই সময় তার ক্ষমতার জোরে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনি।

গত ৫ আগষ্টের পর সমিতি আগের মতো কুক্ষিগত করতে তিনি ঢাকা থেকে অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পকেট কমিটি গঠন করে আবার পূর্বের ন্যায় ব্যবসায়ীদের উপর খড়গ চাপানোর পথ বেছে নিয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। অপর একটি সূত্র বলেছেন, এই সমিতির এক সময় শহিদ চাকলাদার পান্নু জামাণ ফার্মেসীর মালিক দায়িত্ব পালনের সুযোগে সমিতির ১০লাখ টাকা তছরুপ করে। যে হিসাব এখনও উঠেনি। তাই অবিলম্বে সমিতির কার্যক্রম তরান্বিত করতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন দাবি করেছেন ঔষধ ব্যবসায়ীরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

আলোচিত