অভয়নগরে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অনুসন্ধানে দুদক

0
52

অভয়নগর প্রতিনিধি

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় টিআর- কাবিটা প্রকল্পে লোকদেখানো কাজে ৪ কোটি টাকা নয়ছয় শিরোনামে প্রাকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন দুদক টিম।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে অভয়নগরে টিআর-কাবিটা প্রকল্পে লোক দেখানো কাজে ৪ কোটি টাকা নয়ছয় শিরোনামে একটি সংবাদ। প্রকাশিত ওই সংবাদের পর আঞ্চলিক দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর থেকে একটি টিম গত ১৭ এপ্রিল অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট কাজের পরিদর্শণে যান।

জানা গেছে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বিশেষ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) ২য় পর্যায় বিশেষ কর্মসূচির উন্নয়ন খাতে প্রকল্পের নাম ‘সুন্দলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট।’ প্রকল্পটিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৭ টাকা। অভিযোগ উঠেছে ওই প্রকল্পটিতে বিদ্যালয়ের মাঠে কিছু মাটি তুলে প্রকল্পের সমুদয় টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল দুদক’র আঞ্চলিক অফিস যশোর থেকে সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবালের নের্তৃত্বে একটি টিম ওই প্রকল্পটি তদন্তে আসেন।

স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, দুদকের টিম তদন্ত কালে তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের সভাপতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম ধর তদন্ত টিমকে বলেন, ‘আমাদের কাজে কোন দুর্নীতি হয়নি। বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে অবস্থিত পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে।’ প্রধান শিক্ষকের এমন জবাবের পর দুদক টিমের একজন সদস্য জানতে চান, পুকুরের গভিরতা কত ছিলো। উত্তরে প্রধান শিক্ষক বলেন, ১৫ ফুট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই পুকুরটি মাছ চাষ করার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিলো সুন্দলী গ্রামের অমর বিশ্বাসের কাছে। তিনি জানান, পুকুরটি ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর ছিলো। এবং এর আয়তন হবে প্রায় ৫০ফুট দৈর্ঘ ও ৫০ ফুট প্রস্ত আকারের।

তদন্তের পর দুদুক টিমের প্রধান সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখিত সকল প্রকল্পের কাজে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছি। তদন্ত কাজ চলছে। রিপোর্ট পেশ করতে সময় লাগবে।’

প্রসঙ্গত, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) এবং গ্রামীণ অবকাঠমো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের নামে চারটি পর্যায়ে সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দ ছিলো ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। অভিযোগ উঠেছে প্রায় সব কাজে কমবেশি দুর্নীতি হয়েছে। যা একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।