দুই বান্ধবীকে ধর্ষণ করে হত্যার দায়ে আগামী ৪ অক্টোবর যশোর কারাগারে দুই খুনির ফাঁসি

0
28


সত্যপাঠ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় দুই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ অক্টোবর দুই আসামির ফাঁসি হতে যাচ্ছে। বিষয়টি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গা আদালতের একটি সূত্র ও আসামির পরিবারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে আইনগত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ অক্টোবর রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে দ-প্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। আসামিরা হলেন, রায়ের লক্ষীপুর গ্রামের আলী হিমের ছেলে মিন্টু ওরফে কালু ও একই এলাকার বদর ঘটকের ছেলে আজিজ ওরফে আজিজুল।

চুয়াডাঙ্গা আদালত সূত্র ও মামলার বিবরণীতে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার জোরগাছা হাজিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগম ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর খুন হন। হত্যার আগে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ।

প্রতিবেদনে বলা হয় , গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় ওই দুই নারীকে। এ ঘটনায় নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নারগিছ বেগম খুনের পরদিন আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুজন সহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দুজন হলেন, সুজন ও মহি। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন আসামি মহি।

২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃতুুদন্ড দেয়। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আসামির রায় বহাল রাখেন অপর আসামি সুজনকে খালাশ প্রদান করেন। গত ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সুজন। সাম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির ফাঁসির আদেশ আসে।

এদিকে, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অপর একটি সূত্র বলেছে, ফাঁসির জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জল্লাদ মশিয়ার, কেতু কামালসহ বেশ কয়েকজনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এছাড়া যাবতীয় প্রস্ততি শেষ হয়েছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুহিন কান্তি খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামি মাসে ফাঁসি হওয়ার কথা রয়েছে । তবে, এ বিষয়ে আর কিছু বলতে তিনি অসন্মতি প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here