শনিবার থেকে সারাদেশে দেয়া হবে ৩২ লাখ টিকা

0
39

সত্যপাঠ ডেস্ক

দেশে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সপ্তাহব্যাপী করোনার টিকাদান কর্মসূচি। প্রথম দিন প্রায় ৩২ লাখ টিকা দেওয়ার ল্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে সপ্তাহে দুদিন নিয়মিত টিকাদান ঠিক রাখা হবে। এর বাইরে তিন দিন করোনার টিকা দেওয়া হবে।

টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অনলাইনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

টিকা দিতে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষন  দেওয়া হয়েছে। আবার কোন পর্যায়ে কয়টি করে টিকাকেন্দ্র হবে, কোথায় টিকাকেন্দ্রগুলো করা হবে, তা-ও ঠিক হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক বলেন, একেক দিন প্রায় ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ জনকে টিকা দেওয়ার ল্য ঠিক করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন এ রকম পরিমাণ টিকাই দেওয়া হবে। সারা দেশে ৮১ হাজার ১৬৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

কয়েক দিন ধরে দিনে তিন লাখের মতো করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দিতে কেন্দ্র থাকবে প্রায় ১৪ হাজার।

এর আগে গত ১ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক অনুষ্ঠানে জানান, ৭ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে সরকার এক কোটি টিকা দিতে চায়। সরকারের হাতে এখন প্রায় সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটির মতো টিকা এ মাসের মধ্যেই আসবে।

বাংলাদেশে প্রথম করোনার টিকা আসে গত ২১ জানুয়ারি। এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হয়। ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের টিকা কার্যক্রম গতি হারিয়েছিল। তবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান থেকে টিকা আসায় এ কার্যক্রম আবার গতি পেয়েছে।

এ পর্যন্ত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপান মিলিয়ে মোট টিকা এসেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০টি। এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯ হাজার ৯৫৩ জনকে। আর দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ১৩১ জনকে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার ল্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এতে প্রয়োজন হবে প্রায় ২৬ কোটি টিকা।

কোথায় কত কেন্দ্র

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে দিনে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে টিকাকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। সেখানে তিনটি বুথ থাকবে। পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে।

এর আগে গত ২৮ জুলাই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিকল্পনার নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, টিকাদানকেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। শেষ টিকা দেওয়ার পর টিকাদান দল এক ঘণ্টা কেন্দ্রে অবস্থান করবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারীদের টিকা দেওয়া হবে। এর পরে এলেও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

টিকা দেওয়ার আগে গ্রহীতাদের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হবে। নিবন্ধনের পর গ্রহীতাদের টিকা কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ড দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার দিন অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। টিকাকর্মীরা টিকাদানের পর অনলাইন নিবন্ধনসহ টিকার তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন। সব তথ্য দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার আগেই হালনাগাদ করতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা পরিস্থিতি ১৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে চলছে বিধিনিষেধ। তবে সরকার মাস্ক পরা ও টিকাদানে গুরুত্ব দিয়ে ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায়। খুলে দিতে চায় গণপরিবহন, অফিস, আদালত ও বিপণিবিতান। এমন সময়েই শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here