ঝিকরগাছায় নীতি বহিঃর্ভূত ব্রিজ অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

0
162
dav

সত্যপাঠ রিপোর্ট

ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ উপর নবনির্মিত ব্রিজ নির্মাণে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

যশোর নীলরতন ধর রোডস্থ কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে বুধবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ ব্রিজ নির্মাণ কাজ নিয়ে নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ বলেন,
সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঝিকরগাছা ব্রিজ নির্মাণ, কপোতারে নাব্যতা, নৌ-চলাচল ও চলমান সংস্কার পরিপন্থি। এর প্রতিবাদে আজকে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে শেষে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত কপোতাক্ষ অববাহিকায় গণসংযোগ ও ঐদিন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গৃহিত না হলে ১০ দিন পর ঝিকরগাছায় বৃহত্তর সমাবেশ করার ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ^াস। সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী) যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, ঝিকরগাছা সেবা সংগঠনের সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ জামান বাবু, মো. আ. রশিদ, আ. রহিম, কোটচাঁদপুরের শরিফুজ জামান আগা, চৌগাছার মো. আলাউদ্দিন, কেশবপুরের মো. মফিজুর রহমান নান্নু, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালি, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন, চিত্রা বাঁচাও আন্দোলনের মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, কপোতাক্ষ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি মাস্টার বিমল কুমার ঘোষ, মহেশপুরের আ. রহমান, জীবননগরের কাজী বদরুদ্দোজা, দর্শনার আকমত আলী, মণিরামপুরের মতলেব মালি, অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, কপোতাক্ষ নদ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান ও নদ সংস্কারের আন্দোলনে জনগণের পাশাপাশি আমরা এবং আপনারা (গণমাধ্যম) সব সময় জনগণের পাশে ছিলেন।

শুরুতে এই আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে বাঁকড়া কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, ঝাপা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অবঃ) শরিফুল ইসলাম, ঝাপার আকবর আলি মাস্টার, বাকড়া বেলেডাঙ্গার শামসুর রহমান, দিগদানার ডাক্তার আফিল ্্্্উদ্দিন, বাকড়ার আইয়ুব আলি, ঝাপার ইসমাইল হোসেন, চাকলার সামসুল হুদা, চৌগাছার প্রধান শিক্ষক (অবঃ) নূর আহম্মদ, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের মহেশপুর কমিটির সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মাষ্টার, কেশবপুরের বরনডালীর সোলাইমান শেখ, যশোর শহর সহায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল, মণিরামপুরের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান দুলু, মণিরামপুরের মশিয়ার রহমান, পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজামুদ্দিন তারা আজ আমাদের মধ্যে নেই। মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া যাদের নাম এখনও আমাদের জানা সম্ভব হয়নি এমন সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন সহ তাঁদেরকে স্মরণ করছি।

নেতবৃন্দ বলেন, আপনারা সকলে অবহিত আছেন ২০০০ সাল থেকে ৪/৫ বছর ঐ অববাহিকার দেড় শতাধিক গ্রামের ৬/৭ লক্ষ মানুষ দুর্বিসহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছিলেন। এই এলাকার হাটবাজার-স্কুল- কলেজ-বতসবাড়ি-রাস্তাঘাট-আবাদী জমি পানিতে ডুবে ছিল। সেই সময় বহু মানুষ নিছক বেঁচে থাকার তাগিদে এলাকা ছেড়ে দিতে এমন কি পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমন এক পরিস্থিতিতে এলাকার জনগণের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন। দলমত-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ দুর্বার আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনের চাপেই তৎকালীন সরকার ২০০৩ সালে প্রথমে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। এছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে সরকার সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে টিআরএম সহ নদ সংস্কারে ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। তার ফলাফল হিসেবে মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পান এবং এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে। তবে এ সকল কাজেও অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন হয়েছে। দুর্নীতি-লুটপাট না হলে নদের পরিস্থিতি আরও উন্নত হতো। বর্তমানে পাখিমারা বিলের টি.আর.এম বিপর্যয়ের মুখে। ফলে নদ পলি ভরাট হতে শুরু করেছে। ফলে মোহনা মুক্ত রাখার জন্য টি.আর.এম ও উজানের নদী সংযোগের কাজ যুগপৎ হতে হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার নদ সংস্কারের কাজ পূর্ণ করার জন্য কপোতাক্ষ ও আপার ভৈরবের জীবননগর পর্যন্ত আরও ১ শত ৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান এবং কয়েকটি অংশের টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। কাজটি হবে উজানে জীবননগর থেকে ভাটিতে খোড়দো পর্যন্ত।

