মাগুরায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

0
68

সত্যপাঠ ডেস্ক

সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের পরিপূরক ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি জন্ম নেয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে জন্মলগ্ন থেকেই সোচ্চার এই সংগঠন শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনসহ সকল প্রকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বকারী ছাত্র সংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৫ জানুয়ারি ২০২২ সকাল ১১টায় মাগুরা জেলা প্রেসকাবের সামনে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । সংগঠনের জেলা শাখার আহ্বায়ক কেয়া বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সদস্য ঐশী বিশ্বাসের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা শহর শাখার সাবেক আহ্বায়ক সোহেল মুন্সী ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সবকিছু খোলা রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত অবিবেচনাপ্রসূত ও অযৌক্তিক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে প্রহসনের নামান্তর । দেশের সবকিছু চলছে আগের মতই। এমনকি বাণিজ্য মেলাও বন্ধ নেই। উপরন্তু বাণিজ্য মেলায় যাতে মানুষ যাতায়ত করতে পারে তার জন্য বিশেষ বাস সার্ভিসও রাখা হয়েছে। তবে সরকারের কাছে করোনা মোকাবেলার একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া। ২০১৯ সাল থেকে করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে ছিল। এতেই শিক্ষা ব্যবস্থার এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার বদলে সরকার আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এক গভীর সঙ্কটের মুখে পতিত হবে। অনলাইন শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু দেশের প্রায় ৯৪ ভাগ গ্রামীণ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষার আওতার বাইরে ছিল বলে পত্রিকায় এসেছে। তাই কোন রকম গবেষণা বা পর্যালোচনা ছাড়া এভাবে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজকে চরম সংকটের মুখোমুখি করবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রীসহ বিভিন্ন বর্ষের চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। অনেক বিভাগের আর মাত্র একটা/দুইটা পরীক্ষা হওয়া বাকি ছিল। অথচ কোন অজানা কারণে তাদের শিক্ষাজীবন আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে গেল।

নেতৃবৃন্দ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানান এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের দাবি জানান ।

বক্তাগণ আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি ছাড়াও মাগুরা জেলায় শিক্ষার মানের বেহাল দশা দেখতে পাওয়া যায়। প্রতি বছরই যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন পাশের হার মাগুরায়। এই জেলায় কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার মানও ভালো না।

সমাবেশ থেকে বক্তাগণ শিক্ষাক্ষেত্রে এ সকল সংকট দূর করতে ঐক্যবন্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ।