তথ্যের স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ

0
48

পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য, জায়মা ইসলাম

সরকার একটি খসড়া আইন তৈরি করছে, যার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং এই কার্যক্রমকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া হবে।

আপাতদৃষ্টিতে দেশের আভ্যন্তরীণ তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণীত হচ্ছে। তবে, বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আশঙ্কা করছেন, এর মাধ্যমে সুরক্ষার চেয়ে ব্যবহারকারীদের তথ্যে নাক গলানোর বিষয়টিই বেশি মুখ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শিক্ষাবিদ ড. সি আর আবরার বলেন, ‘অফলাইনে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের বিধিনিষেধ রয়েছে। যে কারণে এ ধরনের চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন মতামত প্রকাশের এই ছোট জায়গাটিও আর থাকছে না। আইন আমাকে নিজের দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলার আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করবে।’ ড. আবরার বর্তমানে ‘নাগরিক’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেটি নাগরিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে।

সম্প্রতি দেখা গেছে, বেশিরভাগ সামাজিক আন্দোলনের সূত্রপাত অনলাইন থেকেই হয়। সমর্থকরা অনলাইনে সংগঠিত হয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী পথে নেমে আসে।

এই পরিবেশে তথ্য সুরক্ষা আইনটির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। নতুন আইনটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ডেটা লোকালাইজেশন (তথ্য স্থানীয়করণ), যার অর্থ নাগরিকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে তথ্য সংগ্রহ করে, সেগুলোকে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের একটি আইনের খসড়া তৈরি করছেন। আইসিটি বিভাগ খসড়া আইনটি তৈরি করছে।

‘নতুন তথ্য সুরক্ষা আইনে বিদেশি ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে স্থানীয়ভাবে ডেটা সেন্টার তৈরি করে দেশের ভেতরেই গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকবে’, বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুজব ছড়ায় ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি আমাদেরকে সাহায্য করবে।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের তথ্য দেশেই থাকবে— এই বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নতুন আইনটির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

‘এই আইন মেনে না চললে বাংলাদেশে তাদের (প্রতিষ্ঠানগুলোকে) কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। আমরা এই আইনটি তৈরি করছি যাতে দেশের মানুষের তথ্য দেশেই থাকে’, বলেন তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘তিনটি বড় শূন্যস্থান পূরণের জন্যে এই আইনটি তৈরি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে আমাদের কোনো আইন নেই। তথ্যকে সুরক্ষিত রাখা ও মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্যেও আমাদের কোনো আইন নেই।’

‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের আইন মেনে চলতে বাধ্য করা’, বলেন তিনি।

ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইউএনসিটিএডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫টি দেশের অন্যতম, যেখানে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত কোনো আইন নেই। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে আইনের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু, তারা আশঙ্কা করছেন, নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না।

‘সরকার যেটি করার চেষ্টা করছে, তা হলো ডেটা লোকালাইজেশন’, বলেন আইনজীবী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সাইমুম রেজা তালুকদার।

ডেটা লোকালাইজেশনের অর্থ হচ্ছে—যে ডিভাইসে একজন ব্যক্তির ডেটা সংরক্ষণ করা হবে, সেটিকে সেই ব্যক্তির নিজ দেশের সীমানার মধ্যেই রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে শাঁখের করাতের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।

অ্যাডভোকেট সাইমুম বলেন, ‘নতুন খসড়া আইন অনুযায়ী, সরকারি সংস্থাগুলো চাইলে তথ্য সংরক্ষণের ডিভাইসগুলো সশরীরে পরিদর্শনের অনুমতি পাবে কি না, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। উদ্বেগের বিষয়টি হচ্ছে—যদি নতুন খসড়ায় কোন ধরনের তথ্য, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উপায়ে সংগ্রহ করা যাবে বা দেখা যাবে, সে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা না থাকে, সেক্ষেত্রে সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য দেখার ও সংগ্রহ করার সুযোগ পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার চাইলে তথ্য সংরক্ষণের ডিভাইসগুলোকে জব্দ করতে পারবে কি না, সেটাও প্রস্তাবিত আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মনে করছে তথ্য হচ্ছে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং এই তথ্যকে সুরক্ষিত করার জন্যেই আমরা এই আইনটি তৈরি করছি।’

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই আইনটি সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার কাছ থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্যকে সুরক্ষিত করার জন্যে তৈরি করা উচিত।

সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, ‘আমার তথ্যের মালিক আমি নিজেই। কিন্তু, এই বিষয়টি এ মুহূর্তে কোনো আইন নিশ্চিত করতে পারছে না।’

ড. আবরার বলেন, ‘আমরা এরকম ঘটনা দেখেছি, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ ফাঁস করে সবার সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস করার পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নেই। জাতীয় নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু, অনেক সময় এটিকে বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

‘আমরা চাই একটি আনুষ্ঠানিক আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের হাত থেকেও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে’, বলেন তিনি।

