নড়াইলে পুলিশের মারপিটে আহত দু’নারীকে চিকিৎসা নিতেও পুলিশের বাঁধার অভিযোগ

0
22

পুলিশের বিরুদ্ধে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের দু’মহিলাকে বেধড়ক মারপিট, বাড়ির আসবাবপত্র ও চুলা ভাংচুরসহ আহতদের চিকিৎসা নিতেও পুলিশের বাঁধার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর আহত ২ মহিলা ৪ দিনেও পুলিশ বাঁধায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেননি। শুক্রবার বিকেলে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। পরে তাদের নড়াইল শহরের বেসরকারি একটি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আহত মহিলা এখন নিজ বাড়িতেই রয়েছেন।
কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি মেম্বর জামাল মোল্যার সমর্থক সবুজ মৃধা জানান, গ্রাম্য কোন্দলের জের ধরে বর্তমান ইউপি মেম্বর জামাল মোল্যা ও সাবেক ইউপি মেম্বর শরিফুল মোল্যা গ্রুপের মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ মে) ও বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুই দফা সংঘর্ষ হয়। আমি আসামি হওয়ায় বাড়িতে ছিলাম না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ৩-৪জন পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৪৫) আমার খোঁজ জানতে চেয়ে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় আমার বোন রেশমা বেগম (৫০) ঠেকাতে গেলে তাকেও মারধর করে। বাড়ির আসবাবপত্র ও রান্নাঘরের চুলা ভাংচুর করে। এ ঘটনার পর ওইদিন রাত ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ নাসিমা বেগমকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রওয়ানা হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পুরুলিয়ার মোড়ে বাঁধা দিয়ে স্থানীয় চাঁচুড়ি বাজারে নিয়ে এক গ্রাম্য ডাক্তারকে দিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে পূনরায় নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ হাসপাতাল গেটে বাঁধা প্রদান করে শহরের মল্লিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। তবে তার স্ত্রীর কোমরের হাড় চটে গেছে বলে তিনি জানান। পুলিশ বলেছে, বিষয়টি কাউকে না জানাতে এবং কোনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না হতে। তিনি ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশের নাম জানেন না বলে জানান।
রোববার (২২মে) দুপুরে ভূক্তভোগি নাসিমা বেগম নিজ বাড়ির বিছানায় শুয়ে কাতর কন্ঠে পিুলিশ কর্তৃক মারপিটের ঘটনার বিবরন দেন । নাসিমা বেগম বলেন, এখন পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি। তাদের সাথে আমরা পারবো না সেই জন্য কোনো ঝামেলায় যাইনি। এ ব্যাপারে পুরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি (মোবা: ০১৭১৫-০০৮৫০১) বলেন, চাদপুর গ্রামের মারামারির ঘটনা জানি। কিন্তু পুলিশ কর্তৃক গৃহবধূকে মারধরের বিষয়টি জানিনা। তবে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে আপনাকে জানাবো। এ ব্যাপারে জানতে পুরুলিয়া ইউপি মেম্বর জামাল মোল্যাকে কয়েকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেন, ঘটনার দিন চাঁদপুর গ্রামে পুলিশ টহলের দায়িত্বে ছিল। কিন্তু পুলিশ কর্তৃক দু’নারীকে মারপিটের বিষয়টির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগও করেননি। তৃতীয় পক্ষ কোনো প্রকার সুযোগ নেওয়ার জন্য এ ধরণের কথা বলছে।