জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম : ঝিকরগাছায় ভোগান্তির শীর্ষে গদখালী ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ

0
70

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার অর্ন্তগত ৪নং গদখালী ও ৬নং ঝিকরগাছা (সদর) ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে ভোগান্তির শীর্ষে রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিতে চান না, তবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমে তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জন্মনিবন্ধনে নাম সংশোধনের সরকারি ফি ৫০ টাকা, জন্ম সাল-তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকার সাথে ২০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। তবে প্রশাসনের এই বক্তব্য থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তারা মানতে নারাজ। তারা প্রায় সময় জন্মনিবন্ধন করে দিতে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয় উপজেলা প্রশাসন কড়া হুঁশিয়ারি থাকলেও সাধারণ মানুষের সাথে শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি কোনো মতে কমছে না।

জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে ভোগান্তির বিষয়ে ৪নং গদখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাজান আলী মোড়লের ভাইপো সুপ্রিম কোর্টের এ্যাড. আব্দুল্লাহ আল মামুন সচিবের দূর্নীতি বিষয়ে ফেসবুকে লাইভ গিয়ে সচিবের নিকট তার দূর্নীতির বিষষে জানতে চান। ঠিক সেই লাইভ ভিডিওতে ইউনিয়নে সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হয়ে তাদের বক্তব্যে সচিব এমএমআর মাহবুব এর বিষয়ে গদখালী গ্রামের তহমিনা ঝর্ণা বলেন, আমার জন্ম নিবন্ধন ঠিক করার জন্য ৭শত ৫০টাকা নিয়েছে কিন্তু এখনো ঠিক করে দেয়নি। রাসেল আহমেদ মুস্তাক বলেন, জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আমার নিকট হতে ২হাজার টাকা নিয়েছে। মাহফুজ আহমেদ বলেন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য তার স্ত্রীর নিকট ৫শত টাকা নিয়েছে। গদখালী পটুয়াপাড়া গ্রামের জীবন বলেন, আমার ভাগ্নের নিকট থেকে ১হাজার টাকা নিয়েছে কিন্তু এখনো জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে দেননি। এছাড়াও বেনেয়ালী বালিখোলা গ্রামের আসাদুল জামান বলেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ট্রেড লাইন্সেস নিতে পরিষদের গেলে তার নিকট থেকে ৫শত টাকা নিয়েছে। কিন্তু ট্রেড লাইন্সেস ফি ৩শত টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যান্য খরচের হিসাবের জন্য টাকা নিলেও সেটার কোন রশিদ দেননি সচিব সাহেব।

৬নং ঝিকরগাছা (সদর) ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের শিক্ষার্থী রুবেল বলেন আমাদের ১০জনের নিকট হতে ৩মাস আগে ৪হাজার ৫শত টাকা নিয়েছে কিন্তু এখনো কোন কাগজপত্র পায়নি। ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের তন্নী, শ্রীরামপুর গ্রামের মাজেদা, হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের সাগর, তানিয়া, আরিফুল সহ একাধিক মানুষের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মুজাহিদুল ইসলাম রাসেল ও সোহানা আক্তার সরকারি ফি এর থেকে বেশী টাকা নিলেও প্রায় ৬-১২মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তাদের জন্ম নিবন্ধন পাওয়ার আশা মেলেনি। ২০২২ সালের বছরের প্রথম মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে তবে বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করতে আমাদের জন্মনিবন্ধন দরকার কিন্তু এখনো তারা আমাদের সাথে তালবাহানা করছে। ইউনিয়ন থেকে ট্রেড লাইন্সেস দিতে সচিবকে একাধিক রশিদ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মুজাহিদুল ইসলাম রাসেল ও সোহানা আক্তার যে ভাবে সাধারণ মানুষের সাথে আচার-ব্যবহার করছে তার কারণে যে কোনো সময় তাদের সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝিকরগাছার অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেবা এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাস্টার আশরাফুজজামান বাবু বলেন, দীর্ঘদিনের এই জনভোগান্তি দূর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে মানুষজনকে ভোগান্তিতে ফেলছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্নীতি করতে আর কেউ সাহস না পায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের নিকট বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি।

৪নং গদখালী ইউনিয়ন সচিব ও ৬নং ঝিকরগাছা (সদর) ইউনিয়নের (অঃ দাঃ) সচিব এমএমআর মাহবুব বলেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে সরকারি ফি’র সঙ্গে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়। আমি ঝিকরগাছা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন টাকা খাই না। বরং আমার পকেট থেকে দুপুরে হোটেলে খাবার খেতে হয়। গদখালী ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওখানের কথা বললে আমি মেনে নিতে পারি।

ঝিকরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন বলেন, আমার এই ইউনিয়নের সচিব মারা যাওয়ার পরে গদখালীর সচিব সপ্তাহের দু’দিন সোমবার ও বুধবার ইউনিয়নে এসে কম বেশি মানুষকে সেবা দেয়। তবে আমাদের ইউনিয়নের জরুরী ভিত্তিক সচিবের দরকার। জন্মনিবন্ধন সংশোধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ফি’র বাইরে সচিবের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, আমরা মৌখিক অভিযোগ পায়। সেহেতু কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনা। তাদের বিরুদ্ধে যদি লিখিত অভিযোগ পায় তাহলে আমি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে পারি কিন্তু দুঃখের বিষয় মৌখিক অভিযোগ পায়, তবে লিখিত অভিযোগ পায়না। যার জন্য আমার কিছু করার থাকেনা। একজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।