এক্ষেত্রে যে বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকান্ডেও রয়েছে প্রচন্ড অনিয়ম এবং দুর্নীতি। সেসকল বিষয়েও প্রচার মাধ্যমে সাংবাদিক বন্ধুরা অব্যাহতভাবে রিপোর্ট করে যাচ্ছে। জীবননগর থেকে নদের মোহনা পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে ঠিক মাঝামাঝি স্থানে ঝিকরগাছা অবস্থিত। ফলে এখানে ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও উচ্চতার ব্যাত্যয় ঘটলে ও অন্যান্য ব্রিজ পুনর্বিন্নস্ত না হলে সংস্কার কাজের সাফল্য বানচাল হয়ে যাবে। একদম অপচয় হয়ে যাবে প্রায় হাজার কোটি টাকার উপরে। এই বিনিয়োগ অর্থহীন হয়ে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা আন্দোলনের শুরু থেকেই অপরিকল্পিত ব্রিজ অপসারণ দাবি করে এসেছি। পুনর্নিমাণের বিরোধিতা করে বলেছি নদীকে নৌ-চলাচল ও পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোথাও এলজিইডি, জেলা পরিষদ আবার কোথাওবা ইউনিয়ন পরিষদ নদী বেঁধে কালভার্ট বানিয়েছে। অপরদিকে ভূমি অফিসও দুর্নীতির মাধ্যমে নদের সম্পত্তি বেহাত করে দেবার জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে। এসকল কর্মকান্ড নদের উপর পাশবিক নির্যাতনের সামিল। যা ভেঙ্গে ফেলা ও নদী সম্পদ উদ্ধার ছাড়া নদ সংস্কার অর্থহীন হয়ে পড়বে। দুঃখজনক হলেও সত্য সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয়ে কোন সমন্বয় লক্ষ্য করা যায় না।

নদের উপর এ সকল কর্মকান্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ড রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করেছে। কোনো কথায় কর্ণপাত করেনি। সর্বশেষ ঝিকরগাছা ব্রিজ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। নীতিমালা মেনে না চলার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮০৫টি ব্রিজ ভাঙ্গা ও পুননির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুনরায় ব্যয় হবে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা। এদিকে যা ক্ষতি তা তো হয়েছেই।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী প্রবাহ ও নৌ-চলাচলের উপযোগী করার ক্ষেত্রে পদ্মা-মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে ভৈরবের সংযোগে সরকারি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া ভৈরব-কপোতাক্ষ সহ এ অঞ্চলের নদীগুলি সংস্কারে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এই জনপদের জীববৈচিত্র্য, নদী-পানি-পলি ব্যবস্থাপনা, সুন্দরবন রক্ষা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা নিরসনে ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। সে কাজে কোন ধরনের বাধা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও এই জনপদ ও অববাহিকার মানুষ দৃঢ় ও আপোষহীন ভূমিকা পালন করবে। আমরা সেই প্রত্যয় ঘোষণা করছি।

ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যম ঝিকরগাছা ব্রিজ নির্মাণের সেই অনিয়মের কথা সঠিকভাবে তুলে ধরেছে।

এদিকে, জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে বেনাপোল-যশোর সড়ক যা ইন্টারন্যাশনাল হাইওয়েও বটে। সে সড়কে কপোতাক্ষের উপরে ঝিকরগাছা ব্রিজ নির্মাণ উন্নয়নের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। সে সিদ্ধান্তকে জনপদের মানুষ আমরা অভিনন্দিত করেছি। আমাদের প্রশ্ন হলো সরকারের চলমান নদ সংস্কারের কাজে সরকারের আরেকটি অংশ কিভাবে বানচাল করে দিতে পারে ? সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা কোথা থেকে আসে ?

