দুদিনের অতিমাত্রার বৃষ্টি : বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, শাকসবজি ও রবিশস্যর ব্যাপক ক্ষতি

0
26

এস.এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া

ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে নিম্নচাপে ফলে দুদিনের অতিমাত্রার বৃষ্টিতে বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া অঞ্চলের নিচু এলাকা গুলোতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রবিশস্য শাকসবজি ও বোরো- ধানের বীজতলার, দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

বাঘারপাড়া উপজেলার অধিকাংশ বিলে মাঠে আমন ধান কাটতে বাকি রয়েছে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। তাছাড়াও ধান কাটা রয়েছে ক্ষেতে, ভাসছে পানিতে।

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সব থেকে বেশী ক্ষয় ক্ষতি ধারণা করা হচ্ছে রবিশস্যর। শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতিও কম নয়। এবছর বাঘারপাড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষ আবাদ করে ছিল চাষিরা। শাকসবজি চাষাবাদ হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩ শ” হেক্টর জমিতে।

তাছাড়াও ডাল জাতীয় শষ্য চাষাবাদ ১ শ” হেক্টরের বেশি। অগ্রহায়ণে কয়েকদিনের অতিমাত্রার বৃষ্টিতে পানি জমে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। বেশীর ভাগ ক্ষেত পানির নিচে এসব আবাদি ফসলের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভিটাবল্যা, তেঘরী, আদমপুর, জামদিয়া, ঘোড়ানাছ, বাকড়ী, বারভাগ, আলাদীপুর, বাসুয়াড়ী, জয়রামপুর, রাধানগর, বাগডাঙ্গা, সাইটখালী, মাহমুদপুর গ্রাম গুলো মাঠে আমন ধান অল্প দেখা গেলেও রবি ফসলের আবাদ চোখে পড়ার মত, ক্ষেত গুলোতে সাদা সাদা পানি জমে আছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা, চোখে মুখে হাসি নেই। নিচু এলাকার জন্য আগাম জাতের হাইব্রিড ধানের বীজ তলার উপরে পানি নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

এদিকে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত পানি বন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কিছু গ্রামে। শাকসবজি সহ রবিশস্যর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাঘারপাড়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিজন কুমার রায়, কল্লোল কুমার হালদারের সাথে যোগাযোগ করলে জানান, ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে ভারি বৃষ্টি হয়েছে, তাছাড়া একটানা দুদিন বর্ষা অতিমাত্রায় হওয়াতে সরিষা, ডাল জাতীয় ফসল সহ শাকসবজির ক্ষেতে পানি জমে শিকড় ও গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ মৌসুমেই রবিশস্য আবাদ হয়ে থাকে, শীতকালীন শাকসবজিরও চাষাবাদ বেশি হয়। ফসলের জমির আইল কেটে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে রক্ষা হবে এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন চাষিদের।