ফুলতলায় মুসলিমা হত্যাকান্ডের ১৫ দিন অতিবাহিত, আতঙ্ক কটেনি পরিবারের লোকজনের

0
28

ফুলতলা প্রতিনিধি

ফুলতলায় চাঞ্চল্যকর মুসলিমা হত্যাকান্ডের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অসুস্থ পিতাসহ পরিবারের লোকজনের আতঙ্ক কটেনি এখনও। ফুলতলার ভাড়াবাড়ি ছেড়ে তারা এখন বসবাস করছে সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে। পুলিশ খন্ডিত মাথা উদ্ধারের পর ডিএনএ টেস্টের জন্য প্রেরণ করেছে কিন্তু রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে আরও কয়েক দিন।

এদিকে ফুলতলাসহ পরিবারের লোকজন বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। হত্যাকান্ডের প্রধান ২ আসামী রিয়াজ খন্দকার ও সোহেল গাজী’র ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তীতে তাদেরকে বাড়িভাড়া প্রদানকারী মুনছুর (৮০) ও ইউসুফ (৬৩) নামের ২ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামীরাই ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসি (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ জানান, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। থানার অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস তালুকদার জানান, এ ঘটনার পর থেকে ফুলতলার সন্ত্রাসীদের কড়া নজদারীতে আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৮ টায় মুসলিমাকে উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামের একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষন করে রিয়াজ খন্দকার ও সোহেল গাজী। পরে, সেখান থেকে নিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ঘেরের পাড়ে। সেখানে বটি দিয়ে তার মাথা দ্বিখন্ডিত করে বিবস্ত্র অবস্থায় শরীর ফেলে রাখে ধানক্ষেতে আর মাথা নিয়ে যায় একটি জনমানবহীন নির্মানাধীন বাড়িতে।

সেখানে ঘরের বাথরুমে মাটি খুড়ে পুতে রাখে খন্ডিত মস্তক ও ব্যবহৃত ওড়না, বোরকাসহ কাপড় চোপড় এবং মুসলিমার ব্যবহৃত মোবাইল একটি পুকুরে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডের ৩ দিন পরে র‌্যাব- ৬ পুলিশের সহায়তায় চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে সোহেলকে নিজ গ্রাম থেকে এবং রিয়াজকে ফরিদপুর জেলার কানাইপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

গত ২৬ জানুয়ারী নিহতের বোন আকলিমা বাদি হয়ে ফুলতলা থানায় হত্যা মামলা (নং- ১৩) দায়ের করে। ৩০ জানুয়ারী রিয়াজ খন্দকার ও সোহেল গাজী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।