ডুমুরিয়া এক ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে থানায় অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানোর হুমকি

0
20

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের ১৮ মাইল রাবেয়া ক্লিনিকে রহিম নামের এক রোগীকে ভুল অপারেশন করায় থানায় অভিযোগ দায়ের পর ভুক্তভোগীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে আসছে ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার হাসান। এমনই লিখিত অভিযোগ করেছেন ডুমুরিয়া থানায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হুগলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম শেখের পেটের যন্ত্রণা দেখা দিলে রাবেয়া ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁর পেটে টিউমার রয়েছে এবং দু্রুত অপারেশন করতে হবে তানা হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে বলে জানান ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার হাসান। কথিত ডাক্তার হাসান, সেখানে ভর্তি করান ১৮ হাজার টাকা চুক্তিতে তার পেটে অপারেশন করিয়ে সুস্থ করার জন্য, অপারেশন করার পরে রোগী সুস্থ্য না হয়ে দিন দিন আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত ৮/১০/২২ তারিখ রাবেয়া ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র নিয়ে খুলনা তৃপ্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় ,তখন তৃপ্তি ক্লিনিকের ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা মাধ্যমে জানান রোগীকে ভুল অপারেশন করা হয়েছে, আবার দ্রুত অপারেশন করতে হবে তা না হলে রোগী মারা যেতে পারে। তখন রোগীকে বাঁচানোর জন্য ৬৫ হাজার টাকা চুক্তিতে পুনরায় অপারেশন করতে হয় , এখন পর্যন্ত বিভিন্ন খরচ বাবদ দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে।

রহিম শেখের পুত্র শামীম শেখের পরিবার সুত্রে জানা যায় , আমার বাবার ভুল অপারেশনের কারণে আমার সহায় সম্বল বিক্রি করে আমার পিতাকে তৃপ্তি ক্লিনিকে পুনরায় অপারেশন করাই অন্য ক্লিনিকে নেওয়ার অপরাধে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অনুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করি তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাবেয়া ক্লিনিকের মালিক হাসান আমাকে মিথ্যা মামলা দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এই বিষয়ে রাবেয়া ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার হাসানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, উপজেলার হুগলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম আমার প্রতিবেশী আমাদের একই গ্রামে বাড়ি ,তিনি আমার ক্লিনিকে অপারেশনের জন্য ভর্তি হয়েছিলো আমরা তাকে অপারেশন করিয়েছি তাকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছি ,এর পরের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার।

বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কনি মিয়া আমার এখানে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এসেছিল তার মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমি উল্লেখিত বিষয়টি জানানোর পর ওসি শেখ কনি মিয়া বলেন, রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আপনি একটা অভিযোগ করেন, শামীমকে মিথ্যা মামলা দিয়ে উঠিয়ে আনা হবে , কিন্তু আমি তা করতে নিষেধ করি ,তারা আমার ও আমার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।

ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কনি মিয়ার কাছে মিথ্যা মামলা দিয়ে উঠিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়টি মিথ্যা ভিত্তিহীন বলে জানান , তিনি বলেন ভুল অপারেশন করার বিষয়ে রহিম শেখের পুত্র শামীম শেখ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।