আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও কমবে, জ্বালানি বিভাগের প্রতিশ্রুতি

0
71

সত্যপাঠ ডেস্ক

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে ডিজেলে লোকসানের মুখে পড়ে বিপিসি। এমনটা চলতে থাকলে বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাধার মুখে পড়বে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে তাই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

৩ নভেম্বর বুধবার রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। ৬৫ থেকে বেড়ে হয় ৮০ টাকা। কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর থেকে।

শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দেশে ডিজেলের দাম ৬৮ টাকা নির্ধারণ করে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে সেই মূল্য লিটার প্রতি ৩ টাকা কমিয়ে ৬৫ টাকা হয়। গত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশে ডিজেল বা কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দশ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় ডিজেলে বিপিসি লোকসানের সম্মুখীন হয়। চলতি বছরের জুনে ডিজেলে লিটার প্রতি ২ টাকা ৯৭ পয়সা, জুলাইতে ৩ টাকা ৭০ পয়সা, আগস্টে ১ টাকা ৫৮ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৫ টাকা ৬২ পয়সা এবং অক্টোবরে ১৩ টাকা ০১ পয়সা করে বিপিসির লোকসান হয়। সে হিসাবে গত সাড়ে পাঁচ মাসে ডিজেলে বিপিসি’র মোট লোকসান প্রায় ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যা সরকারি ভর্তুকি দিয়ে সমন্বয় করতে হবে। তাছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে প্রায় ৩৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে বিপিসি। এ অবস্থায় বিপিসি লোকসানে গেলে জ্বালানি নিরাপত্তায় হুমকি দেখা দেবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশেপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য এখনও কম। ৩ নভেম্বর কলকাতায় ডিজেলের মূল্য ছিল ১০১.৫৩ রুপি বা ১২৪.৩৭ টাকা।