শার্শায় নিজ শিশু কন্যাকে বিষ খাওয়ায়ে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যা

0
87

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

যশোরের শার্শা উপজেলায় ৫ বছরের শিশু কন্যা আঁখি মনিকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা সুমি খাতুন (২৭) বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার ১৭ আগস্ট রাতে ওই উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শুড়ারঘোপ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্বামী পরিত্যক্ত সুমি খাতুন ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

সুমি খাতুনের ভাই মাহমুদুল হাসান মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, আঁখি মনির জন্মের পর থেকে স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় সুমি খাতুনের। শিশু কন্যাকে নিয়ে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে সে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলো। মঙ্গলবার ১৭ আগষ্ট সন্ধ্যায় জানতে পারেন তার বোন সুমী খাতুন ও তার মেয়ে বিষপান করেছে। তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের দু’জনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু আঁখি মনির মৃত্যু হয়েছে। তার মা সুমিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। রাত ৯ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থা তারও মৃত্যু হয়েছে। ডা. আব্দুর রশিদ আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশু কন্যাকে বিষ পান করিয়ে মা সুমি খাতুন নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। মা মেয়ের লাশের ময়না তদন্ত বুধবার ১৮ যশোর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

সুমির মামা কামরুজ্জামান জানান, সুমিকে ফের বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা সিরাজুল ইসলাম চেষ্টা করেন। কিন্তু পাত্র মেয়ে আছে জানার পর বিয়ে করতে নারাজ হয়। সুমিও মেয়ে ছাড়া বিয়ে করতে চায় না। এই নিয়ে সুমির বাবা ও পরিবারের সাথে কলহ চলে আসছিল। ১৭ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুমি তার মেয়ে আঁখি মনিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় বাবা সিরাজুল ইসলামের সাথে বিয়ে নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সুমি বাড়িতে থাকা ঘাস মারার বিষ ভাতের সাথে মিশিয়ে শিশুকে খাওয়ানোর পর নিজেও খেয়ে আত্মহত্যা করে। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান জানান, মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। এ ব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানায় আলাদা দু’টি অপমৃত্যু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here