নিয়ম না মেনেই হচ্ছে শালিখায় নির্মিত ১০তলা ভবন, পার্শ্ববর্তীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও নির্মানকারীর অস্বীকার

0
73
নির্মাধীন বহুতল ভবন

লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডল, শালিথা

মাগুরার শালিখা উপজেলায় এটাই সর্বপ্রথম নির্মিত হচ্ছে ১০তলা ভবন। সবেমাত্র ৬তলা নির্মান হয়েছে। সীমাখালী বাজারস্থ এই বহুতল (১০ তলা)ভবনটি আজ ২বছর ধরে নির্মান করা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মানের কোন নিয়ম নীতি অনুসরন না করায় পাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বহুতল ভবন নির্মানে কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

এছাড়া বহুতল ভবন নির্মান করতে হলে ভবনের চতুরদিকে বল্লী প্রাচীর ঘিরে সেখানে কাজ করা হয়। ৫০/৬০ ফুট তলদেশ খুড়ে সেখানে পাইলিং করে রড বসায়ে ঢালাই দিতে মাটিতে যে ঝাঁকুনি হয় তা ঐ বল্লী প্রাচীরে বাধাগ্রস্থ হয়ে চতুরদিকে কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু কোন নিয়ম নীতি না মেনেই একাজ করা হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।

ঐ বহুতল ভবনের পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বাসা বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান। বিশেষ করে এ সকলের মধ্যে টিটো ঢালী নাম করে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগে জানান- এই নির্মিয়মান ভবনের পাশে তার একটি বাড়িতে কয়েকখানা বসবাসের ঘর রয়েছে। বহুতল ঐ ভবন নির্মান শুরুর সময় তার ঐ বসতবাড়ির কয়েকখানা ঘরে ফাটল দেখা দেয়।

টিটো ঢালীর ঘরের ওয়ালে ফাটল

এছাড়া ১টা ঘর ভেঙ্গেই পড়ে। এই বহুতল ভবনের মালিক বিদেশে চাকরীরত বিল্লাল হোসেন, কুশখালী গ্রামের ওমর আলী মোল্লার ছেলে। ভবনের দেখভাল করে.থাকে মালিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান। কাজের শুরুতেই বিষয়টি নিয়ে টিটো ঢালী তাদের অবহিত করলে ওমর আলী মোল্লা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন ‘আমরা বড় প্রতিষ্ঠান করবো, কাউকে কিছু বলতে হবে না, কোন ক্ষতি হলে আমরা ক্ষতিপুরন দিয়ে দেব‘।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সবকিছু অস্বীকার করে উল্টে চাঁদাবাজীর মামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এরপর নিরুপায় হয়ে ক্ষতির বিষয়টি জানিয়ে টিটো ঢালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টিটো ঢালীকে বিল্লাল হোসেনের বিদেশ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষার আশ্বাস দেন।

ইতিমধ্যে শুরুর থেকে ২ বছর পার হয়েছে ্এবং ধীরে ধীরে ৬ তলা বিল্ডিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে, অথচ বিল্লাল হোসেন দেশেও আসেনি সমাধানও হয়নি।

বহুতল ঐ ভবন নির্মানের অনুমোদনের বিষয়ে বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন ‘ডিসি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, টিএনও সহ সকলের অনুমোদন নিয়েই আমরা এ ভবন নির্মান শুরু করেছি। বছর ২আগে আমরা পাইলিং করে ভবন নির্মান শুরু করেছি, তখন পার্শ্ববর্তী কেউ ক্ষতির অভিযোগ করেনি, সম্প্রতি টিটো ঢালী তার ক্ষতির অভিযোগ তুললে অনেকেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে বিষয়টি অহেতুক বলে দাবী করেছেন‘বলে মিজানুর রহমান জানান।

এদিকে পার্শ্ববর্তী নাজিম উদ্দিন পাটোয়ারী নামক জনৈক একজন জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করে জানিয়েছেন তার বসবাসের জায়গার ৯ ফুট জমি জোর পুর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মান করাই তার বসবাস করা ঘরটি ফাটাইয়া চৌচির করিয়াছেন। এছাড়া তার মুল্যবান গাছ ও ফাঊন্ডেশনের ৬টি কলম, বেজ ভাঙিয়া ফেলিয়াছে।

এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে শালিখা থানার ওসি তাকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেয় এবং শালিখা থানার ওসি তাকে বেঅইনিভাবে জোরপুর্বক পুলিশের গাড়িতে তুলে জোরপুর্বক কয়েকখানা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। জেলা প্রশাসকের কাছে নাজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সরেজমিন তদন্তপুর্বক বিষয়টির সুরাহার দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম বাতেন জানান কাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে এ বিল্ডিং হচ্ছে তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি দেখবো। টিটো ঢালী সহ সংশ্লিষ্ট মহলের জিজ্ঞাসু যে এভাবে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের খামখেয়ালীপনার কাছে সাধারন মানুষ কী জিম্মি হয়ে চিরদিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েই যাবে এবং বিচারও পাবে না ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here