কপোতাক্ষের উপর নদী মারা কোন সেতু বরদাস্ত করা হবে না : কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের গণ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

0
115

আফজাল হোসেন চাঁদ ও এস এইচ রুবেল

কপোতাক্ষের উপর নদী মারা কোন সেতু বরদাস্ত করা হবে না। যেভাবেই হোক ঝিকরগাছায় নৌ-চলাচলের উপযোগী করতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এই যে কাজ হয়েছে এটার সাথে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটি যদি যুক্ত থাকতো তাহলে এই ব্রিজ আর এইভাবে হতো না।

ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের অনির্মিত ব্রিজটি নির্মাণ ও সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন এবং নর্মিত ব্রিজটি পুনঃ নির্মাণের দাবীতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন ঝিকরগাছার উদ্যোগে গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বিকেল ৩টায় সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন গদখালী উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও বিবর্তন ঝিকরগাছার শিল্পীরা।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের ঝিকরগাছা কমিটির আহবায়ক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যপক আফসার আলী, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহবায়ক অনিল বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সাহিত্যিক হোসেন উদ্দীন হোসেন, জিল্লুর রহমান ভিটু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, মাষ্টার আব্দুর রশিদ, পাইকগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুজ্জামান, তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যাপক রেজাউল করিম, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের সহ-অধ্যক্ষ ইলিয়াস হোসেন, ঝিকরগাছা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল অধিকারী, সুভাষ চন্দ্র ভক্ত, কেশবপুরের মফিজুর রহমান নান্নু, মাস্টার বিমল কুমার ঘোষ, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির ঝিকরগাছার সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান কেটি, আমানুল কাদের টুলু প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন- সামছুল আলম বাসার।

গণ সমাবেশে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আপনারা জানেন এই ঝিকরগাছা থেকে শুরু করে একেবারে তালা-কপিলমুনি পর্যন্ত মানুষ পানির তলে ছিলো। স্কুল-কলেজ, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, মাটি, ফসল সব পানির তলে ছিল। তার বিরুদ্ধেই আন্দোলনের ভেতর দিয়ে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ। এই আন্দোলন আপনারাই করেছেন। এবং সেই আন্দোলনের সময়ে আমরা সরকারকে বলেছিলাম যে, নদী যদি সংস্কার করতে হয়, পানি সমস্যার সমাধান করতে হয় তাহলে উজানে নদী সংযোগের প্রশ্ন, নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রশ্ন এবং সমুদ্র থেকে যে আসা পলি ব্যবস্থাপনা ও মোহনা সচল রাখার প্রশ্ন- এই সকল প্রশ্ন নিরসন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমারা বলেছিলাম এই যে কাজ হচ্ছে এটার সাথে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনকে যুক্ত করা হোক মনিটারিং করানোর জন্য। নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত সরকারের কর্তৃপক্ষ কার্যকর করেনি। আজকে যদি কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন এর সাথে যুক্ত থাকতো তাহলে এই ব্রিজ আর এইভাবে হতো না। এই ব্রিজের বিষয়ে আমাদের সাথে মিথ্যা প্রহসন করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম, কপোতাক্ষ নদ যদি নৌ-চলাচলের উপযুক্ত করা হয় তাহলে এই সকল ব্রিজ পুনঃরায় নির্মাণ করতে হবে। সড়ক জনপদ, জেলা পরিষদ, এলজিডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ তারা নদীর উপর যাতায়াতের নামে কালভার্ট বানিয়ে নদীকে পাশবিক নির্যাতন করার সামিল।

প্রধানমন্ত্রী বলছেন ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। তিনি বলেছেন- সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইতিমধ্যে ৮০৫টি ব্রিজ পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌ-চলাচল অনুপযোগী কোন ব্রিজ থাকবে না। যখন এই ব্রিজ নির্মাণ হয় তখন আমাদের বলা হয়েছিলো এটা প্রশস্থ একটি ব্রিজ হবে। যার জন্য ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে জমি একোয়র করা হয়েছে। তবে ব্রিজের যখন প্লাট ফরম হলো তখন আমরা দেখলাম আমাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে। আমরা কপোতাক্ষ নদের অনির্মিত ব্রিজ সরকারী নীতিমালা করে নির্মিত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা এই ব্রিজ নিয়ে এত গুরুত্ব দিচ্ছি এই কারণে, ইতিমধ্যে পদ্মা-মাথাভাঙ্গা সাথে ভৈরব কপোতাক্ষের নদী সংযোগের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে ওই নদীর প্রধান প্রবাহ হবে কপোতাক্ষ। এই কপোতাক্ষের সাথে সুন্দরবন জড়িত এবং এই নদ নৌ-চলাচলের উপযোগী হলে এর সুফল পাবে ঝিকরগাছা সহ কপোতাক্ষ নদী পাড়ের লাখো মানুষ।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর নীতি লঙ্ঘন করে নির্মিত ব্রিজ পুনঃর্নিমাণ, অনির্মিত ব্রিজটি বিআইডব্লিউটিএ’র নকশা অনুযায়ী নির্মাণ এবং সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। এবং এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম তদন্ত করার জন্যে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অচিরেই এই তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসবে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here