বাঘারপাড়ায় ঈদগাহের দেওয়াল ধসে ও প্যান্ডেল ভেঙ্গে চারজন আহত

0
22

এস.এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া

করোনা ভাইরাসের তান্ডবের দুই বছর পর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদগাহে পড়ার জন্য এবছর ব্যাপক প্রস্তুতি ছিলো।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে লন্ডভন্ড প্রায় ঈদগাহে। অনেক প্রত্যাশা ও আনন্দ ঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ঈদ উৎসব উদযাপনে মেতে উঠেছিল মুসলমানদের মনে।

ঝড়বৃষ্টিতে ঈদগাহের দেওয়াল ধসে ও প্যান্ডেল ভেঙ্গে আহত হয়েছে ৪ জন। ঘটনাটি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সম্মিলিত বাগডাঙ্গা ঈদগাঁহ ময়দানে। মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদগাঁহ মাঠে আগত হয়নপ্রায় হাজার খানেক মোসল্লির।

হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে নামাজরত অবস্থায় এলাকার মুসলিমগন। প্রবল ঝড়বৃষ্টির ফলে একপর্যায়ে ঈদগাঁহের দেওয়াল ও প্যান্ডেল ভেঙ্গে পড়ে। এসময় ৪ জন মুসল্লি আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।

প্রতাক্ষ্যদর্শী তুহিন আক্তার পলাশ জানায়, ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে ঈদের মাঠের প্যান্ডেলসহ সকল সাজসজ্জা ভেঙ্গে ছিড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঈদগাঁহের ভিতরে তখন প্রায় হাজার খানেক মোসল্লির উপস্থিতি ছিলো। আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে (ঈদগাঁ) পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পূর্বেই নামাজ শুরু করেন।

নামাজরত অবস্থায় মুষুলধারায় বৃষ্টি শুরু হলে খুৎবার আগেই বেশির ভাগ মানুষ ঈদগাঁহ থেকে বেরিয়ে যায়। নামাজ শেষের দিকে ঝড়বৃষ্টির চাপে ঈদগাঁহের দেওয়াল ধ্বসে ও প্যান্ডেল ভেঙে বাশখুটির আঘাতে ৪জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, ওয়াদিপুর গ্রামের তুহিন আক্তার পলাশ (৩৫), তার ছেলে নোমান (৯), জামালপুর (ভিটেরপর) গ্রামের ঈমান আলী (৫৫), রাধানগর গ্রামের হারুন আলী (৪৫) তাদেরকে স্থানীয় কিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের বাড়িতে খোজঁখবর নিয়েছেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বিপ্লব এবং এলাকার সমাজপতিগন।

উল্লেখ্য, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সম্মিলিত বাগডাঙ্গা ঈদগাঁহ মাঠে দীর্ঘ প্রায় ৫০/৬০ বছর ধরে জামালপুর, ওয়াদিপুর, ঘোষনগর, বাগডাঙ্গা, রাধানগর মোট (৫টি) গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতি বছর একসাথে ঈদের জামাত করে থাকে। যার ধারাবাহিকতায় এবছরও উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যে ঈদের জামাত সম্পন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে (ঈদ) পূন:মিলনীর আয়োজন করে ঈদগাঁহ কমিটি ও এলাকার তরুণ সমাজ। কিন্তু হঠাৎ ঝড়বৃষ্টির কারণে তা লন্ডভন্ড হয়ে গেল।