বাঘারপাড়ায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

0
73

প্রদীপ বিশ্বাস, বাঘারপাড়া

স্কুল থেকে ফিরে শান্তা মাকে বলছিলো, মা ভাত দে। একটু পরে প্রাইভেট পড়তে যাব। বলেই খেলতে বেরিয়ে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির তামান্না আক্তার শান্তা। তার সাথে তমা, হুসাইন ও নাহিদ নামের আরো তিন বন্ধু খেলতে যায়। খেলার ফাঁকে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তাঁরা। দাঁড়িয়ে বন্ধুদের গোসল করা দেখছিলো নাহিদ। এক পর্যায়ে গোসল করতে করতে পানিতে ডুবে যায় তারা। হাত এগিয়ে দিয়েও বন্ধুদের বাঁচাতে পারেনি শিশু নাহিদ। এভাবে বলছিলো আর অঝরে কাঁদছিলেন শিশু তিনটির স্বজনরা।

সোমবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ওই তিন শিশুর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

ডুবে যাওয়া তিন শিশু হলো উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের মেয়ে তামান্না আক্তার শান্তা (৯), একই গ্রামের হারুন মোল্লার মেয়ে তমা খাতুন (৮) ও আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে হুসাইন (৬)। এরমধ্যে শান্তা ও তমা দক্ষিণ শ্রীরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ও হুসাইন প্রাক প্রাথমিকে পড়াশোনা করতো।

শান্তার মা মিমি বেগম জানিয়েছেন, দুই ছেলে মেয়ে নিয়েই ছিল তাদের সংসার। গত এক বছর আগে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যায়। মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এভাবে মেয়েটাও হারিয়ে যাবে কোনো দিন ভাবতে পারিনি। এখন আমরা কাকে নিয়ে থাকব বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তমার মা পুতুল বেগম বলেন, স্কুল থেকে এসে তমা স্কুল পোশাক পরিবর্তন করে টিভি দেখছিল। কিছু সময় পরে টিভি বন্ধ করে খেলতে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাই আমার মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার আর কোনো সন্তান নেই। কাকে নিয়ে বেঁচে থাকব বলে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও শিশুর স্বজনরা জানিয়েছেন, দুপুর ১২টার দিকে শান্তা, তমা ও হুসাইন খেলতে যান। পরে খেলতে খেলতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নতুন খনন করা একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। অনেকক্ষণ ধরে বাড়ি ফিরে না আসায় তাদের খুঁজতে যান স্বজনেরা। বেলা দেড়টার দিকে ওই পুকুরের পাড়ে তাদের তিন জোড়া স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এরপর পুকুরে নেমে খোঁজা-খুঁজির পর তাদের উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আলামিন বলেন, বেলা দুইটার দিকে তিন শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মাগরিব নামাজের পরে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।