কাউন্সিলর নয়নের উপর সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ মামলা নেয়নি

0
30

বিশেষ প্রতিনিধি

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যশোর শহরের টিবি ক্লিনিকের সামনে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের (২২৭) সদস্য সাহেদ হোসেন নয়ন ওরফে হিটার নয়ন সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে। এ সময় তার সাথে থাকা শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য মাসুদ ও অমিত আহত হয়। আহতদেরকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নয়নের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হলে মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয়নি এমন অভিযোগ বলেছে নয়নের আত্মীয়স্বজন।

আহত কাউন্সিলর সাহেদ হোসেন নয়নের পিতা শংকরপুর ইসহাক সড়কের বাসিন্দা ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে নয়ন তার সহযোগি মাসুদ, অমিত, ও রাজুকে নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে শংকরপুরে তার কাউন্সিলর অফিসে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে টিবি ক্লিনিকের সামনে পৌছুলে পুলিশের উপস্থিতিতে যশোরের বহুল আলোচিত তন্নির স্বামী মুজিবুর রহমানের ছেলে রনির নেতৃত্বে টিবি ক্লিনিক এলাকার মাদক স¤্রাট মৃত আঞ্জুর ছেলে শরীফুল ইসলাম, মৃত তরিকুল ইসলামের ছেলে রুবেল ওরফে কপাল কাটা রুবেল মৃত মুজিবর রহমানের ছেলে রুবেল রবির ছেলে শুভ ওরফে পাকের আলী ইমান আলীর ছেলে সবুজ হোসেন, জয়নালের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, নজরুলের ছেলে জসিম, জয়নালের ছেলে শহীদুল ও রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিব তাদের মাইক্রো বাসের গতিরোধ করে। এরপর মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে নয়নের উপর হামলা চালায়। এ সময় নয়নের সাথে থাকা মাসুদ, অমিত ও রাজু ঠেকাতে গেলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত মাসুদকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। নয়নের উপর হামলার সময় সেখানে কোতয়ালি পুলিশ উপস্থিত ছিলো।

হামলার কারণ হিসেবে নয়নের পক্ষ থেকে বলা হয় নির্বাচনের তন্নির স্বামী রনি হেরে যাওয়ার পর থেকে নয়নের সাথে শত্রুতা শুরু হয়। এরপর নয়নকে দেখে নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। এর জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে। নয়নের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর দুইটার দিকে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের সামনে যশোর খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। আধাঘন্টা পর আড়াইটার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। নয়নের উপর হামলার খবর শুনে দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসাইন ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকারসহ পুলিশের একটি টিম সেখানে উপস্থিত হন। তারা নয়নসহ উপস্থিত শ্রমিক নেতাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য বলেন।

এদিকে কাউন্সিলর নয়নের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় কোতয়ালি থানায় হামলাকারিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে ওসি তাজুল ইাসলাম তা গ্রহন করেনি বলে নয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। শ্রমিক সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানান, একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চায়।

এবিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলামের মোবাইলে দুইবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। নয়নের উপর হামলার ঘটনার পর থেকে টিবি ক্লিনিক এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।