নেপথ্যে স্বামীর পরকীয়া ॥ সওজ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

0
66

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঘটনাটা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার পৌরসভাধীন কোটপাড়ায়। গত শনিবার (৩০ অক্টোবার) সকাল অনুমান ৭.৩০ টার দিকে মাগুরা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) সড়ক অফিস কর্মরত উপ-সহকারি প্রকৌশলী আহসানুল কবির টিটু তার স্ত্রী শাহানাজ (৩০) কে ঘরের মধ্যে দরজার কাঠের হুক দিয়ে এলোপাতাড়ী ভাবে পিটিয়ে আহত করে।

আহত হওয়ার পর কোন চিকিৎসকের নিকট না নিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। এই শাহানাজ কৌশলে তার বাড়িতে ভাইদের নিকট সংবাদ পাঠায়। আটকের ঘটনা জানার পর তার আপন ৩ ভাই আনিচুর রহমান, ফখরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম আহসানুল কবির টিটুর বাড়িতে উপস্থিত হয়। পড়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের বোনকে ঊদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

ঘটনার বিবরণে পারিবারিক সুত্রে জানা যায় ২০১২ সালে একই উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের পাঁচপাখিয়া গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের মেয়ে মোছাঃ শাহানাজ পারভীনের সাথে বিবাহ হয় শৈলকুপার কোটপাড়া এলাকার মৃত গোলাম মজনু’র ছেলে আহসানুল কবির টিটুর সাথে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২ পুত্র সন্তান রয়েছে।

পক্ষান্তরে ২০১০ সালে ১২ই ডিসেম্বর শৈলকুপা জেলার কুলচারা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে শেফালী খাতুনের সাথে বিবাহ হয় পাঁচপাখিয়া গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের প্রবাসী ছেলে মনিরুল ইসলামের সাথে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৮ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে ।

১৯৯৫ সালে থেকে মনিরুল মালায়েশিয়া প্রবাসী। ২০১৮ সালে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডে তার বাপের বাড়িয়ে থাকতে শুরু করে। এই সময়ে সওজ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আহসানুল কবির টিটু ঝিনাইদহ সওজ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত ছিল। তাই স্ত্রীর ভাবি এই শুবাদের সূত্র ধরে অবাধে ঐ বাড়ীতে যাতায়াত করতে করতে পরকীয়ার লিপ্ত হয়ে উঠে।

তাদের পরকীয়ার ঘটনা জানা জানি হয়ে যায়। জানা জানির পর থেকে শাহানাজের উপর বাড়তে থাকে নির্যাতন। শাহানাজের পরিবার অথবা বাড়ির লোকজন শেফালী খাতুন কে কিছু বললেই বেড়ে যায় শাহানাজের উপর নির্যাতন। নির্যাতনের পাশাপাশী শুরু হয় যৌতুক দাবী। ছোট বোনের সংসারের কথা ভেবে প্রবাসী মনিরুল উপায় অন্তহীন হয়ে পড়ে। তখন তার ৩ ভাইয়ের একই ভাবনা বোনের সংসার কোন ভাবে টিকিয়ে রাখা যায় কিনা। ঘটনা বুঝতে পেরে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে শেফালী ও টিটু।

হাসপাতালে আহত নির্যাতিতা স্ত্রী শাহানাজ পারভীন জানায়, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পর আমার স্বামী আহসানুল কবির টিটু আমার নিকট ১০০০০০ (দশ লক্ষ টাকা) যৌতুক দাবী করে এবং তার উপর শারীরিক ও মানষিক ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার ভাইদের নিকট থেকে নগদ ৬,০০০০০ (ছয় লক্ষ) টাকা এনে তার স্বামীকে প্রদান করি। সে উক্ত টাকা গ্রহণ করে কিছুদিন ভালো থাকার পর তার পরকীয়া শেফালীর প্ররোচনায় আবারও স্ত্রীর নিকট বাকী ৪,০০০০০ (চার লক্ষ) টাকার জন্য আমার উপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। সন্তান দুটির মুখে দিকে তাকিয়ে এবং স্বামীর সংসার করায় আশাই স্বামীর সকল প্রকার আত্যাচার ও নির্যাতন নিরবে সহ্য করে আসছি। বর্তমানে আমার ভাই মনিরুল দেশে অবস্থান করলেও আমার ভাবী শেফালী আমার স্বামীর প্রতি পরকীয়ায় আসক্তির কারনে ভাই সেখানে যেতে পারে। তার কারনেই আমার ভাইয়ের সংসার ভেঙ্গে গেছে।

নির্যাতিতা শাহানাজ পারভীন আরও বলেন, আসামী আহসানুল কবির টিটু ও মোছাঃ শেফালী খাতুন আমার সুখের সংসার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিয়েছে। আমার সন্তান দুটো নিয়ে আজ আমি বড় অসহায়। আমি ওই লম্পটের বিচার চাই। সে এর আগে গত ৫/৩/২০২১ তারিখে পিটিয়ে আহত করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ভাইদের মধ্যতায় সংসারে ফিরে যাই।

শাহানাজ পারভীনের বড় ভাই আনিচুর রহমান বলেন যে আমরা যদি ৩ ভাই সময় মত না যেতাম তাহলে আমার বোন কে ঐ লম্পট আহসানুল কবির টিটু মেরেই ফেলত। সে আরও জানায় যে আহসানুল কবির টিটু বাবা মৃত গোলাম মজনু ১৯৭১ সালে কুখ্যাত রাজাকার ছিল। আমরা আমার বোনের বিবাহের পরে সে রাজাকার ছিল জানতে পেরেছি। পরকীয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শৈলকুপার কোটপাড়াসহ ঝিনাইদহ শহরে নুন্দায়ের সাথে ভাবির পরকীয়া। শৈলকূপা বিভিন্ন মহল, এলাকায় ও চায়ের দোকানে দোকানে এখন গল্পশল্পের খোরাক হয়ে দাড়িয়েছে টিটুর পরকিয়ার গল্প।

এই ঘটনায় নির্যাতিতা স্ত্রী শাহানাজ পারভীন শৈলকূপা থানায় গত ০৩/১১/২০২১ তারিখ রোজ বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১(গ) ধারা মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং ৬। শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।