শার্শার কন্যাদাহ বাওড়ে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আহরণ এর অভিযোগ

0
64

বেনাপোল প্রতিনিধি

শার্শার কন্যাদাহ বাওড় নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম প্রকৃত মৎস্যজীবিদের ভয়ভীত দেখিয়ে দুরে সরিয়ে রেখে প্রভাবশালী কর্তৃক বাওড় পরিচালনা এবং উপজেলা মৎস অফিসারের শেয়ার থাকা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। ইফাদ বাংলাদেশ লিঃ এর সাথে ৫০ বছরের চুক্তি থাকলেও মেয়াদাত্তীর্নর আগে সে চুক্তি বাতিল করে দেয় ভুমি মন্ত্রনালয়। এরপর জেলা প্রশাসন টেন্ডার আহবান করলে মৎস্যজীবিরা উচ্চ আদালতে মামলা করে। ওই মামলার কারনে বাওড়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও সফলভোগিরা বাদে এলাকার ক্ষমতাধর প্রভাবশালীরা ইতিমধ্যে জালাসি (মৎস্য আহরণ ) করেছে। এবং বুধবার ও বড় আকারের মৎস্য আহরনে নামবে বলে বাওড় পাড়ের মানুষেরা অভিযোগ করে।

কন্যাদাহ বাওড় পাড়ের শ্যামল চন্দ্র, হরিপদ গাইন জানায়, আমরা দীর্ঘদিন এখানে মাছ শিকার করে সংসার চালাতাম। এখানকার সাবেক চেয়ারম্যান আয়নাল হক তার একটি দুর্বৃত্ত দল নিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়ে মাছ ধরে। তারা রানী মাছ ও আমাদের ধরতে দেয় না। ইতিমধ্যে তারা প্রায় ২০ লাখ টাকার রানী মাছ আহরণ করেছে। আর আমরা অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছি।

স্থানীয় মৎসজীবি সুবিধাভোগিরা জানায় উচ্চ আদালতে আমরা একটি মামলা দায়ের করেছি। তবে এখানকার প্রভাবশালী সাবেক চেয়ারম্যান আয়নাল হক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাছ আহরন করে আমাদের বঞ্চিত করছে মৎস্য শিকার থেকে। আমাদের সনাতন ধর্মের অধিকাংশ মানুষ এই মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত। মাছ ধরতে না পেরে আমরা অসহায় ভাবে মানবতার জীবন যাপন করছি। এছাড়া ওই অত্যাচারী বাহিনীর নির্যাতনে অনেকে ভারতও চলে গেছে।

এব্যাপারে শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিসার হাসান পলাশ জানায়, ভুমি মন্ত্রনালয়ের সাথে মৎস্য অধিদপ্তরের ৫০ বছরের চুক্তি ছিল। তবে ভুমি মন্ত্রনালয়ের সাথে মৎস্য অধিদপ্তরের আর চুক্তি না হওয়ায় ইফাদ বাংলাদেশ লিঃ এর সাথে আর কোন চুক্তি মৎস্য অধিদপ্তরের হয়নি। ওখানকার সুফলভোগীরা হাইকোটে একটি মামলা দায়ের করেছে। আমাদের সাথে বর্তমানে ওই বাওড়ের কোন সর্ম্পক্ততা নেই। আপনি ওই বাওড়ের একটি শেয়ার হোল্ডার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না ভাই আমার এত পয়াসার প্রয়োজন নেই । আমি কেন শেয়ার হতে যাব।

এ ব্যাপারে উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, যারা জোর করে জবর দখল করে খাচ্ছে এটা আর হবে না। আমরা চাচ্ছি যাদের এটা প্রাপ্য তারা এইটা উপার্জন করে খাক। এ বিষয় আমার সাথে উপজেলা মৎস্য অফিসার এর সাথেও কয়েক দফায় আলাপ হয়েছে । আমাদের আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই একটায় চাওয়া যারা প্রকৃত জেলে পেশার লোক তারা এটা ভোগ দখল করে খাবে সেই ভাবে আমরা কাজ করব।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।