যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সের উদ্যোগে ‘মৈত্রী হাট’র যাত্রা শুরু

0
67
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু

এস এইচ রুবেল

করোন ভাইরাসের মহামারীতে বাংলাদেশ সহ যশোর জেলার সর্বস্তরের মানুষ বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিক, মজুর, নিম্ন শ্রেণির মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। সেজন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের চাহিদাকে সামনে রেখে যশোরে ‘মৈত্রী হাট’ নামে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেজ ৭ দিনের জন্য (১ সপ্তাহ) বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্স যশোরের নেতৃবৃন্দ। রোববার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)র যশোর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা করেন।

আগামীকাল সোমবার থেকে যশোর ইন্সটিটিউটে চত্বরে যশোরের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্যে ২ হাজার ১শ’ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিক্রির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন ৩শ প্যাকেট করে মোট ১ সপ্তাহ (৭ দিন) এই হাটে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করা হবে। খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেজে থাকবে- ২ কেজি চাল, ১ কেজি আটা, আধা কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি সয়াবিন তেল, আধা কেজি লবন, ও ২ কেটি আলু। বর্তমানে বাজার মূল্য প্রায় ৩৩৫ টাকা। এই মৈত্রী হাট থেকে ক্রেতারা অর্ধেকেরও কম দাম অর্থাৎ ১৫০ টাকায় সেগুলো কিনতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, শহিদুল হক বাদল, শাহীন ইকবাল, রুহুল আমীন, সেখ তরিকুল ইসলাম তারু, শেখ আলাউদ্দিন, কামাল হাসান পলাশ, তৌহিদ জামান, সরোয়ার হোসেন, দিপঙ্কর বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, চন্দন বিশ্বাস, মঞ্জুরুল আলম, দীপ কামাল, শাহনেওয়াজ লেনিন, সানজিদা টুম্পা ও বৈশাখ।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির নানা কার্যক্রমের চিত্র ও তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা অতিমারীর এই সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে সামান্য একটু হাসি ফোঁটাতে ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল গঠন করা হয় মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটি। সমাজবদলের যোদ্ধা হিসেবে মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ছাত্রমৈত্রীর বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সংগঠনটি বিকশিত হয়। শুরুতে আমাদের সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা করেছি যশোরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কিছু অংশের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার।

২০২০ সালে শুরু হওয়া মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটি ২০২১ সালের মাঝামাঝি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে আরেকটু বড় পরিসরে কাজ করার জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কাজের সুবিধার্থে ও করোনা আক্রান্ত মানুষের (মুমূর্ষু) জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজন দেখা দেয় অক্সিজেন সেবার। সেকারণে আমাদের ুদ্র প্রচেষ্টা ছিল- সেইসব মানুষের, যাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের, আমরা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত যশোরসহ গোটা দেশ, এমনকী বাইরের দেশে আমাদের নেতাকর্মী, সুহৃদ, শুভানুধ্যায়ী, তাদের স্বজন-বন্ধুবান্ধব, সাধারণ মানুষও বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আপনাদের সহযোগিতায় মৈত্রী ভলান্টিয়ার্স এখন যশোর পেরিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রসারিত হয়েছে। দেশের বাইরে সমমনা বন্ধুদের উৎসাহ এবং বন্ধু, ভাই, স্বজনসহ সাধারণ মানুষের সহায়তায় আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবার পাশাপাশি নি¤œবিত্ত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, ওষুধ সহায়তা, নগদ অর্থ সহায়তা, টেলিমেডিসিন সেবা, করোনা প্রতিরোধে মাস্কসহ আনুষাঙ্গিক সেবা, করোনা টিকার জন্যে নাম নিবন্ধন সহায়তা করে আসছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন- মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির নতুন সংযোজন মৈত্রী হাট। আগামী সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত, যশোর ইন্সটিটিউটে যশোরের নি¤œ ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্যে ২১০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিক্রির আয়োজন করতে যাচ্ছি। এখান থেকে তারা ৫০ শতাংশের চেয়েও কম দামে খাদ্য সামগ্রীর একটি প্যাকেজ কিনতে পারবেন। প্রতিদিন ৩৩৫ প্যাকেট করে মোট ১ সপ্তাহ (৭ দিন) এই হাটে খাদ্য সামগ্রী কেনা যাবে। খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেজে পাবেন- ২ কেজি চাল, ১ কেজি আটা, ১/২ কেজি মসুর ডাল, সয়াবিন ১/২ লিটার, লবন ১/২ কেজি, আলু ১ কেজি। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩০ টাকা। এই হাটে ক্রেতারা অর্ধেকেরও কম দাম অর্থাৎ ১৫০ টাকায় সেগুলো কিনতে পারবেন।

মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির সেবা (২০২০ সাল) কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ৩৫০ জনকে (প্রতিজন ২০০০ টাকার প্যাকেজ) খাদ্য সহায়তা। ১২০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণ। টেলিমেডিসিন সেবা (২৫ জুন ২০২০ থেকে অদ্যাবধি সাবেক মৈত্রী নেতা ডা. অধ্যাপক হারুণ-অর রশিদের নেতৃত্বে ১০ জন চিকিৎসক)। ২৫০ জনকে ঈদ উপহার দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালে শীতে সুবিধাবঞ্চিত ২০০ মানুষকে কম্বল বিতরণ।

এছাড়া চলতি বছরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সের ব্যানারে (২০২১) কার্যক্রমের চিত্রও তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- গত ২৯ জুন মাত্র ২টি সিলিন্ডার দিয়ে যাত্রা শুরু করে সর্বশেষ ৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১২টি সিলিন্ডার সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে ৪৪৮ জন (৬ আগস্ট পর্যন্ত) ১১৩০ বার অক্সিজেন সেবা প্রদান করা হয়েছে। সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে ১০১৮ বার (খরচ প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা)। ৫০০ জনকে (১২০০ টাকার প্যাকেজ) খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রায় ১ লাখ টাকা ওষুধ ও নগদ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। ২ হাজার জন মানুষের মধ্যে কে.এন-৯৫ মাস্ক বিতরণ (করোনার সম্মুখসারির যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনকে) করা হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। টেলিমেডিসিনসেবা গ্রহণ করেছেন প্রায় ১৬শ’ রোগী। টিকার জন্য নাম রেজিস্ট্রেশন প্রায় ১০০০ জনের উপরে।

এদিকে, মৈত্রী ভলান্টিয়ার্স কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের নগদ অর্থ, সিলিন্ডার, মাস্কসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন প্রায় ২০২৮ জন। যার মধ্যে ২০২১ সালেই সহায়তা করেছেন ১৭২৮ জন (২০২০ সাল থেকে ২০২১ আগস্ট ৬ পর্যন্ত)। আমাদের ভলান্টিয়ার্স হিসেবে কাজ করছেন মোট ৩০ জন (৩ শিফট)। তাছাড়া প্রতিদিন খরচ (রিফিল, রিকশা, ফ্লু  মিটার, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার) প্রায় ৮-৯ হাজার টাকা।

মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটি সব সময় সাধারন মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যায় ব্যক্ত করেন এবং করোনার এই মহামারী সময়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here