বাঘারপাড়ার খদ্দর্বন গ্রামের এক বিশেষ বাহিনীর সদস্যের পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার

0
81

বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরের বাঘার পাড়া উপজেলার খর্দ্দবন গ্রামের একটি চক্র এক সেনা বাহিনীর সদস্যর সাথে ওই গ্রামের এক যুবতীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্রের এক পর্যায় পরিবারকে হুমকী ধামকী দিচ্ছে। সেনা বাহিনীর সদস্যর বৃদ্ধ পিতা এ অবস্থা থেকে ছেলে ও পরিবারকে রক্ষা করতে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের স্মরনাপন্ন হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খর্দ্দবন গ্রামের মৃত হানেফ বিশ^াসের ছেলে বৃদ্ধ শহিদুল ইসলাম (৬৭) গত ৭ আগষ্ট বাঘারপাড়া থানায় প্রতিবেশী আতিয়ার বিশ^াসের মেয়ে সোনিয়া খাতুন, মোজাহার বিশ্বাসের ছেলে আতিয়ার বিশ্বাস ও আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে মোস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রী করার জন্য আবেদন জানান। শহিদুল ইসলামের দায়ের করা আবেদন বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন গ্রহন পূর্বক উক্ত থানার একজন এসআইকে দিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

শহিদুল ইসলাম তার সাধারণ ডায়রীতে উল্লেখ করেন, তার বাড়ি ও বিবাদীদের বাড়ি একই এলাকায় বাড়ি ঘর হওয়ায় সোনিয়া খাতুন বাদির ছেলে সেনা বাহিনীর সদস্য আবু সাঈদ প্রায়ই সময় দেখা সাক্ষাত কথাবার্তা বলতো। কথা বার্তা বলার এক পর্যায় সোনিয়া খাতুন বাদির ছেলে আবু সাঈদকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে আবু সাঈদ রাজী না হইলে সোনিয়া খাতুনসহ তার পিতামাতা আবু সাঈদসহ বাদির পরিবারের লোকজনদেরকে হুমকী দিয়ে আসছিল।

গত ৬ আগষ্ট সন্ধ্যা অনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটের সময় উক্ত বিবাদীরা বাদির বসত বাড়ীর সামনে এসে বাদির পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিয়ে চলে যায়। উক্ত বিবাদীরাসহ তাদের লোকজন যে কোন সময়ে বাদিকেসহ তার পরিবারের লোকজনদেরকে মারপিট, খুন, জখম, মিথ্যা মামলাসহ বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বিষয়টি ডায়রীভূক্তকরার আবেদন জানান।

অপরদিকে, শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন জানান, বিবাদীদ্বয় শহিদুল ইসলামের ছেলে সেনা বাহিনীর সদস্য আবু সাঈদকে সোনিয়া খাতুনকে জোরপূর্বক বিয়ের জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শহিদুল ইসলামের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের লোকজন জানান, আবু সাঈদ ছুটিতে বাড়িতে আসার পর এই চক্রটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা সোনিয়া খাতুনকে নারী ঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখ করে বাঘারপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

৭ আগষ্ট সন্ধ্যারাতে সোনিয়া খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যাতে সোনিয়ার সাথে আবু সাঈদের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার ও বিভিন্ন মেসেজ রয়েছে এমন উল্লেখ করেন। এমনকি সেনা বাহিনীর সদস্য আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক পর্যায় সোনিয়া খাতুনকে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সোনিয়া খাতুনের বক্তব্য শুনে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ৮ আগষ্ট রোববার তদন্ত শুরু করেন।

বাঘারপাড়া থানা কর্তার নির্দেশে পুলিশের এক কর্তা তদন্ত করে সোনিয়া খাতুনের অভিযোগের সাথে বাস্তবের মিল না পাওয়ায় বাঘার পাড়া থানা পুলিশ সোনিয়া খাতুনের অভিযোগে হতবাক হয়ে পড়েন। তারা বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন থেকে পিছুপা নেন।

অপরদিকে, সেনা বাহিনীর সদস্য আবু সাঈদের পিতা বৃদ্ধ শহিদুল ইসলামের দায়ের করা সাধারণ ডায়রী তদন্ত পূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করলেও সোনিয়া খাতুন ও তার পরিবার শহিদুল ইসলামের পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকী ধামকী দিচ্ছে।

বাঘারপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দীনের সাথে সাংবাদিকের এ ব্যাপারে কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সেনা সদস্যর বিরুদ্ধে সেহেতু থানা পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে। সোনিয়ার পরিবার সেনা ইউনিটে অভিযোগ করেছেন হয়তোবা।

সোনিয়া খাতুন ও তার পরিবার কর্তৃক থানা পুলিশে অভিযোগের ব্যাপারে সেনা সদস্য আবু সাঈদের সাথে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি জানান, সোনিয়া খাতুন তাদের বাড়ির পাশের বাসিন্দা আতিয়ার বিশ^াসের মেয়ে বোনের মতো। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। মামুন নামে তার এক দুলাভাই আবু সাঈদের মোবাইল তার প্রয়োজনের কথা বলে নিয়ে মামুনের মোবাইল ফোনে ম্যাসেঞ্জার খুলে সোনিয়া খাতুনের নাম্বারে মেসেজ পাঠায় ভালবাসার।

আবু সাঈদ মোবাইলে মেসেজ দেখে দুলাভাই মামুনের সাথে মেয়েটির ব্যাপারে জানতে চাইলে মামুন তার পরিচিত এক শালি বলে জানান। সোনিয়া খাতুনের সাথে পরিচয় পাওয়ার পর আবু সাঈদ বোনের মতো ভালমন্দ কথা বার্তা ছাড়া অন্য কোন আলাপ করেনি। যা করেছে তাদের দুলা ভাই মামুন করেছে বলে আবু সাঈদ এ প্রতিবেদককে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here