বাগেরহাটে হোয়াইট স্পট রোগে চিংড়ি ঘের পরিস্কার! সর্বস্বঃ হারিয়ে পথে বসার উপক্রম সাত হাজার চিংড়ি চাষীর প্রতিকারে নেই উদ্যোগ

0
19

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে হোয়াইট স্পট রোগে চিংড়ি ঘের পরিস্কার। সর্বস্ব হারায়ে পথে বসার উপক্রম সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি চাষ অধ্যুষিত জেলার রামপাল উপজলার সাত হাজার চিংড়ি চাষীর। জেলায় একটি চিংড়ি গবেষনা কেন্দ্র থাকলেও নেই প্রতিকারে উদ্যোগ। ফলে এ উপজলার চিংড়ি ঘের মালিক ও চাষীরা পড়েছে চরম বিপাকে। মৌসুমের শুরুতেই অকষ্মিক ভাইরাস আক্রান্তে ব্যাপকহারে মড়ক দেখা দেয়ায় কোটি টাকার ক্ষতি কি ভাবে পুশিয়ে উঠবে সে চিন্তায় দিশে হারা ঋণগ্রস্থ্য এই চাষীরা।

এ দিকে মৎস্য বিভাগ বলছে গতানুগতিক চাষ করায় হোয়াইট স্পট সিনড্রম নামক এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে চিংড়ি। কিন্তু নেই তাদের প্রতিকারের কোন ব্যাবস্থা।

এ খবর পেয়ে রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের মুজিবনগর এলাকার বেশ কিছু চিংড়ি ঘেরে গিয়ে দেখা যায় চাষীরা ঘের থেকে বিভিন্ন গ্রেডের মৃত চিংড়ি তুলে আনছেন। ওই ইউনিয়নের বেশির ভাগ চিংড়ি ঘেরের মাছ মারা গেছে।

পার্শ্ববর্তী ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঘের মালিক নুরুল আমিন জানান, এলাকার শতকরা ৯০ ভাগ চিংড়ি ঘেরে মড়ক লেগে চিংড়ি মরে গেছে। এতে চাষীরা আর নতুন করে ঘেরে চিংড়ির পোনা দিতে পারছেনা।

উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজীব সরদার, হুড়কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন গোলদারসহ একাধিক চিংড়ি চাষীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর একটু আগে-ভাগে ঘেরে চিংড়ির পোনা ছাড়েন। এসব চিংড়ি বড় হয়েছে। অনেকে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই চিংড়ি ধরা শুরু করবে। মাছের সাইজ পরিক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পায় ঘেরের চিংড়ি মরে শেষ। এ ধরনের ঘেরের সংখ্যা শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ।

চেয়ারম্যানরা আরো বলেন, যারা এনজিও বা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছে তারাই চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। রামপাল সদর, রাজনগর, বাইনতলা ও পেড়িখালি ইউনিয়নেরও চিংড়ি ঘেরের অবস্থা একই রকম।

রামপাল উপজলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্য্যালয় থেকে জানা গেছে, এ বছর রামপাল উপজেলায় নিবন্ধনকৃত ছয় হাজার ৬৪৪টি মাছের ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়েছে। এখন বাগদা চিংড়ির ভরা মৌসুম। অনেক ঘের থেকে চিংড়ি ধরা শুরু করেছেন চাষীরা। আবার অনেকে চিংড়ি ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহর ব্যবধানে এ উপজলা বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ি ঘেরে হঠাৎ করে ভাইরাস লেগে চিংড়ি মরা শুরু হয়েছে। কি কারণে চিংড়ি মরছে চাষীরা তার সঠিক কারণ খুজে পাচ্ছেন না।

চাষীরা বলছেন, যারা সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছেন তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছেন। এখন তাদের ঋণ পরিশাধের কোনো পথ খোলা থাকছে না বলে জানাচ্ছেন। এ ভাইরাসের কারণে শুধু রামপাল উপজলায় চিংড়ি চাষীদের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর চিংড়ি চাষীরা সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পেয়ে তাদের চাষ অব্যাহত রেখেছিলো। গত বছর এ উপজলায় ছয় হাজার ৭০০ মে.টন চিংড়ি উৎপাদন হয়ে ছিলো। অথচ ভাইরাসের কারণে এ বছর মৌসুমে উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলে চাষীরা মনে করেন।

এ দিকে বাগেরহাট জেলা সদরে সরকারিভাবে একটি চিংড়ি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের কি কাজ তা এ অঞ্চলের চিংড়ি বা মাছ চাষীরা জানেন না।

তবে রামপাল উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হোয়াইট স্পট সিনড্রম ভাইরাস নামক এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদশে নয় সারা বিশ্বে এ রোগ দেখা দিয়েছে। গত বছরও এ রোগে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি মরে গেছে।

প্রতিকার বিষয়ে তিনি বলেন, চিংড়ি ঘের প্রস্ততির আগে ব্লিচিং পাউডারসহ ভাইরাস মুক্ত করণের যেসব পদ্ধতি আছে তা প্রয়োগ করা উচিত। গতানুগতিকভাবে চাষীরা ঘের প্রস্তত করে চিংড়ি ছাড়ার কারণে পুর্বের ভাইরাস আবার দেখা দিয়েছে। আর একারণে চিংড়ি মরে সয়লাব হচ্ছে। চিংড়ি পোনা ছাড়ার আগে পোনা ভাইরাস মুক্ত কিনা তা পিসিয়ার পরীক্ষা না করে পোনা ছাড়ার কারণে এমনটা হতে পারে বলে তিনি মত দেন। তিনি বলেন আমি মাত্র ৫ মাস রামপাল এসেছি। এ সময়ের মধ্যে আমি ৫০০-৬০০ চাষীক চিংড়ি চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সব চাষীকে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে এ রকম অবস্থা আর হবে না।