বেনাপোল কাস্টমস থেকে অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে চলছে সমালোচনা

0
13

বেনাপোল প্রতিনিধি

নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। সেই হাউস থেকে একের পর এক চুরি অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে বেনাপোল বন্দর এলাকয়। কাস্টমস হাউজে রয়েছে নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব কাস্টমস সিপাইও অস্ত্র ধারী আনছার বাহিনী। এছাড়া রয়েছে চারিদিকে সিসি ক্যামেরা। সেই হাউজ থেকে ২০১৮ সালের দিকে একবার উদ্ধার হয়েছিল একটি পিস্তল। ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর ভোল্ট ভেঙ্গে এত নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চুরি হয় ১৯ কেজি স্বর্ণ।

সুত্র মতে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে দুর্নীতি শুল্ক ফাঁকি নতুন কিছু নয়। এখানে এ রেওয়াজের অভিযোগ একাধিকবার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ হলেও কোন কাজ হয়নি। বড় বড় শুল্ক ফাকি হয় ও আমদানি পণ্যর সাথে বড় বড় মাদকের চালন আসে ভারত থেকে কিছু দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায়। আবার চলেও যায় দেশের প্রত্যান্তঞ্চালে। মাঝে মধ্যে এর দুই একটি চালন ধরা পড়লেও সেখানে কাস্টমস এর কোন স্বার্থকতা নেই। বেনাপোলে নিয়োজিত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অবৈধ পণ্যর চালান মাঝে মধ্যে আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এই বন্দরের ব্যবসায়ি সেলিম রেজা প্রতিষ্ঠানের নাম না বলার শর্তে বলেন, এই বন্দর দিয়ে কাস্টমস এর অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যেমে আসে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাকি দিয়ে পণ্য। আর এর সাথে আসে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। যা সুকৌশলে চলে যায় দেশের অভ্যান্তরে। এর আগে কয়েক বছর আগে বিজিবি ও উদ্ধার করেছে অবৈধ অস্ত্র আমদানিকৃত ভারতীয় গাড়ি থেকে। আর প্রায়শ দেখা যায় বিজিবি, আনছার সদস্য ও পুলিশরা ও উদ্ধার করে ফেনসিডিল সহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য। সেখানে কাস্টমস এর কোন সফলতা দেখা যায় না।

মেহেদী হাসান নামে জনৈক এক ব্যক্তি বলেন, কাস্টমস এর দুর্নীতি বলে শেষ করা যাবে না। এদের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এসব অস্ত্র ভারত থেকে এনে নিরাপত্তার জন্য ওই পরিত্যাক্ত ভবনে রাখতে পারে। পরে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে তারা ওখান থেকে অস্ত্রের মালিকের হাতে হয়ত তুলে দিবে। কিভাবে এসব অস্ত্র আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমদানি পণ্যর গাড়িতে অথবা কোন পাসপোর্ট যাত্রীদের মাধ্যেমে এনে থাকতে পারে। বেনাপোল চেকপোষ্টে ও অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী আছে কাস্টমস এর। যাদের নামে বার বার নানা ধরনের শুল্ক ফাকির অভিযোগ রয়েছে। ওরা সুকৌশলে এগুলো এনে ওই গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখতে পারে। কারন কাস্টমস হাউজের যে নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে ওই নিরাপত্তার চোখ এড়িয়ে বহিরাগত কোন লোক অস্ত্র রাখতে পারে।

বেনাপোল বন্দর এলাকায় বসবাস রত নাহিদ পারভেজ নামে এক যুবক বলেন, পাগলে ও বোঝে এই অস্ত্রের চালান কারা সেখানে রেখেছে। বহিরাগত কোন লোকের দ্বারা এটা সম্ভব না। যেখানে কাস্টমস এর ভোল্ট ভেঙ্গে ১৯ কেজি স্বর্ণ সহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন জিনিস পত্র চুরি হয়ে যেতে পারে সেখানে একটি ভবনে পিস্তল রাখা অসম্ভব কোন বিষয় না।

বার বার বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ঘুষ বানিজ্য, চুরি দুর্নীতি সহ নানা ধরনের অভিযোগ পত্র পত্রিকায় শিরোনাম হওয়ায় সম্প্রতি কাস্টমস এর চেকপোষ্ট এলাকায় সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রবেশ করতে যাতে না পারে তার জন্য বাধা সৃষ্টির জন্য নিয়োগ দিয়েছে আনাছার সদস্য। আনছার সদস্যরা বলে সাংবাদিক প্রবেশ নিশেধ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কি কারনে কেন প্রবেশ নিশেধ তার কোন ব্যখ্যা নাই।

কাস্টমস হাউসের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কি ভাবে অস্ত্রের চালান আসল জানতে চেয়ে হাউসের জয়েন্ট কমিশনার আব্দুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি এসব কিছু বলতে পারব না। কমিশনার স্যার এর নিকট জানেন। এছাড়া সাংবাদিক প্রবেশে কেন বাধা এর আগে জানতে চাইলে তিনি একই কথা বলেন।

কাস্টমস কশিশনার আজিজুর রহমানকে বার বার ফোন দিলে ও তার ফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি। এই প্রথম বেনাপোল কাস্টমস হাউজের তোস কমিশনার এ পর্যন্ত কোন ফোন রিসিভ করেন নাই। এর আগের কমিশনাররা ফোন দিয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনারা ফোন রিসিভ করে তথ্য দিতেন।

উল্লেখ্য গত ৮ মে সন্ধ্যার সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে ৪ টি ওয়ান শুটারগান অস্ত্র উদ্ধার করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।