প্রধান শিক্ষকের কর্মকান্ড : ভুয়া প্রবেশপত্র দেওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেনি এক শিক্ষার্থী, ক্ষোভে আত্মহত্যার চেষ্টা

0
32

মুক্ত খান, রুপদিয়া

যশোরে সদর উপজেলা বহু বিতর্কিত দিয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভুলে চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এক পরিক্ষার্থী। এতে ওই পরিক্ষার্থী ক্ষোভে-হতাশায় আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ওই পরীক্ষার্থীর নাম ফাতেমা খাতুন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের ভুলে তাদের প্রব্শেপত্র না আসায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এই এক পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থী যশোর সদর উপজেলার দিয়াপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান মোল্লার মেয়ে ফাতেমা খাতুন। গত বছর এক সাবজেক্টে ফেল করায় এবার এক সাবজেক্ট পরিক্ষা দেওয়ার জন্য গত বছরের ১৬ নভেম্বর ৮শ’ টাকা প্রদান করে সহকারি শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের কাছে এবং ফরম পূরণ করে। ওই বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু গত ২৪শে সেপ্টেম্বর দিয়াপাড়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক মকবুল ঐ ছাত্রীকে একটি পুরানো প্রবেশপত্র হাতে ধরিয়ে পরীক্ষা দিতে পাঠায়। যার কেন্দ্র রুপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমিতে কিন্ত প্রবেশপত্র সঠিক না হওয়ায় ঐ ছাত্রীকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরিক্ষা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ে ঐ ছাত্রী এবং আত্মত্যার চেষ্টা করে।

এব্যাপারে ঐ ছাত্রীর অবিভাবকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাথে কথা বলতে গেলে তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এসময় প্রধান শিক্ষক বলেন, ভুলবশত প্রবেশপত্র আসেনি। এখন আমাদের কিছুই করার নেই। আর এব্যাপারে কোনো কথা কারো কাছে কিছু বলা যাবে না বলে শাসিয়ে দেন। এ কথা শুনে বিষণ্ন মনে ওই পরীক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে যায়।

পরবর্তীতে ক্ষোভে-অভিমানে ঐ শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিবারের লোকজনের সতর্ক নজরদারির কারণে ব্যর্থ হয়।

এই খবর শুনে সাংবাদিকরা বহু বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক শাহাজানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কোন কথা বলবে না বলে জানিয়ে দেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

এব্যাপারে ঐ পরিবার ও গ্রামবাসি প্রধান শিক্ষক শাহাজান, সরকারি শিক্ষক মকবুলসহ যারা এ সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।