বর্তমানে প্রচলিত তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষা বিধিমালা, ২০১৯ এ ভালো করে লক্ষ্য করলে সবার কাছ থেকে তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্যে একটি আইনের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বোঝা যাবে।

এই বিধিমালায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) ৬০ নম্বর ধারার প্রয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আইনটি সরকারি সংস্থার হাত থেকে তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার জন্যে যথেষ্ট নয়।

কীভাবে একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যাবে, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়গুলো এই আইনটি সংজ্ঞায়িত করেছে। কিন্তু, অনেক ক্ষেত্রেই এটি সরকারি সংস্থাগুলোকে এ ধরনের বাধ্যবাধকতার আওতামুক্ত রেখেছে।

উদাহরণস্বরূপ: নীতিমালার ২১ (বি) ধারা অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলো সাইবার অপরাধের তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্যে একে অন্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।

সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি আইনসংগত যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োজন।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ধারা ১৫(এ) তে বর্ণিত জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো শব্দগুলোর সঠিক সংজ্ঞা প্রয়োজন। সংজ্ঞা ছাড়া এগুলো অস্পষ্ট শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর পেছনে এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দের বড় ভূমিকা রয়েছে। আইনটি তৈরি করার সময় বারবার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল সাংবাদিক ও ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনটির অপব্যবহার করা হবে না। কিন্তু, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।

একটি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ফ্রিডম হাউসের প্রযুক্তি ও গণতন্ত্র বিষয়ক পরিচালক অ্যাড্রিয়ান শাহবাজ বলেন, ‘সরকার অর্থনীতির উন্নয়ন, অনলাইনের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক বিষয়ের মোকাবিলা অথবা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ছদ্মবেশে ডেটা লোকালাইজেশনের চাপ দিচ্ছে। আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং নজরদারি করার কাজটি সহজ হয়। যেসব দেশ সাইবার নিরাপত্তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও তথ্য সুরক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে, সেসব দেশে ডেটা লোকালাইজেশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রেই নয়, বরং সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে।’

ফ্রিডম হাউস গত বছর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সাইবার সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৈপরীত্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

শক্তিশালী তথ্য নিরাপত্তা আইনের একটি ভালো উদাহরণ হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন’। এই আইনটি কারও বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। নাগরিকদের সম্পর্কে কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেটা দিয়ে কী করা হবে এবং সেগুলোকে কীভাবে বিশ্লেষণ করা হবে, তা জানার পূর্ণ অধিকার তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকরা চাইলে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার অনুমতি যেকোনো সময়ে প্রত্যাহার করতে পারেন।

সম্প্রতি ভারত মাস্টারকার্ড ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ না করার অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেয়েছে দেশটিতে কার্ডের মাধ্যমে হওয়া সব পেমেন্টের তথ্য যেন শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবেই সংরক্ষিত থাকে। জুলাইতে রাশিয়া স্থানীয়ভাবে গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করতে রাজি না হওয়ায় গুগলকে ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে বাধ্য করার আইনটি এমন সময়ে আসছে, যখন বাংলাদেশের সরকার ফেসবুক ও গুগলের কাছে সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

সরকার ২০১৩ সালে ফেসবুকের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে মাত্র একবার অনুরোধ পাঠায়। গত বছর, এই সংখ্যাটি বেড়ে ৫৪১ হয়। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৭৬টি অনুরোধ ছিল সরকারের সমালোচনা সংক্রান্ত।

গত চার বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি অন্তত অর্ধেক অনুরোধে সাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

গত বছর সরকারের কাছ থেকে আসা অনুরোধের অর্ধেকের চেয়ে কিছু বেশি পরিমাণ যথাযথ ‘আইনি প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেছে। বাকিগুলো ‘জরুরি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি জরুরি অনুরোধকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে, ‘জরুরি পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না যেয়েও অনুরোধ জানাতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায়, আমাদের কাছে যদি মনে হয় এক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক আঘাত কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে এবং তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা স্বেচ্ছায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তথ্য প্রদান করতে পারি।’

একইভাবে, ২০১৪ সালে সরকার গুগলের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অনুরোধ পাঠিয়েছিল। যেখানে কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারের সমালোচনার কথা বলা হয়েছিল। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৮৭। তাদের মধ্যে ৭৪ জনের ক্ষেত্রেই সরকারের সমালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘সরকার শুধুমাত্র তথ্য সুরক্ষা আইন তৈরি করেই থামবে না। তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সেটিকে আরও বিস্তৃত করতে যাচ্ছে। যাতে “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম”র সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহজে আইনের আওতায় আনা যায়।’

আইনটি এমনভাবে সংশোধন করা হবে, যাতে দেশের বাইরে বসে যারা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও দেশে থাকা অপরাধীদের মতো করেই আইনি ব্যবস্থা যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চার নম্বর ধারায় ইতোমধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থার কথা বলা আছে।

‘তবে, এখনো এটি খসড়া পর্যায়ে আছে এবং এখনো এটিকে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়নি’, বলেন মোস্তফা জব্বার।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান
সৌজন্যে দ্য ডেইলি স্টার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here