ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে যশোরের সবজিসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

0
83

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

ঘূর্ণিঁঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় যশোরেও বৃষ্টিপাত হয়েছে মুসলধারে। ৬ ডিসেম্বর সোমবারও যশোরে টানা বৃষ্টি অব্যহত ছিল। এদিন ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে টানা দু’দিন যশোরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে কৃষকের আলু, সবজি, সরিষা এবং পাকা আমন ধানের ক্ষতি হয়ে গেছে। অধিকাংশ কৃষকের ধান বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

যশোরে আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে ৫ ডিসেম্বর শনিবার থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পাত শুরু হয়। যা সোমবার রাত পর্যর্ন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি বেশী হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। আকাশ মেঘলায় আচ্ছান্ন থাকলেও বৃষ্টি পড়েনি যশোরের কোথাও।

আগামীকাল বুধবার ৮ ডিসেম্বর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানিয়েছেন। এদিকে টানা দু’দিনের বৃষ্টির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাঘাত ঘটছে।

সোমবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত যশোর জেলায় ৮২ মিলিমিটার যা দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্ব নিম্নছিলো ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রোববারও দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত যশোরে ছিলো ২৭ মিলিমিটার।

এছাড়া দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিন রেকর্ড করা হয় টেকনাফে ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর সর্বো নিম্ন তেঁতুলিয়া ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বৃষ্টিপাতে সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়বে। এদিকে, দুদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল থেকে খেটে খাওয়া মানুষকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের ভ্যান চালক জামাল আহম্মেদ বলেন, গত দুদিন ধরে বৃষ্টি ও শীতের কারণে ভ্যান চালাতে পারেনি রোজগারও নাই। কোনো আয় না থাকায় অনেক কষ্টের মধ্যে আছি।

ওই এলাকার রওশনারা বেগম নামের এক নারী বলেন, বৃষ্টি ও শীতের কারনে আমরা টিনের ঘরে বসবাস করতে কষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠে কাটা ধান ভিজে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, দুদিনআগে ১২ কাটা জমির আমন ধান কেটে রেখেছি।

যশোর সদরের চুড়ামণকাটি অঞ্চলের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান, এবার তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে ধান কাটা হয়ে গেছে। বিছালির ক্ষার জন্য মাচা করা হয়েছে। তবে মাঠের সবজির ক্ষতিহবে।

এই বিষয়ে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকবাদল চন্দ্র বিশ্বাসবলেন, যশোর জেলার কৃষকরা তাদের আমন ধান ঘরে নেওয়া শেষ পর্যায়ে। এই বৃষ্টিতে আমন ধান ঘরে তুলতে বৃষ্টি কিছুটা বাগড়া দিয়েছে। যদি এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের কিছুটা ক্ষতি হবে। সেই সাথে শীতকালিন সবজি, মসূর ও সরিষার ক্ষতি হবে। এতে কৃষিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারি অপু জানান, বৃষ্টির পানি যাতে পৌর এলাকায় না জমে সেজন্য ড্রেনগুলো পরিস্কার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে ৪৮ ঘন্টার টানা বর্ষণে সবজির ভান্ডার খ্যাত যশোরের সবজিসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুইদিনের ভারি বর্ষণে জমিতে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে শীতকালীন সবজি, ডাল, শরিষা, গম, বীজতলা সহ রবি মৌসুমের নানা ফসল। এতে চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

যশোর আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গত রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুইদিনে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যশোরে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, অসময়ে এই রেকর্ড পরিমাণ টানা বর্ষণে শীতকালীন সবজি শিম, মূলা, ফুলকপি, আলুসহ নানা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর সবজি, ৪ হাজার ১৬৩ হেক্টর মুষুরের ডাল, ৯ হাজার ৯১০ হেক্টর শরিষা, ২৫৬ হেক্টর আলু, ২৬ হেক্টর গম ও ২৫৩ হেক্টর জমির বোরো ধানের বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু সবজি ও ফসল কাজে আসলেও বেশির ভাগ ক্ষেতেই নষ্ট হবে। এতে চাষীদের ব্যাপক আর্থিক লোকশান গুনতে হবে।