অত্যাধুনিক মার্কিন সমরাস্ত্র নিজেদের কব্জায় নিলো তালেবান

0
86

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আফগান সরকারি বাহিনীর সমরাস্ত্রেরও দখল নিয়েছে তালেবানরা। এসব সমরাস্ত্র আফগান সেনাবাহিনীকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক মাস আগে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন সাতটি হেলিকপ্টারের ছবি দিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। কিন্তু এর কয়েক সপ্তাহ পরে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ফলে সেইসব হেলিকপ্টারও এখন তালেবানের জিম্মায়। তবে কী পরিমাণ যুদ্ধের সরঞ্জাম তালেবানের হাতে পড়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে ২ হাজারের মতো সাঁজোয়া যান, যার মধ্যে হামভি যানও রয়েছে; রয়েছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ ৪০টি উড়োজাহাজ, স্ক্যানইগল মিলিটারি ড্রোন – এগুলো তালেবানের হাতে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা। এক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এমন ধারণা পোষণ করেন।

কাবুল সরকারের পতন ঘটার পর এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সাঁজোয়া যানের বহরের সামনে তালেবান সদস্যরা, তারা পরীক্ষা করে দেখছে নতুন নতুন নানা সমরাস্ত্র। এর সঙ্গে ছিল ড্রোনও।

এদিকে তালেবান যোদ্ধাদের হাতে আমেরিকান অস্ত্র পৌঁছে যাওয়াকে আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককউল।

এক পরিসখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ২৮০০ কোটি টাকার সমরাস্ত্র দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দুক, রকেট, নাইট-ভিশন গগলস, গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন।

তবে উপহারের তালিকায় সবকিছুর উপরে ছিল ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সেনাদের এটা বেশ এগিয়ে রাখত।

তবে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের নেতৃত্বদাতা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলছেন, যে সমরাস্ত্রগুলো তালেবানের হাতে গেছে, সেগুলো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি সম্বলিত নয়। তিনি বলেন, বেশিরভাগে ক্ষেত্রে বলা যায়, এগুলো এখন ট্রফি হিসেবে সাজিয়ে রাখার মতো।

২০০৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগান পদাতিক বাহিনীকে এম১৬ রাইফেলসহ কমপক্ষে ৬ লাখ অস্ত্র, ১ লাখ ৬২ হাজার যোগাযোগ সরঞ্জাম, ১৬ হাজার নাইট-ভিশন গগলস দিয়েছে। জেনারেল ভোটেলসহ অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, মেশিনগান, মর্টারের মতো যেসব অস্ত্র তালেবান পেয়েছে, সেগুলো তাদের লড়াইয়ে কাজে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here