রাতের আধারে চলছে কারবার, যশোরে বেপরোয়া ভেজাল সারকারবারীরা

0
40

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

হঠাৎ করে পুলিশ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তৎপরতা শুন্যর কোটায় যাওয়ায় এই দু’ দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় ইটের সুরকি, চুন, মাটি, বালিসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরী হচ্ছে ভেজাল দস্তাসার। ইরি মৌসুমে বাম্পার বেচাকেনার টার্গেট নিয়ে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া ভেজাল সার উৎপাদনকারীরা নিজেদের লেবাস পাল্টিয়েছে।

তারা বিভিন্ন কৌশল নিয়ে পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মচারীদের সাথে যোগসাজস রেখে রাতের আধারে তৈরী করা হচ্ছে ভেজাল দস্তাসার। আর এই ভেজাল দস্তা সারের উৎপাদনকারী কথিত ব্যবসায়ী জেলরোডস্থ এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও ঘুরুলিয়ার রাজু সব সময় থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

কথিত ভেজাল সার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ইতিহাস ঘাটাঘাটি করে জানাগেছে, তার সহোদরেরা এই ভেজাল সার উৎপাদনকারী হিসেবে এই সমাজের কাছে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। যশোর সদর উপজেলার আড়পাড়ায় ভেজাল সারের আস্তানা গেড়েছে ওই এলাকার শহিদুল ইসলাম। তিনি যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকার ভেজাল সার কারবার করে গড়ে তুলেছে বিশাল ভবন। ওই ভবনের নীচে শহিদুল ইসলাম তার সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রি অফিস করেছেন। তিনি তার ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি করে একটি সাইন বোর্ড দিয়েছেন। তাতে রয়েছে সিমেন্ট, সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী। তিনি তার কথিত সার কারখানায় তৈরীকৃত ভেজাল জিঙ্ক সালফেড, বিভিন্ন ব্রান্ডের যে পরিমানের হেপটা তৈরীর দরকার তার না করে তিনি সম্পূর্ন নিন্ম মানের ভেজাল হেপ্টা তৈরী করছেন।

শহিদুল ইসলাম তার কারখানায় তৈরীকৃত ভেজাল হেপ্টা দেশের বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানীর মোড়ক নিজের মতো ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বাজারজাত করছে। শহিদুল ইসলামের ন্যায় ঘুরুলিয়ার বাসিন্দা এ আর এগ্রো কেমিক্যালের মালিক রাজু আহমেদ বর্তমানে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ভেজাল সার উৎপাদনকারী হিসেবে বেশ পরিচিত। তারা দু’জন সার তৈরীর অনুমোদন হিসেবে সরকার সমর্থক দপ্তরগুলো হতে নামকে ওয়াস্তে কাগজপত্র সংগ্রহ করে রেখেছেন। যাতে তাদের ব্যবসায়ী বড় ধরনের কোন ক্ষতি না হয়।

সুফলা ও এআর এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ নামক দু’টি প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসার ধরন ভেজাল সার উৎপাদন ও দেশের বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানীর মোড়ক নিজের মতো করে ছাপিয়ে ভেজাল সার মোড়ক জাত করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বাজারজাত করা। তাদের এই দু’জনের মালামাল যশোর অঞ্চলের কৃষকেরা ব্যবহার করেন না। তার কারণ যশোরের কৃষকেরা শহিদুল ইসলাম ও রাজু আহমেদকে একজন ভেজাল দস্তা সার উৎপাদনকারী হিসেবে খুব ভাল করে চেনেন। তার কারণ তাদের ভেজাল সার কারখানায় গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা অভিযান চালিয়ে সীলগালা করার পাশাপাশি হাতে হ্যান্ডকাপ পর্যন্ত উঠেছিল একজনের হাতে।

সূত্রগুলো বলেছেন, সুফল এগ্রো কেমিক্যাল নামক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন হয় ৫জি কীটনাশক, তৈরী করেন ফুরাডান ৫জি দানা। উক্ত কারখানায় এসব উৎপাদনের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ নামক এই সার কারখানায় অভিযান চালালে মিলবে ভেজাল করার উপকরণ। শহিদুল ইসলাম তার কারখানায় উৎপাদিত সামগ্রী তার গোপন গোডাউনে মজুত রাখেন।

অপরদিকে, রাজু আহমেদ তার ভেজাল উৎপাদিত সার ও ফসলে ব্যবহারকৃত সামগ্রী মোড়কে পুরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করছেন। পাচারের জন্য রাজু আহমেদ তার নিজস্ব পিকআপ ও যানবাহন ব্যবহার করেন।

সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ ও এআর এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ উৎপাদিত ভেজাল সার ও কৃষি পন্যর ব্যাপারে শহিদুল ইসলাম এবং রাজু আহমেদ এর কাছে সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় জানতে চাইলে তারা দু’জন বলেন, তাদের মান সম্পন্ন ল্যাব রয়েছে। তারা বৈধভাবে সার উৎপাদনের ব্যবসা করছেন। তাহলে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানীর মোড়ক ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অবিলম্বে যশোর সদর উপজেলার এই দু’টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালে মিলবে ভেজাল সার ও ভেজাল সার উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ।