চাঞ্চল্যকর মুসলিমা হত্যাকান্ডের দুই আসামী গ্রেফতার, খন্ডিত মাথা উদ্ধার

0
78

মঈন উদ্দিন ময়না, ফুলতলা

ফুলতলায় চাঞ্চল্যকর মুসলিমা হত্যাকান্ডের প্রধান ২ আসামী সোহেল ও রিয়াজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব- ৬, সাথে সাথে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের খন্ডিত মাথা ও ধারাল অস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই যুগ্নীপাশা উত্তরপাড়া এলাকা ঘেরাও করে রাখে র‌্যাব- ৬ এর সদস্যরা। পরে বেলা সাড়ে ১১ টায় র‌্যাব- ৬ এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও আসামীদের উপস্থিতিতে এক এক করে জানা যায় মুসলিমাকে হত্যা করার সেই নৃসংশ সব কাহিনী।

আসামীদের স্বীকারোক্তিমতে, গত ২৫ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৮ টায় প্রথমে মুসলিমাকে একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষন করা হয়। পরে, সেখান থেকে নিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ঘেরের পাড়ে। সেখানে বটি দিয়ে তার মাথা দ্বিখন্ডিত করে বিবস্ত্র অবস্থায় শরীর ফেলে রাখে ধানক্ষেতে আর মাথা নিয়ে যায় একটি জনমানবহীন নির্মানাধীন বাড়িতে। সেখানে ঘরের ভেতর মাটি খুড়ে পুতে রাখে খন্ডিত মস্তক ও ব্যবহৃত ওড়না, বোরকাসহ কাপড় চোপড় এবং মুসলিমার ব্যবহৃত মোবাইল একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস তালুকদার জানান, আসামী রিয়াজ (২২) উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামের মোশাররফ এর পুত্র, ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও সন্তানের জনক এবং সোহেল (২০) একই গ্রামের শিলন এর পুত্র। হত্যাকান্ডের ৩ দিন আগে রিয়াজের সাথে মোবাইলে প্রথম পরিচয় হয় মুসলিমার। পরে হত্যাকান্ডের ছক কষতে গিয়ে সোহেলকে কাজে লাগায় রিয়াজ।

র‌্যাব- ৬ এর চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে সোহেলকে নিজ গ্রাম থেকে এবং রিয়াজকে ফরিদপুর জেলার কানাইপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। আসামীরা আরও জানায়, মুসলিমাকে ধর্ষন করার পরে সে তার মোবাইল দিয়ে একটি এসএমএস পাঠালে ধরা পড়ার ভয়ে তারা তাকে খুন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ভারতীয় চ্যানেলে ক্রাইম পেট্রোল দেখে তারা এ ধরনের নৃসংশ হত্যাকান্ডে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারের পরপরই খন্ডিত মাথা পোস্টমর্টেমের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহতের বোন আকলিমা বাদি হয়ে হত্যা মামলা (নং- ১৩, তারিখ- ২৬/০১/২২ ইং) দায়ের করে।