ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারীর ঠিকাদারি : ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন কৌশল দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলীর

0
34

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) এর কার্যসহকারী মাহবুব হাসান জনি সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে নিজেই ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সিবিএ সংগঠনের সদস্য দাবি করে আউট সোর্সিংয়ে লোক নিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে চালিয়ে যাচ্ছেন রাম রাজত্ব। তার এই দাপটের পেছনে রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমানের হাত। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারেরা জানান, কোটেশনে মাহবুব হাসান জনির পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ কিনেও করছেন মাহবুব হাসান জনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডে চলমান আউট সোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগ নিয়ে মাহবুব হাসান জনি ও নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমানের কারসাজি সম্প্রতি সামনে এসেছে।

স্থানীয় দৈনিক এই আমার দেশ পত্রিকায় এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমানের। বরং তিনি মাহবুব হাসান জনিকে পরামর্শ দিয়েছেন পত্রিকায় একটি প্রতিবাদ দিতে। মাহবুব হাসান জনি দৈনিক এই আমার দেশে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিজ্ঞাপন হিসাবে দিয়েছেন দৈনিক বাংলা ৭১ একাত্তর নামের একটি পত্রিকায়।

এই প্রতিবাদের কপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন অভিযোগের ইতি টানতে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেমসন্স টেডিং এজেন্সি ২০২১ সালের জুন মাস থেকে জনবল সরবরাহ করে আসছে টেন্ডার আইডি-৬৪২২৯২ এর আওতায়। এই প্রতিষ্ঠান যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও জনবল সরবরাহ করছে।

এই কাজেরও পার্টনার মাহবুব হাসান জনি। সম্প্রতি ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় ড্রাইভার ২ জন, পাম্প অপারেটর ২ জন, পরিষ্কারক ৪ জন, গেট অপারেটর ১২ জন এবং খালাসি ৩ জনসহ মোট ২৩ জন। সম্প্রতি গেট অপারেটর পদে নিয়োগকৃত হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানের ছেলে সোহেল রানাকে জেমসন্স ট্রেডিং এজেন্সির মালিক আব্দুল মতিনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বরখাস্ত করেন মাহবুব হাসান জনি ও তার সহযোগী আবু সাঈদ।

একইভাবে আরও ৩জনকে বরখাস্ত করে নতুন ৪ জনকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা পরে জেমসন্স ট্রেডিং এজেন্সির মালিক আব্দুল মতিন চিঠি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তার স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে জানিয়েছেন। আব্দুল মতিনের স্বাক্ষর জাল করে জেমসন্স ট্রেডিং এজেন্সির প্যাডে আবু সাঈদকে চেক উত্তোলনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়। যা পরে বাতিল করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ঠিকাদারি কাজ করা না গেলেও দেদারসে করে যাচ্ছেন মাহবুব হাসান জনি।

ঠিকাদারি কাজের কমিশন হিসাবে মেসার্স নগর উন্নয়ন ফার্মের মালিক ইমরান তাকে ঝিনাইদহ পুবালী ব্যাংকের একাউন্ট নং ১৩৭২৯০১০৫৫৬০২ থেকে চেক নং এএস ১০০-সি-৯২৩০১১২ এর মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দেন। বর্তমানে মাহবুবুর রহমান জনি মেসার্স ভাই ভাই টেডার্স লাইসেন্সে টেন্ডার আইডি ৬৪১০৮২, মেসার্স চমক এন্টার প্রাইজের লাইসেন্সে টেন্ডার আইডি – ৬৪১০৮০, মেসার্স সেমন্তি টেডার্সের লাইসেন্সে টেন্ডার আইডি-৩২৩৮১৯ এবং মেসার্স খায়রুল এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে টেন্ডার আইডি- ৬২৬৮২১ এর কাজ করছেন। আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগকৃত জনবল সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সাংবাদিকরা আবেদন করলে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন উপ সহকারী প্রকৌশলী। বুধবার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমানের এই ঘটনায় তদন্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিউজ হলেই তদন্ত করতে হবে এমন কোন মানে আছে? মাহবুব হাসান জনি একটি প্রতিবাদ দিয়েছেন। সেই প্রতিবাদের কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে তদন্ত করার জন্য কোন নির্দেশ দেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝিনাইদহ অফিস সূত্রে জানাগেছে, আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগকৃত জনবলের কাছ থেকে আদায় করা টাকার একটি বড় অংশ ঢুকেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর পকেটে।

এছাড়াও প্রত্যেকটি কাজের কমিশন নিয়ে থাকেন তিনি। খাল খনন, খালের ধারে বৃক্ষ রোপণ, বৃক্ষ কর্তণ ইত্যাদি কাজের কমিশন তিনি নিজেও খান। যার কারণেই তিনি এই দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। এদিকে মাহবুব হাসান জনি যে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করছেন তার সুস্পস্ট প্রমাণ রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। তার হাতে লেখা প্রতিদিনের কাজের হিসাব। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের একাউন্ট থেকে তার নামে চেক ইস্যুর প্রমাণ রয়েছে।

প্রমাণ রয়েছে, অফিসে কাজ না করে ঢাকা, কুষ্টিয়া ও যশোর ঘুরে বেড়ানোর। সরকারি চাকরি করেও কেউ ঠিকাদারি করতে পারে কিনা জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। এই বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দেননি। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চামস কেলেংকারির পরেও একের পর এক দুর্নীতি করেও জবাবদিহীতার বাইরে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান। অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে উপর মহল ঠিক করার বিভিন্ন কৌশল তিনিই বাতলে দেন। অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তারা অভিযোগের তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।