চৌগাছার ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদের বিরুদ্বে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

0
29

বিশেষ প্রতিনিধি

যশোর চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই উপজেলার ১ নং ফুলসরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন ইউপি সদস্যসহ চৌগাছা উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তবে মেহেদী মাসুদ চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফুলসরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। এসময় ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান, শের আলীসহ ১৫ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মেহেদী মাসুদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গরীব অসহায়দের জন্য উপহার আশ্রয় প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নাম করে ইউনিয়নের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা, ইউনিয়নের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার নাম করে মসজিদের সভাপতি ও ইমামদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও আত্মসাত করেছেন।

এছাড়াও তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় উপজেলাব্যাপি সরকারি বরাদ্দের রাস্তা (এলজিইডি) নিজে অনুমোদন করে নিয়ে এসেছেন বলে প্রচার চালান। পরবর্তিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তা পাকা করনের জন্য গ্রামের মানুষ তার কাছে গেলে তিনি রাস্তা বাবদ কখনো ৫০ হাজার থেকে ক্ষেত্র বিশেষে এক থেকে দেড় লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তরেও মেহেদী মাসুদ ব্যাপক চাঁদা আদায় করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দূর্ণীতির মাধ্যমে দুই কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে মেহেদী মাসুদ বিভিন্ন ভাবে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে নষ্ট করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ চৌগাছা উপজেলা দূর্ণীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মুক্ত করতে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে মেহেদী মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘যারা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা আওয়ামী লীগের লোক না। তারা কখনো নৌকার পক্ষে কাজ করেনি। বরং নৌকার প্রতিপক্ষ আনারসের পক্ষে কাজ করেছে। আর ওই দুইজন ইউপি সদস্য বিপথগামী। এরমধ্যে আবুল কাশেম নিজে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবে। এ জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অপরজন রফিকুল ইসলাম মাদক কারবারি। আর আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। যদি কোন লোক বলতে পারে আমি টাকা নিয়েছি, তাহলে সে দায় আমি নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here