খুলনা বিভাগে শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেল ঝিকরগাছার মেঘনা ইমদাদ

0
29

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শিক্ষা, কারিগরি ও তথ্য প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২২ পেল যশোরের ঝিকরগাছার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা ইমদাদ। তিনিসহ সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ১২ জনকে এ পুরুস্কার প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত উদ্যোক্তাগণ এবং ২০২০ সালে বিজয়ী এ্যাওয়ার্ডীবৃন্দ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন। খুলনা বিভাগের একমাত্র শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মেঘনা ইমদাদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং আমার স্মৃতিপটে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেননা ক্ষুধা দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশের রূপকার সারা বিশ্বে মানবতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পুরস্কার প্রাপ্তি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও গৌরবের। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে এ মহৎ পুরস্কার প্রবর্তন করার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকের পুরস্কার আমাকে সারাজীবন কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আপনার নির্দেশিত পথে কাজ করে যাচ্ছি। আমি অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর চাকুরির চিন্তা না করে, কারিগরি কম্পিউটার এবং আত্ম-কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নকশীকাঁথা ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তারপর শুরু হয় আমার পথ চলা।

২০১৭ সাল থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গড়ে তুলি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “স্বপ্নলোকের পাঠশালা”। যেখানে শ্রমজীবী, স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা, অসহায় মায়েদের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করছে। আমি এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গড়ে তুলি কপোতাক্ষ নামে কারিগরি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ প্রতিষ্ঠানে ডাটাবেস প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে ফলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী পরিত্যাক্ত ও বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ব্লক বাটিক, দর্জি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করি। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলা কর্মীদের উৎপাদিত পণ্য যেমন, থ্রিপিস, নকশীকাঁথা, শাড়ি, বেডশীট, পাঞ্জাবি ও হস্তশিল্প পণ্য আমি নিজে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কাজের স্বীকৃতি সব সময় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এবং সেই স্বীকৃতির সাথে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো মহান মানুষের নামের পাশে আমার মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার নাম জড়িয়ে থাকবে তখন জীবনে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। এ আমাদের পরম সৌভাগ্য, আজীবন আপনাকে লালন করবো হৃদয়ের গভীরে, অনুসরণ করবো আপনার দেখানো পথ, অঙ্গীকার করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষের কল্যাণে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

মেঘনা ইমদাদকে অল্প বয়সে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। তবুও হাল ছাড়েননি। স্বামীর সহযোগিতায় স্বপ্নপূরণের পথেই হেঁটেছেন। সেই পথচলা মসৃন ছিল না। চড়াউ-উতরায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। চাকরি না করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছেন। বর্তমানে পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, কপোতাক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এন্ড চাইল্ড রাইটস অর্গানাইজেশনের সভানেত্রী, রুপান্তর হস্তশিল্প এন্ড ফ্যাশন পার্কের পরিচালক, সেন্টার ফর রিচার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর ইয়াং বাংলা, জাগ্রত নাগরিক কমিটি,জাতীয় যুব কাউন্সিল ও যশোর কম্পিউটার সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। ইতোমধ্যে তিনি কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। সমাজ উন্নয়ন অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার জয়িতা পুরস্কার অর্জন, ২০২০ সালে জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড টপ-৫০ নির্বাচিত ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যশোরের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠন হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছে।