ভবদহ অঞ্চলে পানিবন্দি ৮০ গ্রামের মানুষ : দুর্ভোগের পাশাপাশি চরম গো-খাদ্য সংকট

0
83

মিজানুর রহমান, মনিরামপুর

মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা সংলগ্ন ভবদহ অঞ্চলে সঠিক টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় অকাল বন্যার ন্যায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কবলে পানিবন্দি প্রায় ৮০ গ্রামের মানুষের পাশাপাশি তীব্র গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ভবদহ বিল পাড়ের গ্রামগুলো গোয়াল শুন্য হয়ে পড়েছে। তবে মুষ্টিমেয় বাড়ির গোয়াল ঘরে কিছু গরু থাকলেও শীত মৌসুমে বাড়ি-ঘর থেকে পানি না সরায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ভবদহ বিল পাড়ের গবাদি পশুও। ফসলের বিল পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ধানের আবাদ না হওয়ায় অর্থাভাবে ভবদহ অঞ্চলে গো-খাদ্য সংকটের কারন বলে এলাকাবাসীর দাবী। এছাড়া দীর্ঘদিন বাড়ি-ঘর থেকে পানি না সরায় ভবদহ বিল পাড়ের ৯০ শতাংশ গবাদি পশু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ভূক্তভোগিরা।

সরেজমিন ভবদহ বিল পাড়ের হাটগাছা, সুজাতপুর, ডহরমশিয়াহাটি, বাজে কুলটিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে গেলে মানুষের মানবেতর জীবন-যাপনের করুন চিত্র চোখে পড়ার পাশাপাশি গোয়াল শুন্য’র চিত্র চোখে পড়ে। এমনকি কোন বাড়িতে ছাগলের দেখা মেলেনি। কিছু বাড়ির গোয়াল ঘরে মাত্র কয়েকটি গরুর দেখা মিললেও তা পালনে বেগ পেতে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগিরা জানান।

বাড়ির উঠানে হাটু পানি থাকায় গোয়াল ঘর থেকে গরু কখনোই বের করা সম্ভব হয় না। ফলে দিনের পর দিন গোয়াল ঘরে রেখেই গরু লালন-পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

হাটগাছা গ্রামের মহেনতারা মন্ডল, রেনু মন্ডল, সুজাতপুর গ্রামের পূর্ণিমা মন্ডলসহ একাধিক নারী বলেন, নিজেরাতো কষ্টে আছি তার ওপর গরু নিয়ে রয়েছি চরম বিপদে। প্রায় সব গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়ির বাচ্চাদের দুধের জন্য দুয়েকটি গাভি রাখা হলেও তা লালন-পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক প্রকার বেশি দামে বিচালি কিনে গরু পালতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুলটিয়া গ্রামের শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডল জানান, তাদের গ্রামে ছাগলতো নেই দু’এক বাড়িতে গরু থাকলেও তা লালন-পালনে চরম কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। ভবদহ এরাকায় বছরের পর ধানের আবাদ না হওয়ায় বিচালির (খড়) চরম সংকট রয়েছে। এ কারনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচালি এনে এখানে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। বাধ্য হয়ে কিনতে হয় তাদের।

বিচালি বিক্রি করতে আসা উপজেলার খেদাপাড়া এলাকার বাবলুর রহমান বলেন, এখন সবখানে বিচালির সংকট। তারা রাজশাহি,নওগাঁ থেকে বিচালি কিনে এখানে বিক্রি করছেন। প্রতি কাউন সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকেন।জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ভবদহ বিলপাড়ের গ্রাম গুলোতে গবাদি পশু নেই বললেই চলে। যা ছিল তা আকাশ বৃষ্টি ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে ভবদহ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ বিক্রি করে দিয়েছেন।