উত্তরণের সহযোগিতায় স্থায়ীত্বশীল জীবিকা উন্নয়নে চলছে ছাগল পালন

0
62

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত যে সমস্ত পরিবার অন্য এলাকা থেকে স্থানান্তিরত হয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাঁকাল ইসলামপুর ২ ও ৩ নং কলোনীতে বসবাস করছে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ছাগল পালন করছে।

জিআইজেড (এওত) এর কারিগরী সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনিক ডেভেলপমেন্ট ও কোপারেশন (বিএমজেড) এর অর্থায়নে বে-সরকারী সংস্থা উত্তরণ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে টগওগঈঈ,টগগখ প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা পৌরসভা এবং সাতক্ষীরা সমাজসেবা অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ছাগল পালন বাস্তবায়ন করছে।

উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, প্রকল্পের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও বস্তির অন্যান্য দরিদ্র পরিবারের কল্যাণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রথম সুবিধাভোগী সরবরাহকৃত ছাগলের প্রথম মেয়ে শাবক (বাচ্চা) কে প্রকল্প এলাকার অন্য দরিদ্র পরিবারের নিকট হস্তান্তর (হেইপার পদ্ধতি) করতে সম্মত থাকবে বিধান রেখে প্রাথমিকভাবে ৫৯টি পরিবারে ১১৮টি ছাগল বিতরনের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এরমধ্যে ৫৭ জন উপকারভোগীকে ২টা করে ১১৪ টা ব্লাকবেঙ্গল ছাগী এবং ২জন উপকারভোগীকে ২টা করে ৪টা ব্লাকবেঙ্গল বাক (পাঠা ছাগল) প্রদান করা হয়।

হেইপারনিয়ম এবং শর্ত অনুযায়ী প্রাথমিক উপকারভোগীরা বাঁকাল ইসলামপুর ২ ও ৩নং এলাকায় নতুন ১১৪ জন উপকারভোগীকে ১টি করে ১১৪ টি ছাগী (প্রথম মেয়ে শাবক) প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে যারমধ্যে ৩৯ জন নতুন (হেইপার) উপকারভোগীকে ইতিমধ্যে ৩৯টা ছাগী প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ৯৮ জন এবং মোট ছাগলের সংখ্যা ২৭০ টি।

এছাড়া বাকি ৭৫ জন হেইপার উপকারভোগীকে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী ছাগী প্রদান করা হবে। প্রত্যেক প্রাথমিক উপকারভোগীকে ছাগল পালন করার জন্য ১টি করে উন্নতমানের ছাগলের শেড,নেপিয়ার ঘাস,নেট,এবং ছাগল পালনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের আওতায় সকল উপকারভোগীদের দানাদার খাবার, ভিটামিন,উঁকুননাশক,কৃমিনাশক,ভ্যাকসিনেশন সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া সকল উপকারভোগী যাতে সরাসরি ছাগল পালনের বিষয়ে প্রয়জনীয় পরামর্শ নিতে পারে তার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের উপকারভোগীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ছাগল লালন-পালন করছে এবং ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কোভিড এরমধ্যেও কিছু কিছু উপকারভোগী ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে ছোট ছোট আয়বর্ধণমূলক কাজের মাধ্যমে তাদের জীবন জীবীকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছ্।ে এছাড়াও অন্যান্য প্রাইমারী উপকারভোগী এবং হেইপার উপকারভোগী ছাগল পালনের মাধ্যমে তাদের জীবন জীবীকার পরিবর্তন করার এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কিন্তু বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করায় উপকারভোগীদের দৈনিক আয়ের পরিমাণ অনেকটা কমে যাওয়ায় তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলছিল তখনই জি,আই,জেড সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদের স্বপ্ন যাতে ভঙ্গ না হয় এবং আয়বর্ধনমূলক কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য ১৭৫ জন উপকারভোগীকে/উপকারভোগির পরিবারকে জরুরী সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক উপকারভোগীকে প্রতি কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা করে ৪ কিস্তিতে ১২ হাজার টাকা করে মোট ২১ লক্ষ টাকা ডিজিটাল মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে মাল্টিপারপাস ক্যাশ অনুদান (গচঈএ) প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে ১৭৫ জন উপকারভোগীকে প্রতি কিস্তিতে ৩ হাজার টাকা ৩ কিস্তিতে ৯ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জি,আই,জেড বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেছেন এবং বাকি ১কিস্তির টাকা চলতি (জুলাই) মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

এই প্রকল্পের উপকারভোগি শিরিনা পারভীন, সফুরন বেগমসহ অনেকেই জানান, তাদের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য লোকজন ছাগল পালন করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ছাগল পালনে তাদের জীবন জীবীকার পরিবর্তন করতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হচ্ছে। উত্তরণ তাদেরকে একটি করে ছাগী প্রদান করেন। উক্ত ছাগী পালন করার জন্য উত্তরণের পক্ষ থেকে তাদেরকে ১টি করে উন্নতমানের ছাগলের শেড,নেপিয়ার ঘাস,নেট এবং ছাগল পালনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া তাদেরকে দানাদার খাবার, ভিটামিন,উঁকুননাশক,কৃমিনাশক,ভ্যাকসিনেশন সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তাদেরকে পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে বলেও জানান তারা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শহীদুল ইসলাম জানান, ছাগল পালন একটি লাভজনক পেশা। তাদের দপ্তর থেকে ছাগল পালণকারীদের নিয়মিত পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান ও উপকরণ বিতরণ করা হয়ে থাকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here