বাঘারপাড়ায় টাকা ছাড়া মিলছে না ভাতাভোগীদের কার্ড !

0
40

বাঘারপাড়া প্রতিনিধি

যশোরের বাঘারপাড়ায় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিধবা (স্বামী পরিত্যক্তা) ভাতাভোগীদের কার্ড প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাউন্ট খোলা বাবদ, অফিসে টাকা লাগবে, চেয়ারম্যান টাকা নিতে বলেছেন এমন অযুহাত দেখিয়ে ভাতাভোগীদের কাছ থেকে কতিপয় ইউপি সদস্যরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই ধার দেনা করে টাকা পরিশোধ করে কার্ড নিচ্ছেন। এমনকি টাকা না দেওয়ার কারণে ভাতাভোগীদের কার্ড ছাড়া ফিরিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের। তবে অর্থের বিনিময়ে কার্ড প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন খোদ ইউপি সদস্য মতিয়ার বিশ্বাস ও বাবুল আক্তার।

জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় শতভাগ ভাতার আওতায় আনার জন্য বাসুয়াড়ি ইউনিয়নে সাড়ে সাত শতাধিক ভাতাভোগীর নাম চুড়ান্ত করে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিনা খরচে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে ভাতার কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তবে আইন অমান্য করে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিয়ার বিশ্বাস ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আক্তার একাধিক ভাতাভোগীর কাছ থেকে ১’শ থেকে শুরু ৫’শ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাতাভোগী জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদে টাকা লাগবে এমন কথা বলে বাবুল মেম্বর ৩’শ টাকা করে আদায় করেছেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন তিনি (মেম্বর)।

অন্যদিকে মতিয়ার মেম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য এবং চেয়ারম্যান নির্দেশ অনুযায়ী সকলের কাছ থেকে টাকা ৫’শ টাকা করে আদায় করেছেন। এসব দাবি মেটাতে ধার দেনা করে মেম্বরকে খুশী করেছেন অসহায় ভাতাভোগীরা।

ইউপি সদস্য বাবুল আক্তার অভিযোগের বিষয়ে জানিয়েছেন, ভাতাভোগীদের কাছ থেকে মিষ্টি খাওয়া বাবদ কিছু টাকা পয়সা নেওয়া হয়েছিল। পরে জানাজানি হলে তা ফেরত দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য মতিয়ার বিশ্বাস অভিযোগের বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হওয়ায় তারঁ বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সমাজসেবা কর্মকর্তা এটিএম মাসুদ হোসেন জানান, টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি তোলা হবে এবং নির্বাহী অফিসারকে জানানো হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম অবুজর গিফারী বলেন, সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।