অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারির খাবার, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুকছে ভোক্তারা

0
29

শহিদুল ইসলাম, ডুমুরিয়া

খুলনার ডুমুরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারির বিভিন্ন ধরনের খাবার। কর্তৃপক্ষের নজরকে ফাঁকি দিয়ে সেগুলোকে বিক্রি করছে উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, উপজেলাতে মোট বেকারি রয়েছে ৭টি। যার প্রত্যেকটি বেকারিতে বিস্কুট পাউরুটি সহ তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের খাবার পণ্য। বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি হলেও সব খাবারে ব্যবহার করা হয় ১ মাস মেয়াদি তারিখ। সরজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার খরসংগ এলাকার গাজী ফুড, আন্দুলিয়া এলাকার বিসমিল্লাহ বেকারি ও মায়ের দোয়া সহ চুকনগর এলাকায় রাফিন বেকারি রয়েছে। কোন বেকারিতে খাবার তৈরির সময় মানা হয় না স্বাস্থ্যবিধি। এমনকি নেই কোন বিএসটিআই-এর অনুমতিপত্র। দুই-একটি বেকারিতে যে অনুমতিপত্র রয়েছে সেগুলো আবার মেয়াদোত্তীর্ণ।

নিয়ম রয়েছে প্রত্যেকটা কর্মচারীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদে যাদের নাম রয়েছে প্রকৃত পক্ষে সেই সকল কর্মচারীরা কাজ করছে না। এই সকল বেকারিতে খাবার তৈরি করার সময় এ্যাপ্রোন পরার নিয়ম থাকলেও কোন বেকারিতে শ্রমিকদের এ্যাপ্রোন পরার দৃশ্য চোখে পড়েনি। আন্দুলিয়া এলাকার বিসমিল্লাহ বেকারির ভিতরে রয়েছে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এমনকি ভিতরের সকল শ্রমিকরা খাবার তৈরি করছে গেঞ্জি অথবা খালি শরীরে। এই সমস্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাবার তৈরি করে বিক্রি করছে উপজেলার বিভিন্ন বাজার সহ আশেপাশের এলাকার দোকানগুলোতে। এই সব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকছে অত্র এলাকার ভোক্তা। বেকারির মালিকদের কাছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি জানতে চাইলে প্রায় সকলেই বলেন এত কিছু মানা সম্ভব হয় না। বেকারিতে কর্মরত একজন শ্রমিক বলেন, আমরা কখনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই না, এগুলো মালিক স্যারদের সাথে কথা বলে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে আসে। পাশাপাশি এটাও বলেন, স্যানিটারী পরিদর্শক স্যার বারবার মালিকদেরকে বলেন এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করান। স্থানীয়দের সাথে কথা বললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে এসব বেকারিগুলোতে পরিদর্শনে যান বলেও জানা যায়।

এবিষয় নিয়ে স্যানিটারী পরিদর্শক সুখেন্দ্র কুমার ঘোষ স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি নিয়মিত পরিদর্শনে যাই। এমনকি অনেক বেকারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। তারপর ও তারা স্বাস্থ্যবিধি মানে না। আমি এ বিষয়টা নিয়ে আমার উর্ধ্বতন স্যারদের সাথে কথা বলবো। পরবর্তীতে বিষয়টা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের তৈরি খাবার খাওয়া এটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা অতিদ্রুত এই সকল বেকারি বা যে সকল স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here