বাঘারপাড়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি! বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

0
47

যশোরের বাঘারপাড়ায় ক্লিনিকের ছড়াছড়ি। যে যার মত ক্লিনিকের নামে চালিয়ে যাচ্ছে গলাকাটা বাণিজ্য। স্বাস্থ্যবিভাগের অভিযান এর পরেও থামছে না তাদের কারবার। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিক ছাড়া সব ক্লিনিকেই চলছে চিকিৎসার নামে প্রতারণা। নিম্ন মানের এসব প্রতিষ্ঠানে নেই মানসম্মত যন্ত্রপাতি। নেই রেজিস্টার্ড ডাক্তার কিংবা ল্যাব টেকনোলজিস্ট। বিভিন্ন ক্লিনিক বন্ধ করে দিলেও তার পূর্বের নাম পাল্টে নতুন নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ওই সব ক্লিনিকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। রাতদিন নিউজের গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে । এদিকে সকল অবৈধ ক্লিনিক বন্ধের সরকারের কঠোর নির্দেশনা আসার পর অবৈধ ক্লিনিক মালিকরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করতে তারা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।


সরেজমিনে বাঘারপাড়া কয়েকটি ক্লিনিক পরিদর্শনে দেখা যায়, জাল লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনা করার অপরাধে প্রথমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় পূর্বের নাম পরিবর্তন করে সকিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নাম দিয়ে তারা এখন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এই প্রতিষ্ঠান অসংখ্য রোগী আসছেন। এ সময় কয়েক রোগী জানান সখিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফী বেশি রাখা হচ্ছে। যদিও এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। মিলন দাবী করেন তিনি বৈধ ভাবেই ব্যবসা করছেন। তার সকল কাগজপত্র আপ টু ডেট।
বাঘারপাড়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেয়ে দেখা যায় নার্সের কাজ করছেন একজন আয়া। সুইটি নামের একজন নার্স ওই হাসপাতলে রয়েছেন বলে দাবি করেন কর্তৃপক্ষ। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি যশোর শহরের একটি ক্লিনিকে চাকরি করেন। খাতা কলমে তিনি হাসপাতালে নার্স হিসেবে রয়েছেন। হাসপাতালের ভেতরে স্যাতসেতে পরিবেশ। পাশেই নর্দমা সেখানে হাসপাতালের বর্জ্য সহ বিভিন্ন ময়লার স্তুপ জমে আছে। এ সময় সত্তাধীকারী মিলন হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান তার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আছে। তিনি সকল নিয়ম-নীতি মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে, বাঘারপাড়া অগ্রনী ব‌্যাংকের তৃতীয় তালায় গড়ে ওঠেছে ফাতেমা ক্লিনিক। এই ক্লিনিকেও সমস্যার শেষ নেই। রয়েছে একাধিক দালাল যারা রোগীদেরকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে এই ক্লিনিকে নিয়ে আসে। পরে মন গড়া টাকা আদায় করে। যার একটি অংশ দালালদের পকেটে যায়। তিন তলাতে প্রসুতি মায়েদের জন‌্য ওঠানামার জন‌্য নেই কোন সু ব‌্যবস্থা। সিঁড়ি বেয়েই তাদের ওটা নামা করতে হয়। যা অত্যন্ত কষ্টকর বলে দাবি করেন দালালের খপ্পরে পরে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রহিমা বেগম। এ সময় হাসপাতালের মালিককে পাওয়া যায়নি। তবে রিসেপশনিস্ট শারমিন আক্তার জানান তারা বৈধভাবেই ব্যবসা করে আসছেন। বাঘারপাড়ার বহুল আলোচিত আনোয়ারা ক্লিনিক নিবন্ধন না থাকা ও অপচিকিৎসার কারণে সিলগালা করা হয়েছে। অথচ দেখা যায় পুরোদমে চলছে হাসপাতালটি। শুধু তাই নয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন প্রায় এই ক্লিনিকে ভূয়া ডাক্তার দিয়ে সিজার করানো হচ্ছে।খাজাবাবা ক্লিনিকে যেয়ে একই হাল দেখা যায়। সত্তাধীকারী লালটু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, শনিবার তিনি যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নতুন লাইসেন্স নবায়নের জন‌্য যা-যা প্রয়োজন সব কিছুই সম্পন্ন করেছেন।
সিটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, কেয়ার ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বললে তারা নানা অভিযোগ করেন। এদিকে, বাঘারপাড়া বাজারেই শুধু নয়, আলাদিপুর বাজার, নাড়িকেল বাড়িয়া বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। যাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস রাতদিন নিউজকে বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সোমবার অথবা রোববার বাঘারপাড়া উপজেলায় অভিযান চালানো হবে।