চৌগাছা ট্রাজেডি, শোক র‌্যালি ও দোয়া বেনাপোল পৌরসভার

0
30

বেনাপোল প্রতিনিধি

আজ সেই মর্মান্তিক দিন। যেদিন পিকনিক শেষে মুজিবনগর থেকে বাসে করে ফেরার পথে যশোর এর চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল বেনাপোল সকরারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী। আজ তাদের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বেনাপোল পৌরসভার আয়োজনে মেয়র আশরাফূল আলম লিটনের নের্তৃত্বে শোক র‌্যালি বের হয়। বেনাপোল পৌর সভার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে মরিয়াম মেমোরিয়াল ও সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিহতদের স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পস্তবক করেন মেয়র লিটন।

সকাল সাড়ে ১০ টায় যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এর নের্তৃত্বে বেনাপোল ফুটবল মাঠ থেকে শোক র‌্যালিটি বের হয়। এ র‌্যালিতে পৌরসভা সহ স্থানীয় স্কুল কলেজ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যাক্তিরাও অংশগ্রহন করেন। স্মৃতিস্তম্ভে পুস্প অর্পন শেষে বেনাপোল গাজিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বক্তব্য রাখেন মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনা মেনে নেওয়ার মত নয়। এই জনপদের মেধাবী ৯ জন শিক্ষার্থী অকালে ঝরে গেল। তারা হয়ত কেউ লেখা পড়া শেষে দেশের বড় বড় পদে চাকরি করত। এর মধ্যে হয়ত কেউ মন্ত্রী, এমপি, সচিব, জজ, ব্যারিষ্টার হত। প্রতিবছর এই দিনে বেনাপোলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেদিন এই ঘটনায় শোক বার্তা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন। প্রতি বছর এই দিন আসলে আমরা বেনাপোলবাসী স্তব্ধ হয়ে যাই। অকালে ঝরে গেল আমাদের এই জনপদের আমাদেরই ৯ টি সন্তান। এরপর নিহতদের আতœার মাগফেরাত এর জন্য দোয়াও মোনাজাত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা আওয়ামলীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য ও বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, বেনাপোল পৌর প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মোজাফফার হোসেন, বেনাপোল পৌর আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম এর সভাপতি রহমত আলী, পৌর যুবলীগ এর আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ. পৌর কাউন্সিলার মিজানুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মাদ আলী. যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কার্যকরি সদস্য জাকির হোসনে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৭ জন শিক্ষার্থী। আহত হয় আরো ৭০ জন শিশু শিক্ষার্থী ও ৩/৪ জন শিক্ষক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জন শিক্ষার্থী মারা যান। ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো, বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী আঁখি (১১)। ১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ইকরামুল (১১) সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।

ঝরে যাওয়া ফুল ফিরে পাবেনা পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে অশ্রুতে স্মরন করলো ৮ বছর পর আবারও বেনাপোলবাসি। নিহতদের স্মৃতি স্তম্ভে বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।