আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইয়াসিন আরাফাত হত্যার অভিযোগে দু’জন গ্রেফতার

0
65

বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরে যুবলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী আরাফাত ওরফে হুজুরে ইয়াসিন আরাফাত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রুবেল ও রানা নামে এক যুবক যুবুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ১৬ ফেব্রুয়ারী দিবাগত গভীর রাতে খুলনা শিরোমনি থেকে তাদেরকে আটক করে।

আটকৃতদের আহত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক রুবেল ও রানা যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার তোরাব আলীর ছেলে।

যশোর ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকান্ডে ঘটনার পরপরই জড়িতদের আটকের জন্য অভিযানে নামেন ডিবি’র কয়েকটি টিম। তারা সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন সন্দেহভাজন রুবেল ও রানা খুলনার শিরোমনির লিন্ডা প্রাইভেট হাসপাতালে অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান ইয়াছিন আরাফাত খুন হয়। গ্রেফতারকৃত রুবেল ও রানাকে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পুলিশ যশোর হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদেরকে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। হাসপাতালের রেজিস্ট্রি খাতায় রুবেল ও রানাকে গণপিটুনির শিকার উল্লেখ করা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার রাতে শহরের বেজপাড়ার চোপদারপাড়া এলাকায় ব্রাদার্স কাবের মধ্যে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ইয়াসিন আরাফাত ওরফে হুজুরে ইয়াসিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে।

নিহতের স্ত্রী শাহানা আক্তার নিশা দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় ইয়াসিনকে স্বর্ণকার রানা, রুবেল, মাঠপাড়ার সুমন, ধনীসহ সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসিনের নেতৃত্বে এলাকায় নানা অপরাধ হতো। তার নামে হত্যাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। এক সময় নাজির শংকরপুর মাঠপাড়ার সুমন এক সাথে থাকলেও বেশ কিছুদিন তাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এজন্য সুমন পৃথক গ্রুপ তৈরি করে। এই নিয়ে অপরাধ চক্রের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে এই বিরোধ। এরই জের ধরে সুমনের ক্যাডার রানা, রুবেল, ফারাজীসহ সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।

কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) তাসমীম আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইয়াসিন মারা গেছে। তার নামে কোতোয়ালী থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ এক ডজন মামলা রয়েছে বলে জেনেছি। তার মামলার সংখ্যা খুঁজে দেখা হচ্ছে। একই সাথে ইয়াসিন হত্যার সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে নিহত ইয়াসিনের শ্বশুর শামীম আহমেদ মানুয়া জানান, ইয়াসিন বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। কোনো অপরাধের সাথে থাকতেন না।

নিহতের পিতা মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার সময় তিনি মসজিদে ছিলেন। ছেলে ইয়াসিনকে কুপিয়ে জখমের খবর শুনে হাসপাতালে আসেন। এরপর জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সালাউদ্দিন বাবু জানান, বুধবার ১৬ ফেব্রুয়ারী রাত ৮ টা ২০ মিনিটে ইয়াসিনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার ঘাড়ে ও মাথার পিছন পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকান্ডের ব্যাপারে থানায় এজাহার দায়ের এর প্রস্তুুতি চলছিল।