গভীর দেশপ্রেম, সীমাহীন আত্মত্যাগ ও অতুলনীয় নেতৃত্বে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা : মেয়র লিটন

0
87

বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের জন্য স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এ্ই দেশের শতকরা ৮০ জন কৃষককে স্বচ্ছল করে তুলতে হবে তবে হবে আমাদের স্বাধীনতার স্বার্থকতা। তার নতুন নতুন স্বপ্ন যখন এক এক করে এদেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য নতুন দিগন্তের সুচনা শুরু হলো তখন আমরা দেখলাম ১৫ আগষ্ট। বিশে^র কাছে যে জাতি ছিল বীরের জাতি যে জাতি ছিল প্রশংসার জাতি সেই জাতি এদেশের কিছু বিপথগামি সেনা সদস্যদের জন্য মুহুর্তের মধ্যে বিশ^ নেতাদের কাছে বেঈমানের জাতিতে পরিনত হলো। আমাদের এই স্বাধীন সার্বোভৌম রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশে^র সমাবেশে যোগ দেওয়ার মনস্তাব করেছিলেন তখন অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছিল।

শুক্রবার বেলা ৪ টার সময় শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি মেয়র লিটন বলেন, ১৯৪৭ সালে তিনি কোলকাতার মিল্লাত পত্রিকায় গিয়ে বলেছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে বাংলা। ১৯৬১ সালে তিনি বামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের গোপন বৈধকে বলেছিলেন আপনাদের সব কথা মানব তবে স্বাধীনতার বিকল্প কিছুই নেই। স্বাধীনতার জন্য কারো সাথে আপোষ নাই। ছয় দফ দাবির বিষয় নিয়ে ন্যাপ মোজাফার বলেছিলেন আপনি কি বোঝাতে চাইছেন আমার দাবিতো একটি সেটা হলো স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধু কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না কিংবা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। শিশুকাল থেকেই কারো সাথে অন্যায় করা হচ্ছে বা কারো অধিকার হরণ করা হচ্ছে দেখলে প্রতিবাদীরূপে তিনি সেখানে আবির্ভূত হতেন। অসহায় মানুষ দেখলে তিনি ব্যাকুল হয়ে যেতেন। তাইতো তিনি বাংলার জনগণের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে। তাই বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এটি কেবল কথার কথা নয়, দেশ-বিদেশের অনেক বিখ্যাত মানুষের উক্তি-লেখা পাঠেও সে বিষয়টি স্পষ্ট ধরা পড়ে। সেই কারণেই হয়তো আহমদ ছফা লিখেছেন, ‘একজন ব্যক্তির শারীরিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক মিশনকে হত্যা করা যায় না। কারণ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে; কিন্তু আদর্শের মৃত্যু নেই।’ আজকে সবার কাছে এটাই স্পষ্ট- বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা লাল-সবুজের একটি পতাকা পেতাম না; নিজেদের স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারতাম না। জাতির জনকের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

তিনি আরো বলেন জাতির জনকের কন্যা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে হাজার হাজার মাইল হেটেছেন এই অবহেলিত জনগোষ্টিকে তার পিতার দেখানো স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তিনি বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তাকে পাকিস্তানী ও স্বাধীনতা বিপথগামিরা হত্যার জন্য ব্যার্থ চেষ্টা করেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল জাতির জনককে হত্যা করতে পারলে চিরদিন এই দেশকে লুটে পুটে খাওয়া যাবে। জাতির জনকের প্রকৃত সৈনিকেরা এখনো এদেশে আছে। তারা তার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে তার কন্যাকে সহযোগিতা করে চলেছে। আর যারা তার স্বন্নকে নস্যাৎ করতে চায় তারাও জাতির জনকের সৈনিকদের অপমান অপদস্ত এবং তাদের সভা সমাবেশ এর মঞ্চ ভাংগতে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন আর বাদরামি করবেন না। আমরা যেমন সভা সমাবেশ জাতির জনকের শোক পালন করছি সেই রকম করে দেখান। আজ জনশুন্য হয়ে ব্যর্থ অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন এর সঠিক জবাব পাবেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টার, শার্শা উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলূল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, ত্রান ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, বনও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদ শেখ সরোয়্রা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কবির উদ্দিন তোতা, কোষাধ্যাক্ষ খোদাবক্স, সাবেক যুবলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস ভাইয়া, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম রেজা বিপুল, আওয়ামীলীগ নেতা আলীম রেজা বাপ্পী, মিজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা সাহেব আলী পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল গফফার সরদার, বেনাপোল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সাহেব আলী, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আকুল হোসাইন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজল, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here