অভিশপ্ত ভবদহ : জলাবদ্ধতার থেকে মুক্তির দাবিতে ডিসি অফিস চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু

0
124

সত্যপাঠ ডেস্ক 

অভিশপ্ত ভবদহ এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার থেকে মুক্তির দাবিতে ডিসি অফিস চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। রবিবার (৯ জানুয়ারি) থেকে ‘যশোরের দুঃখ’ ভবদহ পাড়ের মানুষ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে লাগাতার এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকাবাসীর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার থেকে শুরু হওয়া লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে যশোরের জেলা প্রশাসন চত্বরে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রভাবশালী রাজনৈতিকদের ‘টাকা কামানোর মেশিন’ করা হয়েছে ভবদহকে। তাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করে টিআরএম বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার থেকে শুরু হওয়া যাওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে বেশ কিছুদিন ধরে তারা গ্রামে গ্রামে প্রচারণা, জলাবদ্ধ এলাকার মানুষদের নিয়ে উঠান বৈঠক, হাট সভা করে আসছেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার প্রথম দিন বেলা ১টা থেকে শুরু হয় এই কর্মসূচি। আর সোমবার থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ২০২০ (রোববার) ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে ২য়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। উক্ত স্মারকলিপিতে বলা হয়- দ্রুত তাদের দাবি মানা না হলে ডিসি অফিস চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

এখন চলছে বোরো মৌসুম। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ভবদহ এলাকার গ্রামে গ্রামে এখনো পানি জমে আছে। অনেকের উঠানে এখনো কোমর পানি। ফলে শত শত একর জমি এবার আবাদ না হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ফলে কৃষির উপর নির্ভরশীল এই জনপদের মানুষ আছেন মহাসংকটে। তবে এই সংকটকে পুঁজি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও একশ্রেণির স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দিনের পর দিন।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতাদের দাবি, ভবদহ অঞ্চলকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। একই সাথে মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়া টিআরএম চালু করতে হবে।

টিআরএম প্রকল্প গ্রহণ না করে ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার নদী মেরে ফেলা হয়েছে। এক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের নদী বাঁচানোর গৃহীত নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা জনগণকে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় জিম্মি করে অর্থ লোপাটের স্থায়ী পরিকল্পনা ফেঁদেছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সহজ ও পরীক্ষিত সমাধান টিআরএম না করার জন্য জেদ ধরেছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজসে ভবদহবাসীকে ডুবিয়ে মারার একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমরা দাবি করছি আমডাঙ্গা খাল প্রসস্থ করে খনন, বিল কপালিয়ায় টিআরএম এবং পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম চালু করে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও জলাবদ্ধতার অবসান এবং উজানে পদ্ম-মাথাভাঙ্গা-ভৈরবের নদী সংযোগের সাথে মুক্তেশ্বরী নদীকে যুক্ত করে প্রবাহমান করার। তা হলেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে প্রতিশ্রুতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের সাথে অব্যাহত প্রতারণা করা হচ্ছে। এজন্য দাবি আদায়ে আমরা এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছি।