কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ : জরিপকার্য না করে বারবার ফিরে যাচ্ছেন সার্ভেয়ার ও কানুনগো

0
20

কপিলমুনি প্রতিনিধি

কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধো স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনে কয়েক দিন পর জায়গাটি নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে সেখানে প্রাচীর ও কাটা তারের ঘেরা-বেড়া দিয়ে দখলে নেয় স্থানীয় অমিত সাধু ওরফে শান্ত গং।

এছাড়া পাশে প্রাচীর দিয়ে অবৈধভাবে দখল নেয় এক দরিদ্র পরিবারের ক্রয়কৃত রেকর্ডীয় সম্পত্তি অভিজিত সাধু গং। রায়সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর ভ্রাতা কুঞ্জবিহারী সাধু ও ওয়ারেশরা (৪জন) ফের ঐ সম্পত্তি তাদের বলে দাবি করে পুনরায় কাটাতারের ঘেরা-বেড়া দিয়ে দখলে নিয়েছে। কুঞ্জবিহারীর প্রথম স্ত্রী বড় ছেলে নারায়ন সাধু ভারতে অবস্থান করায় ছোট স্ত্রী ৪পুত্র ওয়ারেশ দাবী করে সৎভাই এর সম্পদ-সম্পত্তি আত্মসাৎ করছে।

২০১৩ সালে কপোতাক্ষ নদ চরভরাটি নাছিরপুর মৌজা খাস খতিয়ানের ৫৯৫দাগের বিস্তীর্ণ সম্পত্তির মধ্য থেকে স্থানীয় জনৈকা মালঞ্চ বিবি নামের এক গৃহ ও ভূমিহীন মহিলা মিস কেস নং-৮৭৬/১২-১৩ মাধ্যমে ১০শতক খাসজমির ডিসিআর প্রাপ্ত হন। তবে বরাবরই ডিসিআর প্রাপ্ত হয়েও ঐ সম্পত্তি দখল নিতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়। প্রশাসন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রশাসনের দফায় দফায় বৈঠকে ঐ এলাকা নির্ধারিত স্থান বলে চিহ্নিত ও কয়েক দফায় সার্ভেয়াররা জরিপ করে সীমানায় লাল নিশান টানিয়ে দেন। এরপর গত বছর ৯ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয় মন্ত্রী আ. ক. মা. মোজ্জামেল হক এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এখন সার্ভয়ার বলছেন এখানে না-কি সরকারি সম্পত্তি নেই। আর উপজেলা সার্ভেয়ার ও কানুনগো মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণে নির্ধারিতস্থান জরিপকার্য না করে বারবার ফিরে যাচ্ছেন।

একাধিক সূত্র বলছে ভূমিদস্যুদের নিকট খেকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে জরিপকার্য না করে ফিরে যান উপজেলা সার্ভেয়ার ও কানুনগো। তবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দীর্ঘ সময় ডিসিআর বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে করেছেন? ’৮০-এর দশক থেকে প্রথমে কপোতাক্ষের ব্যাপক ভাঙন ও পরবর্তী পর্যায়ে নাব্যতা হ্রাসে কপিলমুনি সদরের কপোতাক্ষের তীর জুড়ে গড়ে ওঠে বিস্তীর্ণ চরভরাটি খাসজমি, যা সরকারের সর্বশেষ মানচিত্রে ১নম্বর খাস খতিয়ানের ৫৯৫ দাগে চিহ্নিত হয়। উক্ত দাগের পাশেই এস.এ ১৯৩খতিয়ানে ৪২৫, ৪২৬/৫৯৩ দাগে ক্রয়সূত্রে মালিক ননীবালা অধিকারী এবং এস.এ ১৯২ খতিয়ানে ভিপি “ক’’ তালিকাভূক্ত ০.৪৮ একর জমি। যা স্বগীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু তার সম্পদ ও সম্পত্তি ভাবী বংশধর দাবী না করতে পারে তার জন্য পাথর খোদায় করে লিখে বিনোদগঞ্জ বাজার অভ্যন্তরে তৎকালনি সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক বর্তমানে বণিক সমিতি অফিস সম্মূখ দেওয়ালে স্থাপন করে গেছেন। ডিসি মহাদয় যে দাগ (৫৯৫) ১নং খাস খতিয়ানে ডিসিআর প্রদান সহ উপজেলা সার্ভেয়ার দ্বারা জরিপ পূর্বক জমিতে লাল নিশান টানিয়ে দেন আবার একই জমি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কানুনগো ওখানে খাস সম্পত্তি নাই, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে সবুজ পতাকা টানিয়ে দেন।

তা হলে এত বছর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ডিসিআর দেওয়া হয়েছে? কপোতাক্ষের তীর জুড়ে গড়ে ওঠে বিস্তীর্ণ চরভরাটি খাসজমি উদ্ধার সহ দ্রুত কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন ধ্বংস হাত থেকে রক্ষা করতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং আগামী প্রজন্মে জন্য অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা করা হোক সচেতন এলাকাবাসীর দাবী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার বলেন, ওখানে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ার যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here