বাঘারপাড়ার বারভাগ দক্ষিণ বিলের জলাবদ্ধতা নিরাসনের ড্রেনেজ কাটার কাজ থমকে দাঁড়িছে কুচক্রী মহলে চক্রান্তে

0
11

বসুন্দিয়া প্রতিনিধি

বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ বিলের জলাবদ্ধতা নিরাসনের লক্ষে গ্রামবাসীর উদ্যোগে রাস্তা ঘেষে ড্রেনেজ কাটা নিয়ে আবারও জটিলতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ জনগনের সাথে প্রতারণা করছে একটি কুচক্রী মহল।

উপজেলার বারভাগ দক্ষিণ বিলে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের কেটে পানি নিষ্কাশনের পথ গুলো বন্ধ করে দিয়ে গত আট দশ বছর ধরে ভবদাহের মত জলাশয়ে পরিনত করে দিয়েছে কিছু অসাধু ব্যক্তি।

বিগত বছর গুলোতে শত শত অনাবাদি জমি ঘাস জঙ্গলে পরিপূর্ণ। কয়েকবছর যাবত গ্রামবাসী পানি বের করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবে নানা বাধার সম্মুখীনে সম্ভব হয়নি।

এমতাবস্থায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলা চাষিরা উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার সহ সমাজ প্রতিদের দ্বারস্থ হলে গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এলাকার কৃষকদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের মত বিনিময় বৈঠক করা হয়।

২ জানুয়ারি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিল রক্ষাকারি একটি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের পর সিদ্ধান্ত নেয় গ্রামবাসী ৫ জানুয়ারি থেকে বিলের রাস্তা ঘেষে ড্রেনেজ কেটে উত্তর বিলের সংযোগ খালের সাথে মিশিয়ে দেয়ার। ওই দিন সকাল থেকে ড্রেনেজ খননের কাজ চলতে থাকে শত শত কৃষকের উপস্থিতিতে। এরই মধ্যে একটি মহল চক্রান্ত করে দুপুরের পর বন্ধ করে দেয় মামলা মকদ্দমার ভয় দেখিয়ে। থেমে না গিয়ে এলাকার খেটে-খাওয়া মানুষ ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে আবারও ড্রেনেজ খননের কাজ চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে ষড়যন্ত্রকারি মহল গ্রামের কয়েকজন কৃষকের নামে কোর্টে মিথ্যা মামলা করেছে বলে হুলিয়া ছড়িয়ে দেয় কুচক্রীদের পক্ষ থেকে।

এখবর পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে মাত্র ২০০ ফুট ড্রেনেজ খননের কাজ বাকি রেখেছে বাস্তবায়ন কমিটি।

সরেজমিনে দেখতে গেলে কৃষকরা বলেন, এই ২০০ ফুট রাস্তার পাশে একজন বর্গা চাষি বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আরো বলেন, দুইদিন সময় চেয়েছিলেন জনগনের কাছে তাও দিয়েছিলেন শত শত কৃষক। কিনে আশানুরূপ সংবাদ এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন কমিটিকে জানানো হয়নি।

কথা হয় গ্রামের কয়েকজন সাধারণ কৃষকের সাথে জাবের হোসেন মোল্যা, মশিয়ার রহমান মোড়ল, রফিকুল ইসলাম মোল্যা, রেজাউল ইসলাম, হারিজা, লিটন হোসেন, শামায়ন মোড়ল সবাই একবাক্যে জানান, বাকি ২০০ ফুট এর মত রাস্তা ঘেষে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মোস্তফা বিশ্বাস ষড়যন্ত্র করে মৎস্য ঘের কেটে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে রেখেছে। যারফলে তিন ফসলে শ’শ’ বিঘা জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে সারা বছর। কোনরকম বোরোধান আবাদ হয় কিছু জমিতে। জলাশয়ে পরিনত হয়ে থাকে অনেক জমি বছর জুড়ে।

কথা হয় বিল রক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যাক্তা সাবেক ইউপি সদস্য সমাজ সেবক মিজানুর রহমান রকসার সাথে তিনি বলেন, কৃষকের মুখের দিকে তাকিয়ে একটি মহতি উদ্যোগ নিয়েছিলেন যাতে বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়। আগের মত বিল ধরে সোনালি ফসলে ভরে যাক তাতে হাসি ফুটবে চাষিদের। কথা হয় ইউপি সদস্য শেখ শাহাবুদ্দিন এর সাথে তিনি বলেন, জনগনের মঙ্গল চান। তাতে সর্ব সহযোগিতায় কৃষকের পাশে থাকবেন।

কথা হয় জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আরিফুল ইসলাম তিব্বত এর সাথে তিনি বলেন, কৃষকই সর্ব সুখের মুল। তিনি সাধ্যমত সহযোগিতা এবং পাশে থাকবেন।

এবিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এবিষয়টি তিনি জানেন। উভয় পক্ষকে সমঝোতার মধ্যদিয়ে কৃষি জমি বাচাতে হবে। তিনি আরো জানান, কৃষকদের পাশে থেকে দ্রুত জলাশয়ের নিরাসন করবেন।

বাঘারপাড়া উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা বাবু বিজন কুমার রায় ও বাবু কল্লোল কুমার হালদার এর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, গত বছর সরোজমিনে বিলটি পরিদর্শন করেছিলেন। কয়েক বছর ধরে জলাশয়ে পরিপূর্ণ আমন মৌসুমে ফসল হয় না। বোরোধান আবাদ হলেও অনেক জমি পড়ে থাকে। এবিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত সহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাস্তা ঘেষে ড্রেনেজ কাটার বাদী মোস্তফা বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।