কেশবপুরে অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বন্ধের দাবি

0
44

মশিউর রহমান, কেশবপুর

যশোর-চুকনগর সড়ক প্রশস্তকরন প্রকল্পের কেশবপুর শহরের ট্রাক টার্মিনাল অংশে অধিগ্রহন না করেই ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবর দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীরা সরকারী নিয়ম মেনে রিকুইজিশন করে নায্য পাওনা পরিশোধ করে তাদের জমি নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী হওয়ায় জোরপূর্বক জমি দখল করে রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ চলমান রেখেছেন। এতে শতাধিক জমির মালিক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে পারছেন না। নিরুপায় হয়ে এক ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে পৌর শহরের মধ্যকুল এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শহীদ উল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যশোরের রাজারহাট থেকে কেশবপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান আছে। কেশবপুর বাজারের উত্তর মাথায় অবস্থিত ব্রিজ থেকে ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ বাকি আছে। রাস্তার বাঁক থাকায় এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। রাস্তার কাজ শুরু হওয়া থেকে দুর্ঘটনা কমাতে রাস্তার পশ্চিম পাশের প্রশস্ত করে রাস্তা সোজা করার ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দাদের জোর দাবি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই কাজ শুরু হওয়ার তোড়জোড় দেখা দিয়েছে।

২৭/০১/২০২২ ইং তারিখ থেকে রাস্তা প্রশস্ত করতে রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত আমার ৭৫ নং মধ্যকুল মৌজার ৭২৭ খতিয়ানের ৩৮২৬ দাগের ২০ শতক জমির সামনের পজিশনে দোকান ঘরসহ জমি লাগবে বলে মৌখিকভাবে জানায়। রাস্তার পশ্চিম পাশে সরকারি জমি রেখে পূর্ব পাশের ব্যক্তিগত জমিতে রাস্ত করলে সরকারি সম্পদের অপচয় হবে বলে মনে করি। যা কখনো কাম্য নয়। তাছাড়া সরকারি নিয়ম মেনে অধিগ্রহণের চিঠি বা জমির পরিমাপ না করেই এভাবে ব্যক্তিগত জমি নিতে চাওয়ায় আশেপাশের অন্যান্য বাসিন্দাদের ন্যায় আমিও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। সরকার এই জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে নিতে চাইলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।

অন্যদিকে, টার্মিনাল পর্যন্ত মাটি ভরাট করার ফলে কিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তি রাস্তার ভিতরে পড়েছে। যা অধিগ্রহণ বা মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ভরাট করা হয়েছে। বর্তমানে ঐসব জমির মালিকেরা ন্যায্য প্রাপ্য পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

উল্লেখ্য, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য আমার জমির যে অংশ লাগবে বলে জানতে পেরেছি, উক্ত যায়গায় দীর্ঘদিন যাবত চার টি পাকাঘর বিশিষ্ট দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। দোকানের পিছনেই রয়েছে বসত বাড়ি। দোকানের এডভান্স বাবদ মোটা অংকের টাকা জমা নিয়ে দোকান মেরামত করা হয়েছে। যা আমার পক্ষে এখন ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া দোকানগুলোতে লাখ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে। দোকান ঘর ভাঙা পড়লে এসব ব্যবসার উপর্যুপরি ক্ষতি হবে। এমনকি, দোকান অন্যত্র চলে যেতে পারে। এতে করে আমার রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমতাবস্থায়, রাস্তার বাঁক সোজা না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং একইসাথে প্রাপ্য মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ব্যক্তিগত জমিতে রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে তিলে তিলে গড়া সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে। এবিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্র্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। অন্য দপ্তর হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের দপ্তরের প্রেরণ করা হয়েছে।

যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোর-চুকনগর সড়কটির দৈঘর্য ৩৮ দশমিক ২৬৫ কিলোমিটার। ফোর লেনে উন্নত করণে সরকার ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর একনেকের সভায় ৩শ’ ৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটি পাশ হয়। সড়কটিতে নতুন করে ভিত নির্মাণের মাধ্যমে দুই লেনে ১০.৩০ মিটার বা ৩৪ ফুটে উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে পাস হয়। প্রকল্পটির কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যশোরের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।