যত দোষ সব কি নন্দ ঘোষের ?

0
84

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলার বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা।

কখনও অপহরণের চেষ্টা চলছে, কখনও সুযোগের সন্ধানে থেকে তাদের উপর দেশীয় লাঠি কিংবা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও তথ্য সংগ্রহে সরকারি দপ্তরগুলোতে গেলে সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করছে। দিনের পর দিন এই ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু গণমাধ্যমের উপর এমন হামলা সাধারণ কোন বিষয় হতে পারে না।

 

যদিও হামলা মামলা দিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোন গণমাধ্যমের কন্ঠস্বরকে চেপে রাখা যায় নি। তবুও এসব ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য অবশ্যই দুঃখজনক। অসহায় নিপীড়িত মানুষের জন্য বড় হুমকিসরূপ। এই কিছুদিন আগে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হলেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ইয়ারব হোসেন৷ উপকূলীয় বেড়িবাঁধের একটি তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার অফিসে গেলে সেখানে ডিউটিরত আনসার এবং কর্মচারীদের দ্বারা তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে।

ঘটনাটি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে চারিদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। কেউ কেউ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় আবার কেউ কেউ ইয়ারব হোসেনকে দায়ী করে সাধারণ একটি ঘটনা বলে বিভিন্ন মাধ্যমে বলতে থাকে। অবশ্যই আমি দুই শ্রেণির আলোচকদের স্বাগত জানায়৷ কারন উভয় শ্রেণির এই মানুষগুলো তাদের নিজেদের নিজস্ব চিন্তা চেতনা থেকেই এমন মন্তব্য করেছে। তবে একটা বিষয় ভেবেছেন ? সেদিন যদি দুর্নীতি, অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে ইয়ারব হোসেন পত্র-পত্রিকায় বড় হেডলাইন করে নিউজ ছাপাতে পারতো তাহলে তাকে বাহ বাহ দেওয়ার লোকের অভাব পড়তো না। এমনকি এসব সমালোচকরাও তাকে অভিনন্দন জানাতো।

এটা কোন মন গড়া কথা নয়, বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া একটা উদাহরন দিলাম৷ কারন কোন দপ্তরে অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ওই দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাকা পয়সা দিয়ে সেই সংবাদকর্মীর মুখ আটকানোর চেষ্টা করে। আর সেই সংবাদকর্মী যদি সেই উৎকোচ নিতে অস্বীকার করে তাহলে তাকে চাঁদাবাজের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। এমন ঘটনা দেশে অহরহ ঘটছে। তবে আমি বলছি না, সংবাদকর্মীরা টাকা কিংবা ঘুষ খায় না। কিন্তু আপনাদের কাছে অনুরোধ একটাই সেটা হলো, যেসমস্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, ঘুষসহ নানা অভিযোগ আপনাদের কাছে রয়েছে সে প্রকৃতার্থে সাংবাদিক কিনা সেটা অন্তত যাচাই করবেন। কারন প্রকৃত সাংবাদিকরা কখনও এমন চরিত্রের হতে পারে না। কথাটা এমনি যে, ‘হুজুররা কখনও ধর্ষক হয় না, ধর্ষকরা হুজুর সাজে।’

 

এই আবার মোহনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আব্দুল জলিলের ওপর হামলা করেছে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা। সাতক্ষীরা সদরের তলুইগাছা চৌরাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখানেও দেখলাম একশ্রেণির মানুষ আব্দুল জলিলের উপর দোষারোপ করছে। তাহলে কি অন্যায়, অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই সংবাদকর্মীদের কোন না কোন তকমা নিতে হবে এই সমাজ থেকে? তাহলে কি ওই সেই বাক্যই গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছিলো যে, ‘যত দোষ, নন্দ ঘোষ’। যেখানে যে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি হয় সেগুলোর অন্তরালের সব খবরাখবর আপনার নিকট পৌঁছে দেওয়ায়ই সংবাদকর্মীদের কাজ। সব পেশায় যেহেতু ভালো খারাপ মানুষ রয়েছে এখানেও থাকবে আর এটাই স্বাভাবিক।

তাই বলে কিছু মানুষের জন্য সব সংবাদকর্মীদের উপর যে দোষারোপ করবেন এটা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়৷ হ্যাঁ তবে এটা বলতে পারেন, বর্তমানে পেশাদার সাংবাদিক থেকে অপেশাদার, বাটপার কিছু মানুষ টাকার লোভে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের চরিত্রে আঘাত আনছে। সারা দেশে এ সংখ্যা কয়েকগুণে বেড়েছে। গলায় কার্ড ঝুলিয়ে, গাড়ির সামনে প্রেস লাগিয়ে এরা টাকা, টাকা আর টাকার উদ্দেশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যাদের জন্যেই পুরো সাংবাদিক সমাজকে সমাজের কাছে এমনভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া লাগছে। যদিও এর পিছনে অনেক কারন রয়েছে যেগুলো সমাধান আস্তে আস্তে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। সে বিষয়ে আমার মতো নিছক একজন বালকের কোন ভাবেই আলোকপাত করা শোভনীয় নয় বলে আমি আর ওদিকে গেলাম না।

এই সম্প্রতি আবার সময় টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপুকে অপহরণের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা৷ এভাবে যদি একেরপর এক এমন আঘাত আসে গণমাধ্যমের উপর তাহলে সেটা আমাদের জন্য বড় অসহায়ত্বের, দুঃখের। এজন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানায়, যে মানুষগুলো পরিবার পরিজনকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলেও আপনাদের জন্য সবসময় সংবাদ সংগ্রহ করে সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরে সে মানুষগুলোকে গুটিকয়েক মানুষের জন্য অপমান, অপদস্ত করবেন না৷ কারন ভালোমন্দ নিয়েই আমাদের জগৎ সংসার। এজন্য আমাদের উচিত পৃথীবির সকল পেশাকে সম্মান করা, প্রতিটি মানুষকে যথার্থ মর্যাদা দেওয়া।

রিয়াদ হোসেন
তরুণ কলাম লেখক