তালা উপজেলায় অবিরাম বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী

0
28

অবিরাম বৃষ্টিতে তালা উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, পানের বরজ, স্কুল, রাস্তা-ঘাট।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নিসচুপ পচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান ও ৪২ হেক্টর জমিতে ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার খলিল নগর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, সংযোগ খাল সংস্কার না করার কারণে খলিল নগর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল দাশকাটি, প্রসাদপুর, মাছিয়াড়া, উত্তর নলতা, খলিলনগর, মহান্দী ঘাট এলাকা, কাটবুনিয়া এলাকার বাড়িঘর, ফসলী জমি, মাছের ঘের ,কাঁচা ঘরবাড়ি, মাদ্রাসা এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু জানান, তার ইউনিয়নে ১৩টি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মৎস্য, কৃষি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ইউনিয়নে প্রায় ২০-২৫টি কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে।

তালা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন জানান, তিন দিনের বৃষ্টিতে তার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বসত বাড়িতে পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মৎস্য ঘের, ফসলী জমিতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

তালা উপজেলার পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মীর জিল্লুর রহমান জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে খলিলনগর, ইসলামকাটি, জালালপুর, তালা সদর, খেশরা, মাগুরার বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্য ঘের, সবজি ক্ষেত, রাস্তা-ঘাট ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কপোতাক্ষ ও সালতা নদীর সংযোগ খাল ঠিক মতো খনন করলে এই ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে যেত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান, তিনি প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে ক্ষয়ক্ষতি পূরণের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী জানান, ভারি বর্ষণে উপজেলার অধিকাংশ মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন জানান, টানা বর্ষণে কৃষি সেক্টরে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমরা পোটল, কপি, বেগুন সহ ৪২ হেক্টর ফসলি জমিতে ও আমন ধানের ৭৫ হেক্টর জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণ করা হচ্ছে। ফসলী জমি থেকে পানি সরার পরেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিক ভাবে জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here