ব্রিজ নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হয়ে উঠলে দেখা গেল ব্রিজটি নির্মাণে সরকার নির্ধারিত প্রবাহমানতা ও নৌ-চলাচলের নীতি অনুসরণ না করে এমনভাবে করা হয়েছে যাতে নদ সংস্কারের উদ্দেশ্যই বানচাল হবে। শুধু তাই নয়- এই ব্রিজের উজানে জীবননগর পর্যন্ত বর্ষ্কালে জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং পদ্মা মাথাভাঙ্গার সাথে ভৈরবের নদ সংযোগের সুফল থেকে বিশাল জনপদ বঞ্চিত হবে। সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ নিশ্চিত করার স্বপ্ন ব্যাহত হবে।

ঝিকরগাছায় ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের আগে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনমত যাচাইয়ের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। তা প্রমাণিত অর্থাৎ স্থানীয় জনমত যাচাইয়ে করতে আমরা দেখিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার দপ্তর কোন রহস্যজনক কারণে তাদেরই চলমান প্রকল্পবিরোধী কর্মকান্ড হচ্ছে তা দেখেও না দেখার ভান করেছে, তিনি এ বিষয়ে আপত্তি না দিয়ে গণবিরোধী ভূমিকা পালন করেছেন। গত ২৯ জুলাই স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক জনাব মো: আশরাফ হোসেন স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে ব্রিজ পরিদর্শন করেন এবং মাপ দিয়ে দেখে তিনি তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কপোতাক্ষ নেভিগেশনভুক্ত নদী তালিকায় রয়েছে। নেভিগেশনের উপর আমরা কাজ করছি। নদীর উপর ব্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমোদন নিতে হয় তা নেওয়া হয়নি। ডিজাইনের ক্ষেত্রে চতুর্থস্তরের নির্ধারিত নীতিমালাও মানা হয়নি। তিনি যা দেখেছেন তা রিপোর্ট করবেন বলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে আশ্বস্ত করেন। স্থানীয় জনগণ তখনই মেপে দেখেন চতুর্থস্তরের ব্রিজের চেয়েও পানি থেকে এই ব্রিজের উচ্চতা ৯ ফিট কম।

আমরা আপনাদের কাছে নৌ-চলাচলের উপযোগী করার সরকারি তালিকা ও গেজেটের কপি হস্তান্তর করছি।

আমরা বিভিন্ন সূত্রে অবহিত হয়েছি যে, বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা ব্রিজ নির্মাণের নীতিমালা লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয় ও করণীয় সম্পর্কে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছেন এবং সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ব্রিজের একাংশের কাজ সম্পুর্ণ হয়েছে। অনুরূপ অপর অংশের কাজের তোড়জোড় চলছে। অপর অংশ নীতিমালা মেনে তৈরি করা সম্ভব ও নির্মিত অংশ নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্গঠন করা সম্ভব। সামগ্রিক স্বার্থে সে কাজটি করাই জরুরি।

আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, কপোতাক্ষ আমাদের প্রাণ। উন্নয়ন ও ব্রিজ আমরা চাই এবং তা প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করেই করতে হবে।

এমনি এক পরিস্থিতিতে সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নদের নাব্যতা ও নৌ-চলাচলের উপযোগী করে নদী সংস্কার কর্মসূচি সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ^াস জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এলক্ষ্যে আমরা নিমোক্ত দাবী উত্থাপন করা হয়।

দাবীগুলো মধ্যে রয়েছে- ১) নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্রিজের নির্মিত অংশ নাব্যতা ও নৌ-পরিবহণের উপযোগী করে পুনর্গঠন করতে হবে ও বাকি অনির্মিত অংশটি সেভাবেই নীতিমালা অনুযায়ী নির্মাণ করতে হবে। ২) নীতিমালা লঙ্ঘনের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচার ও পুননির্মাণের দায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। ৩) ৮০৫টি ব্রিজ নির্মাণে নীতিমালা লঙ্ঘন অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচার করতে হবে। ৪) কপোতাক্ষ নদ সংস্কার ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনে নদের উপর নির্মিত নীতিমালা পরিপন্থি ব্রিজ-কালভার্ট অপসারণ ও পূর্ণনির্মাণ করতে হবে। ৫) চলমান নদ সংস্কারের কাজ শুরু করার আগেই ডিজাইন অর্থাৎ প্রি-ওয়ার্ক ও পোষ্ট ওয়ার্ক জনসম্মুখে ঘোষণা করতে হবে। ৬) নদী সংস্কারের মাটি নদীতট (foreshore) নীতিমালা মেনে খননকৃত মাটি পাড়ের বাইরে রাখতে হবে। ৭) অবিলম্বে পাখিমারা বিলে টি.আর.এম চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, জমি-জোতের মালিকদের বকেয়া ক্ষতিপূরণ প্রদান করে মোহনা সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং উজানে নদী সংযোগের কাজ যুগপৎভাবে করতে হবে। ৮) সংস্কার কাজ তদারকিতে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here