যশোর বিএনপি’র তৃণমূল প্রবীন নেতার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নাকি ক্ষোভ প্রকাশ !

0
38

সত্যপাঠ রিপোর্ট

যশোরের রাজনৈতিক অবস্থা যখন সংগঠনকে শক্তিশালী করবার চেষ্টা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঠিক তখনি নীল আকাশে কালো মেঘের আভাস মিলেছে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে।সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা মেলে বিএনপির একজন তৃণমূল প্রবীন রাজপথ ও তৃণমূলের অভিভাবক যার নেতৃত্বে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য একসময় দলকে সুসংগঠিত করেছে। আজ সেই নেতার লেখনিতে বুঝতে কষ্ট হবে না তৃণমূলের কর্মীদের যশোরের বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এখন ব্যাবসা বান্ধব।

সারাদেশে যখন বিএনপি নামক দলের অস্তিত্ব বিলীন প্রায় তবুও থেমে নাই পদ বিকিকিনির চেষ্টা। প্রবীন নেতার ফেসবুক পোস্টটি ঘুরে দেখলেই বুঝতে সহজ হবে তৃণমূল বিএনপি সহ সকল ব্যাবসায়ীমনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর অবস্থান।

নিচে তুলে ধরা হলো প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবদার হোসেনের লেখাটি, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম।
আমি অধ্যাপক আবদার হোসেন, যুগ্ন আহবায়ক যশোর সদর উপজেলা বিএনপি, যশোর। আজ আমার জীবনের প্রথম ফেসবুকে কোন স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি। রাজনীতি তুমি কার? ব্যবসায়ীর নাকি সংগঠকের এই প্রতিপাদ্য নিয়ে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানলাম, আগামী ৭ই জুন সদর উপজেলা বিএনপি’র যে সম্মেলন হবে সেটা সামনে রেখে সভাপতি/সম্পাদক পদে মনোনয়নের ফরম সংগ্রহ করতে ৫০০০০ টাকা! এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৩০, ০০০ টাকা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের জন্য জমা দিতে হবে।

সভাপতি পদে বর্তমান সদর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক প্রার্থী হচ্ছেন। তাদের পরেই রাজনীতিতে দলীয় অবস্থান আমার। সুতরাং রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সাধারণ সম্পাদকের পদটি পাওয়ার জন্য আমি ১নং দাবিদার। অথচ আমি ফর্মই সংগ্রহ করতে অপারগ। বিগত দিনের আমার রাজনৈতিক ভূমিকা কোন আলোচনায় আসারও সুযোগ নেই।

আমি প্রায় দেড় যুগ ধরে কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমার ইউনিয়নের ইউনিয়ন কমিটির অভিষেক আমার হাত ধরেই। আমি আমার ইউনিয়নের ছাত্রদল/যুবদল/মূল দলের অভিষেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি বিগত দিনে সদর উপজেলা বিএনপি’র যথাক্রমে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ন সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। দলের প্রতি আনুগত্য পোষন করে যথাসম্ভব সততার সাথে অতীতের সকল আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। কলেজে প্রিন্সিপাল পদে দরখাস্ত করে বিএনপি করার অপরাধে কোন সুযোগই পায়নি।

একটা সিনিয়র স্কেল পেতে আমাকে আমার কলেজে ৫০ হাজার টাকা ডোনেশনের নামে জরিমানা দিতে হয়েছে। মামলা খেয়ে জেল থেকে ডান্ডাবেড়ি পরে কোর্টে এসেছি। ডান্ডাবেড়ি পরার মতন আসামি হয়েছি। বিগত সংসদ নির্বাচনের ৪ দিন পূর্বে বহিরাগত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার বাড়ির ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, ফ্রিজ, টেলিভিশন এমনকি গ্যাসের চুলা পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক বৃন্দ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় সব দেখেছেন।

আমাদের নেতা জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছুটে এসে সব কিছু দেখেছেন এবং সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভাঙচুরের দুইদিন পর আমাকে পুনরায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি একজন চাকুরীজীবী হয়েও রাজনীতিতে আন্দোলন- সংগ্রামে ফাঁকি দেই নাই। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি বলে সর্বজনস্বীকৃত। স্বচ্ছ জীবন যাপনে বিশ্বাস করি এমতাবস্থায় দলের প্রাপ্য পদ নিতে প্রাথমিক শর্তই ৫০.০০০ টাকা! আমি চলতি বছরেই চাকরি হতে অবসরে যাচ্ছি। অর্থাৎ বয়স ৬০ বছর। জীবনের যৌবনটাই দলের পেছনে ব্যয় করে টাকার কাছে হার মেনে মনোনয়নের ফরমটাই সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলাম।

তাই প্রশ্ন রেখে গেলাম ভবিষ্যৎ রাজনীতিকদের কাছে রাজনীতি তুমি কার? ব্যবসায়ীর নাকি সংগঠকের?